বরিসের করোনাভাইরাস ও ব্রিটিশদের ভবিষ্যৎ

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২০, ১১:৫১ পিএম

ব্রেক্সিট ইস্যুতে এমনিতেই টালমাটাল ব্রিটেন। এর সঙ্গে এখন যোগ হয়েছে কভিড-১৯ ভাইরাসের মারাত্মক সংক্রামণ। গবেষকরা বলছেন, মহামারীতে ইউরোপের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনও ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেখে নিয়েছেন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ। লিখেছেন পরাগ মাঝি

 বরিসের জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ

টুইটারে একটি ভিডিও বার্তায় ব্রিটিশদের নিজের মুখেই করোনাভাইরাসে সংক্রামিত হওয়ার খবরটি দিয়েছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। গত ২৭ মার্চে দেওয়া ওই ভিডিও বার্তায় জনসন জানান, তার শরীরে কভিড-১৯ ভাইরাসের সংক্রামণ শনাক্ত করা হয়েছে। এ সময় জ্বর ও নাছোড়বান্দা কাশির মতো কিছু উপসর্গ ছিল তার মধ্যে। ব্রিটিশ সরকারের প্রধান স্বাস্থ্য উপদেষ্টা প্রফেসর ক্রিস হুইটির পরামর্শেই তিনি কভিড-১৯ সংক্রামণের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।

সংক্রামিত হলেও দেশজুড়ে মহামারী তীব্র আকার ধারণ করায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেশ চাপের মধ্যেই ছিলেন বরিস জনসন। গত ৩০ মার্চ সংক্রামিত অবস্থায়ই মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে ভিডিও কলের মাধ্যমে যোগ দেন তিনি। যদিও ভিডিওতে তাকে বেশ অসুস্থ দেখাচ্ছিল এবং কিছুক্ষণ পরপরই কাশি দিচ্ছিলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী দপ্তরের এক সূত্র থেকে জানা যায়, অসুস্থ অবস্থায়ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে পারছেন না বরিস।

১ এপ্রিল ব্যক্তিগত আইসোলেশন থেকে আরেকটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকেই ৩ এপ্রিল প্রকাশিত আরেকটি বার্তায় তিনি দেশের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত অগ্রগতি জানানো ছাড়াও নাগরিকদের সরকারি বিধিনিষেধ মেনে চলার আহ্বান জানান। এও জানান, শরীরের তাপমাত্রা এখনো অব্যাহত থাকায় আইসোলেশন থেকে বের হতে পারছেন না তিনি।

কভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ১০ দিন পর ৬ এপ্রিল হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয় বরিস জনসনকে। এ সময় প্রচণ্ড শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন তিনি। এ অবস্থায় লন্ডনের সেন্ট থমাস হাসপাতালের আইসিউতে রাখা হয় তাকে এবং অক্সিজেন থেরাপি দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর জন্য ব্রিটিশদের শুভকামনা

প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার দেশের হাল ধরবেন এমনটিই প্রত্যাশা ব্রিটিশদের। তার সুস্থতা কামনায় ইতিমধ্যেই বেশ কিছু ইভেন্টে অংশ নিয়েছে যুক্তরাজ্যের মানুষ। গত ৭ এপ্রিল হাসপাতালের আইসিইউতে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা অবস্থায় দেশজুড়ে জনসনের সুস্থতা কামনায় এক ‘হাত-তালি’ পার্টির আয়োজন করা হয়। রাত ৮টায় এই পার্টি শুরু হয়। দেশটির কনজারভেটিভ দলের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ও সাবেক ব্রিটিশ বাণিজ্যমন্ত্রী আন্দ্রেয়া লিডসম এই ‘হাত-তালি’ পার্টির একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করার পর তা ভাইরাল হয়ে যায়। ফেইসবুকে ‘ক্ল্যাপ ফর বরিস’ নামে একটি ইভেন্টেরও আয়োজন করা হয়। প্রায় দেড় লাখ মানুষ এই ইভেন্টে সাড়া দেয়। টুইটারে হ্যাশট্যাগ ‘প্রে ফর বরিস’ লিখেও অনেকে তার সুস্থতা কামনা করেন। যুক্তরাজ্যের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে দেশটির চিকিৎসক ও নার্সরাও প্রধানমন্ত্রীর সুস্থতা কামনা করেন। দেশটির বিভিনড়ব অঞ্চলের মানুষ বাড়ির জানালায় ‘শিগগির সুস্থ হয়ে ওঠো বরিস’ লেখা প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে রাখতেও দেখা গেছে। বার্মিংহামের কাছাকাছি সোলিহাল হাসপাতালের কর্মকর্তা- কর্মচারীরাও ‘শিগগির সেরে উঠুন’ লেখা একটি প্ল্যাকার্ডসহ ছবি তোলে তা টুইটারে পোস্ট করেন।

এ ছাড়া ব্রিটিশ রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের পক্ষ থেকে করোনাভাইরাসের কবল থেকে বরিসের সুস্থতা কামনায় বার্তা প্রকাশ করা হয়েছে। বরিসের পরিবার ও বান্ধবী ক্যারি সিমন্ডসের কাছে পাঠানো একটি চিঠিতে বরিস খুব দ্রুততার সঙ্গেই সেরে উঠবেন বলে আশা প্রকাশ করেন এলিজাবেথ। তিনি নিয়মিত বরিসের স্বাস্থ্যের খোঁজ রাখছেন। ব্রিটিশ রাজপরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য প্রিন্স উইলিয়ামও এক বার্তায় বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের জন্য আমাদের শুভকামনা রইল। যুক্তরাজ্যসহ পৃথিবীর বিভিনড়ব দেশের অসংখ্য মানুষের মতো তিনিও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আমরা আশা করি, শিগগির তিনি সেরে উঠবেন।’

অন্যদের মধ্যে ক্যান্টাবুরির আর্চবিশপ জাস্টিন ওয়েলবি প্রধানমন্ত্রীর সুস্থতা কামনায় আয়োজিত একটি প্রার্থনা সভায় তার সঙ্গে অংশ নিতে সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানান।

বরিসের অসুস্থতায় ব্রিটিশ মুসলিম কাউন্সিলের কর্মকর্তা হারুন খান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও তার ভালোবাসার মানুষের জন্য আমাদের শুভকামনা রইল।

বরিসকে শুভকামনা জানানো মানুষের মধ্যে অনেক বড় তারকাও ছিলেন। এর মধ্যে লেখিকা জে কে রাউলিং এক বার্তায় বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে এটি এক ভয়ানক খবর। তার জন্য শুভকামনা রইল। ভয়ংকর এই ভাইরাসটি কোনো বৈষম্য মানছে না। সবাইকেই আক্রান্ত করছে।’ অভিনেতা হাগ গ্র্যান্ট বলেন, ‘আমি তার অন্ধ সমর্থক নই। তবু এ রাতে তার সেরে ওঠার প্রার্থনা করছি।’ একই ধরনের শুভকামনা জানান ব্রিটিশ অভিনেত্রী জোয়ান কলিন্সও। টেলিভিশন উপস্থাপিকা ক্রিস্টি অ্যালসপ টুইটারে লেখেন, ‘বরিস একজন যোদ্ধা। এই যুদ্ধেও তিনি জয়ী হবেন।’ লন্ডনের মেয়র সাদিক খানও বরিসের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বিবৃতি দেন। বিবৃতি দেন বিরোধীদলীয় রাজনীতিবিদরাও। বিরোধীদল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন এক টুইট বার্তায় জাতীয় স্বাস্থ্য সংস্থাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আজ রাতে প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের জন্য আমার শুভকামনা রইল।’ লেবার এমপি রোজেনা এলিন খান এক পোস্টে লেখেন, ‘আমি আশা করি প্রধানমন্ত্রী দ্রুততার সঙ্গেই সেরে উঠবেন। জাতীয় স্বাস্থ্য সংস্থাকে ধন্যবাদ, তারা প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্য মানুষকে সুস্থ করে তুলতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।’ তিনি আরও লেখেন, ‘করোনাভাইরাস যে কাউকে সংμমিত করতে পারে। আর এর উপসর্গগুলো ভয়ংকর হতে পারে। তাই দয়া করে পরিবার ও বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে ঘরের ভেতর অবস্থান করুন।’

