যে কারণে বিক্ষোভ করছেন পাকিস্তানের চিকিৎসকরা

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২০, ০৭:১০ পিএম

গত মাসের শুরু থেকে পাকিস্তানে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে পিপিইসহ চিকিৎসকদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম সংকটের বিষয়টি সামনে আসে। এ কারণে বিক্ষোভ করায় পুলিশের নির্যাতনের শিকারও হতে হয়েছে চিকিৎসকদের।

এ পরিস্থিতিতে টুইটারে ছড়িয়ে পড়া পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ডক্টর আরিফ আলভির ব্যয়বহুল এন-৯৫ মাস্ক পরা একটি ছবি সরকার ও করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সম্মুখভাগে থাকা সেনাদের মধ্যকার উত্তেজনা আরও উসকে দিয়েছে।

পাকিস্তান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (পিএমএ) এক বিবৃতিতে জানায়, বিভিন্ন মিটিং এবং পরিদর্শনে রাজনীতিবিদ ও আমলাদের এন-৯৫ মাস্ক পরতে দেখা গেলেও এই ধরনের মাস্ক এবং পিপিই পেতে হিমশিম খাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।

তবে, এ ঘটনায় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ডক্টর আলভি ব্যাখ্যা করে বলেছেন, মাস্কটি সম্প্রতি চীনে সফর করার সময় তাকে উপহার দেয়া হয়েছিল এবং তারপর থেকে ওই একটি মাস্কই তিনি ব্যবহার করেছেন। বর্তমানে তিনি সাধারণ একটা মাস্ক ব্যবহার করছেন বলেও জানান।

পাকিস্তানে আনুমানিক ২ লাখের মতো চিকিৎসক রয়েছে। গত বছরের শেষদিকে সরকার চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিতদের শীর্ষস্থানীয় সংস্থা পাকিস্তান মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (পিএমডিসি) বন্ধ করে দেয়। এর মাস ছয়েক পরই দেশটিতে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়।

সরকারের ওই সিদ্ধান্তের ফলে ১৫ হাজার নতুন মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট তাদের সনদপত্র পাননি আর প্রায় ৩০ হাজার চিকিৎসক তাদের পাঁচ বছরের রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ নবায়ন করতে পারছেন না। রেজিস্ট্রেশন নবায়ন না করতে পারলে তারা দেশে এবং দেশের বাইরে আইনত চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারবেন না।

এসব বিষয় নিয়ে পাকিস্তানের চিকিৎসকদের মধ্যে এমনিই ক্ষোভ বিরাজ করেছিল, তার ওপর সুরক্ষা উপকরণের ঘাটতি থাকার বিষয়টি সামনে আসার পর পুরো দেশজুড়ে চিকিৎসকরা বিভিন্ন মাত্রায় বিক্ষোভ এবং আন্দোলন শুরু করেন।

তবে রাজনৈতিকভাবে উপেক্ষিত ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত বেলুচিস্তান প্রদেশের রাজধানী কোয়েটায় চিকিৎসকদের এই বিক্ষোভ সহিংস হয়ে ওঠে।  

ফেব্রুয়ারি ও মার্চে ইরান থেকে আসা হাজার হাজার তীর্থযাত্রীদের মাধ্যমে বেলুচিস্তানে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হয়, যা ছিল পাকিস্তানের প্রথম করোনা সংক্রমণের ঘটনা।

ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পরপরই তাফতান সীমান্ত অঞ্চলে কোয়ারেন্টিন ক্যাম্প স্থাপন করা হয়, কিন্তু ওই ব্যবস্থা ‘অপ্রতুল এবং অপেশাদার’ ছিল বলে সমালোচনা করেন বেলুচিস্তানের তরুণ ডাক্তারদের সংগঠনের প্রেসিডেন্ট ইয়াসির খান।

তিনি বলেন, ক্যাম্পে মানুষকে গাদাগাদি করে রাখা হয়, তার কারণে যাদের মধ্যে সংক্রমণ ছিল না তারাও সংক্রমিত হয়েছে।

এরপর চিকিৎসকরা সুরক্ষা উপকরণের দাবি জানালে কেন্দ্রীয় সরকার এন-৯৫ মাস্কের ব্যবস্থা করে। কিন্তু পরে দেখা যায় মাস্কগুলো আসলে কে-৯৫ মাস্ক, যেগুলো বিউটি পারলারে চুল কাটার সময় ব্যবহার করেন।

এখন পর্যন্ত কোয়েটায় অন্তত ১৭ জন চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীর মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তার চেয়েও ভয়ের বিষয় হলো, ডাক্তার ইয়াসির খানের ভাষ্যমতে কোয়েটার আক্রান্ত কোনো স্বাস্থ্যকর্মীই করোনাভাইরাস আক্রান্তদের চিকিৎসায় সরাসরি জড়িত ছিলেন না।

কোয়েটার তরুণ চিকিৎসকদের সংগঠন ওয়াইডিএ'র হিসেব অনুযায়ী বেলুচিস্তানেই একমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত প্রদেশ নয়। ওয়াইডিএ'র হিসেবে ১৬ জন চিকিৎসক এখন পর্যন্ত সংক্রমিত হয়েছেন এবং করাচি ও গিলজিত-বালতিস্তানে দুইজন চিকিৎসকও আক্রান্ত হয়েছেন।

গত বুধবার অস্থিরতা চরম পর্যায়ে পৌঁছায় যখন কোয়েটার সিভিল হাসপাতাল থেকে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে পদযাত্রা করে বিক্ষোভরত চিকিৎসকরা। অর্ধেক রাস্তায় পুলিশ তাদের থামায় এবং তাদের ছত্রভঙ্গ করার সময় চিকিৎসকদের লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। আহত হন অনেকে, গ্রেপ্তার করা হয় প্রায় ২৫ জনকে। পরে অবশ্য তাদের ছেড়ে দেয়া হয় এবং তারা ধর্মঘটও প্রত্যাহার করে নেয়।

তবে পিপিইর দাবিতে পাকিস্তানে চিকিৎসকদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। সরকার যদিও বলছে যে তাদের জন্য পিপিই পাঠানো হয়েছে, কিন্তু তা এখনো তাদের হাতে এসে পৌঁছায়নি। 

সূত্র: বিবিসি বাংলা অনলাইন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত