কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে সন্ত্রাসী হামলায় জখমের কয়েক দিন পর মারা যাওয়া এক যুবককে করোনা আক্রান্ত হিসেবে প্রচার চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্বজনদের ভাষ্য, চাহিদা অনুযায়ী চাঁদা না পেয়ে গত ৩১ মার্চ মহিন উদ্দিন নামে ওই যুবককে পিটিয়ে জখম করেন মো. জাহিদ নামে এক ব্যক্তি। এর এক সপ্তাহ পর নিজ বাড়িতে শরীরে ব্যথার পাশাপাশি জ্বর, সর্দি ও কাশিতে ভুগতে থাকা মহিনের মৃত্যু হয়। আর হামলাকারী জাহিদকে বাঁচাতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে এমন প্রচারে স্থানীয় প্রশাসন মহিনের বাড়িটি লকডাউন করে দেয়।
চৌদ্দগ্রামের শুভপুর ইউনিয়নের কৈয়ারধারী গ্রামের বাসিন্দা মহিন উদ্দিনের স্ত্রী রুবিনা বেগম, মা মনকির বেগমসহ গ্রামটির একাধিক বাসিন্দা দেশ রূপান্তরকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে দীন ইসলাম নামে এক ঠিকাদারের অধীনে মহিন উদ্দিন ও আমিনুল ইসলাম রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। বেশ কিছুদিন ধরে পাশের কাদঘর গ্রামের বশির ঠিকাদারের ছেলে মো. জাহিদ তাদের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। একপর্যায়ে জাহিদ ১০ হাজার টাকা নেন বলে জানিয়েছেন আমিনুল। পরে আরও চাঁদার দাবিতে গত ৩১ মার্চ মোটরসাইকেল আরোহী মহিন ও আমিনুলকে আটক করেন জাহিদ। এ সময় মহিনের বুকে কিল-ঘুষি মেরে গুরুতর জখম করে তার (মহিন) মোটরসাইকেলটি রেখে দেন জাহিদ। কয়েক দিন পর টাকা পাবেন দাবি করে মহিনের বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রী রুবিনা বেগমকে হুমকি-ধামকি দেন জাহিদ। হামলার পর শরীরে ব্যথার পাশাপাশি জ¦র, সর্দি ও কাশিতে ভুগতে থাকেন মহিন। একপর্যায়ে ৮ এপ্রিল ভোরে তিনি মারা যান। এরপর হামলাকারী জাহিদকে বাঁচাতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মহিনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় একটি মহল উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করে। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন আতঙ্কের মধ্যেই মহিন উদ্দিনের নমুনা সংগ্রহ করে। আর প্রশাসনের কড়াকড়ি ও আতঙ্কে মানুষ কাছে না যাওয়ায় মহিনের পরিবারের সদস্যরা কেউ প্রকৃত ঘটনা খুলে বলতে পারেননি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুল মান্নানকে লকডাউনে থাকা মহিনের পরিবার ও বাড়ির লোকজনকে ত্রাণ-নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু মান্নান তাদের খোঁজ নেননি বলে জানিয়েছেন মহিনের পরিবারের সদস্যরা। এদিকে নমুনা সংগ্রহের পরদিন মহিন উদ্দিনের করোনাভাইরাস রিপোর্টে নেতিবাচক ফলাফল আসে।
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান বলেন, ‘মহিন কাদঘরে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। তার মোটরসাইকেলটি কোথায় তা কেউ জানে না।’
লকডাউন ঘোষণার পর ইউএনওর নির্দেশ সত্ত্বেও মহিনের পরিবারকে কোনো ত্রাণ দেওয়া হয়নি স্বীকার করে তিনি আরও বলেন, মহিন উদ্দিন মাদকসেবী ছিলেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মাহফুজ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