৫৫ বছর বয়সী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে যখন লন্ডনের সেন্ট থমাস হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়, তখন তার শ্বাসকষ্ট তীব্র আকার ধারণ করেছিল। এর আগে মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই শারীরিকভাবে প্রচণ্ড বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। তবে, অক্সিজেন থেরাপির ফলে তার অবস্থা ধীরে ধীরে উনড়বতি করতে শুরু করে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে এক বিবৃতিতে তার শারীরিক পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে জানানো হয়, তার অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং চিকিৎসায় তার শরীর যথেষ্ট সাড়া দিয়েছে। এমনকি তার মুখ থেকে ভেন্টিলেটরও খুলে নেওয়া হয়েছে। তবে, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা মত দিয়েছেন, আরও অন্তত এক থেকে দুই মাস রাষ্ট্রীয় কোনো কাজে তিনি সরাসরি অংশ নিতে পারবেন না। এমনকি এ সময়ের মধ্যে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেলেও না।

ট্রলও কম হয়নি

একদিকে যেমন অসংখ্য ব্রিটিশ বরিসের সুস্থতা কামনা করছেন, অন্যদিকে তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ করা মানুষের সংখ্যাও কম নয়। প্রধানমন্ত্রীর অসুস্থতা নিয়ে অনেকে হাস্যরসেও মেতে উঠেছেন। প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করার জন্য একজন মেয়রকে দল থেকে বহিষ্কারও করেছে বিরোধী দল লেবার পার্টি। ডার্বিশায়ারের অন্তর্ভুক্ত হেনোর শহরের ওই মেয়রের নাম শেইলা ওয়াকস। প্রধানমন্ত্রীর অসুস্থতা ও আইসিইউতে ভর্তি থাকার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এক পোস্টে শেইলা লেখেন, ‘করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আইসিইউয়ে ভর্তি হওয়া বরিস জনসনের প্রাপ্য ছিল।’ শেইলা এও লেখেন, তার দেখা প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে বরিসই সবচেয়ে বাজে।

প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে বাজে মন্তব্য করার জন্য নিজ দলের রাজনীতিবিদকে দল থেকে বহিষ্কার করে নজির সৃষ্টি করেছে লেবার পার্টি। শেইলা ওয়াকস তার মন্তব্যের বিষয়ে পরে ক্ষমা চাইলেও তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত এখনো বহাল রয়েছে। ফলে পরবর্তী নির্বাচনের আগ পর্যন্ত শেইলা মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারলেও বর্তমানে তিনি কোনো দলভুক্ত নন, বরং স্বতন্ত্র রাজনীতিবিদ। লেবার পার্টির একটি আঞ্চলিক অফিস থেকে ঘোষণা করা হয় ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে শেইলা ওয়াকসের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এই বক্তব্যের দায়ভার একান্তই তার নিজের।’ আরও বলা হয়, ‘আমরা আশা করছি, প্রধানমন্ত্রীসহ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সবাই শিগগির সেরে উঠবেন। আক্রান্ত সবাই এবং তাদের পরিবারের জন্য ভালোবাসা ও সহমর্মিতা রইল।’

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করে দল থেকে বহিষ্কার হলেও যুক্তরাজ্যের অসংখ্য সাধারণ মানুষ তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন। ব্রিটিশ র‌্যাপার স্টর্মজি এক পোস্টে লেখেন, ‘বরিসের ১২টা বাজিয়ে করোনা তুমি এবার বিশ্রামে যাও।’ অনেকেই স্টর্মজির এই পোস্টকে উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রী অমঙ্গল কামনা করেছেন। শুধু তা-ই নয়, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বরিস জনসন মৃত্যুবরণ করলে অনেকেই পার্টি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এমনকি অনেকে ঈশ্বরের কাছেও প্রার্থনা করেছেন বরিস যেন তিনি আর মর্ত্যে ফিরে আসতে না পারেন।

তবে, প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে সাধারণ মানুষের নেতিবাচক মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ব্রিটিশ ব্রডকাস্টার পিয়ার্স মরগ্যান। টুডে’জ গুডমর্নিং ব্রিটেনের এই উপস্থাপক বলেন, ‘সেই সব ব্যক্তি, যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে ইতিবাচক হতে পারছেন না, যারা তার অমঙ্গল প্রার্থনা করছেন এবং এ ধরনের মানসিকতাকে লালন করছেন, তারা চুপ হয়ে যান। কেউ এসব শুনতে চায় না। বরিস জনসন সম্পর্কে বাজে মন্তব্য করা কারও উচিত নয়। এ মুহূর্তে এসব বন্ধ করেন। এই মানুষটি আমাদের প্রধানমন্ত্রী এবং তিনি এখন জীবনের জন্য লড়ছেন।’

