করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে মানুষের পাশাপাশি কথা বলতে না পারা প্রাণী গুলো সব থেকে বেশি বিপাকে পড়েছে। বাসা-বাড়ি, দোকান-পাট বন্ধ থাকার কারণে প্রাণীগুলো পড়েছে খাদ্য সংকটে। তবে কেউ কেউ এই সংকট মুহূর্তে ব্যক্তি উদ্যোগে রাস্তার এই অভুক্ত প্রাণীগুলোকে খাবার সরবরাহে এগিয়েও এসেছেন।
দেশ রূপান্তরে এ রমকই একটি সংবাদ প্রকাশিত হয় দিনাজপুরের কুকুরকে খাওয়ানো নিয়ে। এতে বলা হয়- দিনাজপুর শহরের কালিতলা পোস্ট অফিস এলাকার আফসানা ইমু নামের এক নারী করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুটি চালিয়ে অভুক্ত কুকুরকে খিচুড়ি, বিস্কুট ও অন্যান্য খাবার সামগ্রী বিতরণ করছেন।
সংবাদটি নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর নজরে এলে তিনি অভুক্ত কুকুরগুলোকে খাওয়ানোর দায়িত্ব নেন।
এ বিষয়ে ইতিমধ্যে প্রতিমন্ত্রী দিনাজপুর নাগরিক উদ্যোগ ও দিনাজপুর সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সভাপতি আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে কথাও বলেছেন। কোথায় রান্না হবে, কীভাবে কুকুরগুলোকে খাওয়ানো হবে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী।
কুকুরকে স্বেচ্ছায় খাবার খাওয়ানো আফসানা ইমু বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে কুকুরকে খাওয়াই। এটা আমার ভালো লাগে। বর্তমান সময়ে কুকুরগুলো সবচেয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে। আমি কুকুরকে খাওয়াই এ রকম একটি সংবাদ প্রকাশ করে দেশ রূপান্তর। এই সংবাদটি দেখেই মাননীয় নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী অভুক্ত কুকুরগুলোকে খাওয়ানোর দায়িত্ব নিয়েছেন। মানুষের পাশাপাশি তিনি অন্য প্রাণীগুলোর প্রতিও এ রকম ভালোবাসা দেখিয়েছেন। এটা সবার মধ্যেই থাকা উচিত।
দিনাজপুর সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমার সঙ্গে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রীর কথা হয়েছে। তিনি যত দিন সম্ভব অভুক্ত কুকুরগুলোকে খাওয়ানোর দায়িত্ব নিয়েছেন। কুকুরগুলোকে খাওয়ানোর ব্যাপারে ইতিমধ্যে এক মাসের জন্য রান্নার হাঁড়িপাতিল আমরা রেডি করেছি। মানুষের পাশাপাশি তিনি অভুক্ত অবলা প্রাণীগুলোর প্রতি যে প্রেম দেখিয়েছেন এটা আমাদের সবার মধ্যেই থাকা উচিত বলে আমি মনে করি।
এ বিষয়ে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি দেশ রূপান্তরকে বলেন, একজন নারী এই সংকটময় মুহূর্তে কুকুরকে খাওয়াচ্ছেন দেখে আমার ভালো লেগেছে। আমরা মানুষরা না খেয়ে থাকলে বা খিদে লাগলে অন্যের কাছে চাইতে পারি কিন্তু কুকুরগুলো কারও কাছে চাইতে পারে না। আমরা এই করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবে যারা ক্ষতিগ্রস্ত তাদেরকে সাধ্যমতো খাদ্য সামগ্রী দিয়ে সহায়তা করছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন করোনাভাইরাস মোকাবিলায়। আমরাও মাঠে আছি। মানুষের পাশাপাশি অভুক্ত প্রাণীগুলোর দিকেও আমাদের সবারই তাকানোর দরকার। এই সংকটে আমাদের সবাইকে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সবার সচেতনতাই এখন উত্তরণের পথ হতে পারে।
