প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রথম শিকার চীনের উহান শহর। এখান থেকেই সংক্রমণ শুরু হয়ে তা এখন গোটা বিশ্বে ছড়িয়েছে। শুরুতে উহানে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে আক্রান্ত ও মৃত্যু। এক পর্যায়ে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয় হুবেই প্রদেশের শহরটি। এমন পরিস্থিতিতে ঘরবন্দি উহানবাসীর জন্য রাস্তায় নেমেছিলেন কয়েকজন সাহসী স্বেচ্ছাসেবী। জীবন বাজি রেখে তারা ছুটে বেড়ান করোনা রোগীদের ওষুধ সরবরাহসহ জরুরি প্রয়োজনে। তাদেরই একজন লিন ওয়েনহুয়া। করোনা সংকটে ৩৮ বছর বয়সী এই চলচ্চিত্র নির্মাতা মানবসেবায় নিজেকে অকাতরে বিলিয়েছেন। রয়টার্স বলছে, করোনা প্রাদুর্ভাবে উহান লকডাউন করা হয়। রাস্তাঘাট, দোকানপাট সব বন্ধ। দেশ এমনকি বিশ্ব থেকেই বিচ্ছিন্ন করা হয় শহরটি। এমন পরিস্থিতিতে গাড়ি নিয়ে ফাঁকা রাস্তায় নেমে পড়েন লিন। প্রতিদিন শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে মানুষের সেবায় কাটান।
স্বেচ্ছাসেবী হওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, জানুয়ারির শেষদিকে পুরো শহর মহামারী ঝুঁকির মুখে। অন্যান্য শহর থেকে বিচ্ছিন্ন উহান। অসুস্থরা তাদের প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনতে পারছিলেন না। হঠাৎ করেই খবর আসে এইডস রোগের ওষুধ কালেট্রা করোনাতেও বেশ কার্যকর। কিন্তু লকডাউনের ফলে মানুষ সেটি সংগ্রহ করতে পারছেন না। তখনই সিদ্ধান্ত নিলাম, ঘরে ঘরে ওষুধটি পৌঁছে দেব। এভাবেই লিনের স্বেচ্ছাসেবী হয়ে ওঠা।
স্বেচ্ছাসেবকের কাজে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার গাড়ি চালিয়েছেন লিন, ‘আমার মতো অনেক স্বেচ্ছাসেবী আছেন, যারা আমার চেয়েও বেশি পথ গাড়ি চালিয়েছেন। বেশি এলাকা ঘুরেছেন। আমরা মূলত চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত মহান চিকিৎসকদের ডাকে বেশি সাড়া দিয়েছি। বিভিন্ন হাসপাতালে তাদের পৌঁছে দিয়েছি। কারণ ওই সময়ে তারাই আমাদের জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন। আমাদের জীবনরক্ষায় তাদের সহযোগিতা ও সেবা প্রদান অনেক জরুরি ছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘করোনায় আক্রান্তরাও আমাকে ডেকেছিল। প্রথম প্রথম তাদের কাছে যেতে ভয় করত। ভাবতাম, সংক্রমিত হতে পারি। কিন্তু পরক্ষণেই ভাবতাম আমার সরবরাহ করা একটি ওষুধে হয়তো তার জীবনটা রক্ষা পাবে। ঠিক তখনই মনে সাহস সঞ্চয় করতাম। তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে ছুটে যেতাম।’