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে যুক্তরাজ্য

সম্প্রতি ব্রেক্সিট চুক্তি কার্যকর করা ব্রিটেন যখন দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছিল, ঠিক তখনই করোনাভাইরাসের মতো মারাত্মক মহামারী দেশটিতে আঘাত হানে। গত ৮ এপ্রিল পর্যন্ত সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দেশটিতে প্রায় ৫৫ হাজার ২৪২ জন মানুষের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রামণ শনাক্ত করা হয়েছে। আর এ সময়ের মধ্যে দেশটিতে এই ভাইরাসে আক্রান্ত প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৬ হাজার ১৫৯ জন। এই হিসাব অনুযায়ী, ইউরোপের অন্যান্য দেশের মধ্যে আক্রান্ত ও মৃত মানুষের পরিসংখ্যানে ব্রিটেনের চেয়েও খারাপ পরিস্থিতি এখন স্পেন ও ইতালিতে। তবে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন অন্য কথা। তাদের ভবিষ্যদ্বাণী হলো স্পেন ও ইতালির চেয়েও খারাপ পরিস্থিতি হতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্যে।

ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের এক দল গবেষক করোনাভাইরাসের বিস্তৃতি পর্যালোচনা করে একটি বিজ্ঞানভিত্তিক মডেল তৈরি করেছেন। এই মডেল অনুযায়ী, তারা আশঙ্কা করছেনÑ কভিড- ১৯ ভাইরাসটির প্রম ধাক্কায় শুধু ইউরোপ মহাদেশেই অন্তত ১ লাখ ৫১ হাজার ৬৮০ জন মানুষ প্রাণ হারাবে। আর জুলাই মাসের মধ্যে যুক্তরাজ্যে এই ভাইরাসে আμান্ত হয়ে মৃত মানুষের সংখ্যা দাঁড়াবে অন্তত ৬৬ হাজার ৩০০। মডেল অনুযায়ী, ইউরোপে মৃত্যুর ৪৪ শতাংশই ঘটবে যুক্তরাজ্যে। আর এই সংখ্যাটি ইতালিতে মৃত্যুবরণ করা মানুষের তিন গুণ হবে। অর্থাৎ মডেল অনুযায়ী, এ সময়ের মধ্যে ইতালিতে অন্তত ২০ হাজার মানুষের মৃত্যু হবে।

অন্যদিকে, জুলাই মাসের মধ্যে স্পেনে মৃত মানুষের সংখ্যা দাঁড়াতে পারে ১৯ হাজার এবং ফ্রান্সে দাঁড়াবে ১৫ হাজার। বিশেষজ্ঞ দলটি ধারণা করছে, করোনাভাইরাসকে মোকাবিলা করতে গিয়ে এপ্রিলের মাঝামাঝিতেই অন্তত এক লাখ রোগী শয্যার প্রয়োজন হবে যুক্তরাজ্যের। বর্তমানে দেশটিতে রোগী শয্যার এই সংখ্যাটি হলো মাত্র ১৭ হাজার ৭৬৫টি।

বিশেষজ্ঞের অভিমত মডেল অনুযায়ী, এপ্রিলের ১৭ তারিখের মধ্যে যুক্তরাজ্যে ১ লাখ ২ হাজার ৭৯৪ জন মানুষের জন্য হাসপাতালে বেডের প্রয়োজন পড়বে। আর এই সময়ের মধ্যে ২৪ হাজার ৫৪৪ জন মানুষের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের প্রয়োজন হবে। বর্তমানে দেশটিতে মাত্র ৭৪৪টি আইসিইউ বেড খালি রয়েছে।

মার্চের শুরু দিকেই ইউরোপের বিভিনড়ব দেশে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে নাগরিকদের ওপর বিধি আরোপ করলেও, এ ক্ষেত্রে বেশ পিছিয়ে ছিল যুক্তরাজ্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পিছিয়ে থাকারই মাশুল গুনতে হবে দেশটিতে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন নিজেও কভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আইসিইউয়ে থাকলেও দেরিতে সতর্ক হওয়ার জন্য অনেকেই তার সরকারের সমালোচনা করছেন। ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের গবেষকদের বিজ্ঞানভিত্তিক ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, এপ্রিলের ১৭ তারিখেই যুক্তরাজ্যে একদিনে মৃত্যুবরণ করা মানুষের সংখ্যা সর্বোচ্চ অবস্থানে থাকবে। এরপরই ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে। ইতালি ও স্পেনে ইতিমধ্যেই দৈনিক মৃত্যুবরণ করা মানুষের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত