রাজশাহীতে বাজারে ঘেঁষাঘেঁষি

আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২০, ০১:৩৬ এএম

রাজশাহীতে করোনা প্রতিরোধে ঘরে থাকার সরকারি নির্দেশনা অনেকেই মানছেন না। জরুরি প্রয়োজনের অজুহাতে বাইরে এসে অলিগলিতে আড্ডা দিচ্ছেন, কাঁচাবাজারে ভিড় করছেন। শারীরিক দূরত্ব না মানায় জেলায় করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিনে শহরের রাস্তায় লোকজনের চলাচল কম দেখা গেলেও বাজারগুলো ভিড়ে ঠাসা। কাঁচাবাজারগুলো দেখে করোনার ভয়াবহতা বোঝার কোনো উপায় নেই। একে অন্যের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করে কেনাকাটা করছেন। শুধু শহরে নয়, গ্রামের বাজারগুলোতেও একই অবস্থা। প্রশাসন চেষ্টা করেও মানুষকে সচেতন করতে পারছে না। এ জন্য বাজারগুলোতে প্রতিদিন মাইকিংয়ের পরামর্শ দিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

করোনার কারণে রাজশাহীর জীবনযাত্রায় প্রতিনিয়ত পরিবর্তন স্পষ্ট হচ্ছে। রাজশাহীতে এখন চলছে অঘোষিত লকডাউন। এতে নগরী ও জেলার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে সেনাবাহিনী নামার পর রাজশাহীতে সচেতনতা বেড়েছে। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সেনাবাহিনী কঠোর অবস্থান নেওয়ায় রাস্তা-ঘাট ফাঁকা থাকছে; বিশেষ করে দুপুরের পর রাজশাহী নগরী জনশূন্য হয়ে পড়ছে।

তবে দুপুরের আগে কাঁচাবাজারগুলোতে উপেক্ষিত হচ্ছে শারীরিক দূরত্ব মানার নির্দেশনা। নগরীর সাহেববাজার কাঁচাবাজারে মানুষের আনাগোনা থাকছে বেশি। ক্রেতাদের চাপ সামলাতে বাজারের সামনে একটি দড়ি টানানো হয়েছে। সেনাবাহিনী অবস্থান নিয়ে এখন বাজার শেষ করামাত্র লোকজনকে বের করে দিচ্ছে। কিন্তু বাজারে ঢোকার পর মানুষ সচেতনতার বিষয়টি বেমালুম ভুলে যাচ্ছেন। গাদাগাদি করে সদাই করছেন। নগরীর শালবাগান ও উপশহর নিউমার্কেটের কাঁচাবাজারে গিয়েও এমন ঠেলাঠেলির চিত্রই মিলেছে।

এদিকে বিকেলের পর থেকে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক থাকছে ফাঁকা। যান চলাচল নেই বললেই চলে। একসময়ের জনবহুল সাহেববাজার দুপুর গড়ালেই জনশূন্য হয়ে পড়ছে। এ অবস্থা চলছে রাত পর্যন্ত। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর নগরীর অলিগুলি ছাড়া প্রধান রাস্তা-ঘাটে লোকজনের দেখা মিলছে না। একই অবস্থা বিরাজ করছে গ্রামাঞ্চলেও। সন্ধ্যার পর জনশূন্য হয়ে পড়ছে গ্রামীণ রাস্তাঘাট।

এ বিষয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘আমরা শারীরিক দূরত্ব মেনে চলার বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছি। প্রতিটি পয়েন্টে পুলিশ পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’ রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু আসলাম বলেন, ‘বড় রাস্তায় মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও অলিগলি সামাল দিতে বাড়তি বেগ পেতে হচ্ছে। এ জন্য প্রশাসন কঠোর হচ্ছে। সচেতনতায় বিভিন্ন পদক্ষেপের পাশাপাশি অবাধ্যদের জরিমানা করা হচ্ছে। আশা করছি, দ্রুতই এসব পদক্ষেপের সুফল পাব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত