করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে রাজধানী টোকিওসহ ৭টি অঞ্চলে আগামী ৬ মে পর্যন্ত জরুরি অবস্থা জারি করেছে জাপান সরকার। গতকাল মঙ্গলবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে এ ঘোষণা দেন। পাশাপাশি এই সময়ে দেশের অর্থনীতির ক্ষতি পুষিয়ে নিতে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন (৯৯০ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করেছেন তিনি। বিবিসির একপ্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় জাপানে কম আক্রান্ত হলেও অধিক সতর্কতার অংশ হিসেবে জরুরি অবস্থা জারি করেছে সরকার। রাজধানী টোকিওতে হঠাৎ করে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জাপানের সংবাদমাধ্যম এনএইচকে বলছে, জরুরি অবস্থা জারি হওয়া সাতটি অঞ্চল হলো টোকিও, ওসাকা, চিবা, কানগাওয়া, হিয়োগো, সায়তামা ও ফুকোওয়াকা।
এক বিবৃতিতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি মানুষের জীবনকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করার আশঙ্কা করছি, তাই আমি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করছি। আগামী এক মাস এই জরুরি অবস্থা বলবৎ থাকবে। এ সময়ে স্কুল-কলেজ ও সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।
তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের উদ্ধৃতি দিয়ে অ্যাবে বলেন, পরিস্থিতি এখনো ওইরকম খারাপ হয়নি। বিদেশি নাগরিকরা আগের মতোই আমাদের সুনজরে থাকবেন। শহর থেকে তাদের বের করে দেওয়ার মতো অবস্থা এখনো আসেনি। তাই আপনারা জাপানে আপাতত নিরাপদ।
শিনজো অ্যাবে বলেন, ‘অর্থনৈতিক প্যাকেজের অংশ হিসেবে সরকার সরাসরি নগদ অর্থ প্রদানের জন্য ১০৮ ট্রিলিয়ন ইয়েন প্রণোদনার প্রস্তাব করেছে। জরুরি অবস্থা জারি করা অঞ্চলগুলোর গভর্নররা আরও শক্তিশালী প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিতে আইনি সমর্থন পাবেন বলেও এ সময় জানান জাপানের প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে গত সোমবার টোকিও মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন রাজধানী শহরটিতে মেডিকেল জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে।
যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি জানিয়েছে, ইতিমধ্যে দেশটিতে প্রায় চার হাজার মানুষ করোনাভাইরাসের সংক্রমণের শিকার হয়েছেন। আর আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৯২ জনের।
