শ্রমিক নেতাদের ‘আঁতাতে’ বন্ধ হচ্ছে না চা বাগান

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২০, ০৪:৩৭ পিএম

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য মৌলভীবাজার জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। তবে লকডাউনেও ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে প্রায় দেড় লাখ চা শ্রমিককে।

দেড় লাখ চা শ্রমিকসহ তাদের পরিবারের প্রায় ৬ লাখ সদস্য রয়েছে। দেশের ১৬৬টি চা বাগানের মধ্যে ৯২টি মৌলভীবাজারে।

চা বাগান বন্ধ না হওয়ায় সাধারণ শ্রমিকরা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের দায়ী করছেন। তাদের অভিযোগ, শ্রমিক ইউনিয়ন মালিকপক্ষের সঙ্গে আঁতাত করে দাবি-দাওয়া নিয়ে আমাদের সঙ্গে ছলচাতুরী করছে।

যদিও এই অভিযোগ দেশ রূপান্তরের কাছে অস্বীকার করেছেন শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাম ভোজন ।

জানা যায়, মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার একটি চা বাগানের পাশেই গত ৪ এপ্রিল করোনার উপসর্গ নিয়ে একজনের মৃত্যুর পর তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করলে করোনা পজিটিভ পাওয়া যায়। যিনি মুদি দোকানি ছিলেন। তার দোকানে চা শ্রমিকদের আনাগোনা ছিল বলে জানা গেছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে অরক্ষিত চা শ্রমিক জনগোষ্ঠী।

৮ এপ্রিল কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের ১৩ বছর বয়সী এক শিশু করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যায়। মৃত শিশু ও তার মায়ের নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছে পরীক্ষাগারে। রিপোর্ট আসলে তারা করোনায় আক্রান্ত কি না বোঝা যাবে।

এই আতঙ্কের মধ্যেই কাজ করতে হচ্ছে চা শ্রমিকদের। এরই মধ্যে ছুটির দাবিতে রবিবার বাগানে বাগানে মানববন্ধন করেছেন চা শ্রমিকরা।

খেজুরী চা বাগানের রসরাজ বাউরি বলেন, একজন শ্রমিক করোনায় আক্রান্ত হলে তা ছড়িয়ে পড়বে হাজারো শ্রমিকের মাঝে। এ জন্য মজুরিসহ সাধারণ ছুটি ঘোষণা ও সরকারি বরাদ্দের দাবি জানাচ্ছি।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন বলেন, এমনিতেই চা শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার অবস্থা খুবই নাজুক। অন্যদিকে প্রথম থেকেই বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের পরিচ্ছন্ন কোনো বক্তব্য নেই। আর বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ইতিহাস হলো আপসকামিতার। তারা সব সময় মালিকদের স্বার্থ সংরক্ষণে ব্যস্ত থাকে।

বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়নের মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস বলেন, চা জীবন রক্ষাকারী কোনো পণ্য না। এখন চা পাতার সিজন নেই। তাই কোনো ঝুঁকি ছাড়াই মালিকপক্ষ চা বাগান সবেতনে ছুটি দিতে পারে। কিন্তু সবকিছুর বড় অন্তরায় বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ। তারা সব সময় মালিকপক্ষের দালালি করে থাকে। যার কারণে গার্মেন্টসের মতো বড় প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলেও চা বাগান আজ পর্যন্ত বন্ধ হয়নি।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি পংকজ কন্দ বলেন, রপ্তানিমুখী সব শিল্প প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হলেও বন্ধ করা হয়নি চা বাগানগুলো। দেশের সব চা বাগানে দেড় লক্ষাধিক শ্রমিক কাজ করে যাচ্ছে। চা বাগানে গাদাগাদি করে বসবাস করলেও বাগান মালিক বা সরকার বাগান বন্ধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাম ভোজন কৈরী  বলেন, আমরা ছুটির জন্য আন্দোলন করছি। যারা বলছে আঁতাত করছি তারা আমাদের কাছে এসে বলুক যে, আমরা এই ভুল করেছি। ছুটি আদায় করতে হলে সবাইকে একসঙ্গে আন্দোলন করতে হবে, এখন বিভেদের সময় নয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত