হজ এজেন্সির ২০ হাজার কর্মচারী বেকার

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২০, ০৪:০৪ এএম

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের সংক্রমণের বিরূপ প্রভাবে দেশের বিভিনড়ব হজ এজেন্সির প্রায় ২০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী বেকার হয়ে পড়েছেন। সৌদি সরকার ওমরা বন্ধ করায় এবং আসনড়ব হজ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ায় এই সেক্টরটির প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ বিপুল অংকের আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে হাব নেতারা সরকারের কাছে বিশেষ অর্থনৈতিক প্রণোদনা চেয়েছেন। ইতিমধ্যেই হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েন অব বাংলাদেশের (হাব) পক্ষ থেকে হজ ও ওমরা এজেন্সিগুলোর হয়ে যাওয়া ক্ষতিপূরণের জন্য নগদ প্রণোদনা প্রদান, তাদের জন্য ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সুদমুক্ত ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণের ব্যবস্থা করা, ট্রাভেল এজেন্ট ও ট্যুর অপারেটদের জন্য নগদ প্রণোদনার ব্যবস্থা করা এবং প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ-১ এর আওতায় ট্রাভেল এজেন্ট ট্যুর অপারেটরদের জন্য ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণসহ চার দফার বিশেষ অর্থনৈতিক প্রণোদনা প্রস্তাব দাবি করে অর্থমন্ত্রীর কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। হাবের সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত ৯ এপ্রিল অর্থমন্ত্রীর কাছে আমরা চিঠি দিয়েছি। সেখানে হাব সদস্যদের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে। একইসঙ্গে পুনর্বাসনের জন্য যে সহায়তা দরকার তা উল্লেখ করা হয়েছে।’

চিঠিতে বলা হয়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সৌদি সরকার ওমরা বন্ধ ঘোষণার পর ১০ হাজার ওমরা যাত্রীর ভিসা, এয়ার টিকিটের মূল্য বাবদ ১০০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছিল। এছাড়াও আসনড়ব রমজান মাসে ওমরা হজে গমনকারীদের জন্য আরও ২৫ কোটি টাকা মূল্যের ৫ বাজার এয়ার টিকিট অগ্রিম কেনা হয়। এছাড়া কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মার্চ মাসের বেতন ও অন্যান্য অফিস খরচসহ প্রায় ৫০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। এ খাতে লোকসানের পরিমাণ ১৭৫ কোটি টাকা।

সম্ভাব্য ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, আগামী রমজান পর্যন্ত কমপক্ষে আরও ১ লাখ ওমরা যাত্রীর ওমরা করানোর জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। এক্ষেত্রে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা লেনদেন হতো। এছাড়াও এ বছর বেসরকারিভাবে ১ লাখ ২০ হাজার হজযাত্রী হজ পালনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। যদি কোনো কারণে চলতি বছর তারা হজে যেতে না পারেন তাহলে এ বাবদ ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষতির পরিমাণ হবে ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। তাছাড়া এ অর্থবছরের শেষ অর্থাৎ আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত হজ ও ওমরা হজ এজেন্সিগুলোর ওভারহেড খরচ যেমন অফিস ভাড়া ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি মাসে প্রায় ৫০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। ফলে অসংখ্য এজেন্সি সারা বছরের অফিস ভাড়া ও কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করার সক্ষমতা হারাবে। করেনাভাইরাসের কারণে এ সেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হলে আগামীতে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ২০ হাজার কর্মচারী এবং বাংলাদেশ ও সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশিসহ পরোক্ষভাবে জড়িত আরও ৫০ হাজার ব্যক্তির চাকরি হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

ট্রাভেল ট্যুরিজম সেক্টরের ক্ষতির কথা উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, সদস্যদের সবাই ট্রাভেল এজেন্ট, অনেকেই ট্যুর অপারেটর এবং পর্যটন শিল্পের অন্যান্য সেক্টরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তাদের অনেকেই এভিয়েশন, দেশি-বিদেশি ট্যুরিজম, হোটেল রিসোর্ট ব্যবসা ও টুরিস্ট ট্রান্সপোর্টেশন ইত্যাদি ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। হাবের অনেক সদস্যের এখানেও ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়েছে। এই সেক্টরগুলোতেও অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরি হারানোর আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রীর কাছে দেওয়া চিঠিতে হাব সদস্যরা হজ, ওমরা ও ট্রাভেল এজেন্সির অপারেটরসহ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য এবং এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক সুবিধা প্রদানের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত