করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সম্মুখ অংশে ভারতের ৯ লাখ নারী কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী জীবনবাজি রেখে কাজ করছেন। ভাইরাসটির আতঙ্কে যখন বহু ডাক্তার রোগী দেখা বন্ধ করে দিয়েছেন তখন এই নারী স্বাস্থ্যকর্মীরা সামান্য অর্থের বিনিময়ে কাজ করে যাচ্ছেন। এ কাজের জন্য তাদের দেওয়া হচ্ছে না কোনো সুরক্ষামূলক পোশাক। ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রের একজন কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী অলকা নালাওয়াদে। তিনি স্বাস্থ্যকর্মীদের অবস্থা প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‘করোনাসংক্রান্ত কাজের জন্য সরকার আমাদের মাসে মাত্র এক হাজার রুপি করে দিচ্ছে। প্রতিদিন হিসাবে আমাদের মজুরি মাত্র ৩০ রুপি।
আর এর জন্যই আমাদের জীবন বিপদের মুখে দিচ্ছি।’ রাজ্যের ৭০ হাজার আশা (অ্যাক্রিডিয়েটেড সোশ্যাল হেলথ অ্যাক্টিভিস্টস) স্বাস্থ্যকর্মীর মধ্যে অলকা একজন। গত ১০ বছর ধরে পাওয়ারজাদি গ্রামের স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে তিনি কাজ করছেন। আশা ভারতের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে কাজ করে। ভারতের প্রাথমিক ও কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবা প্রকল্পের অন্যতম সদস্য তারা। বাড়ি বাড়ি ঘুরে তারা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পয়ঃনিষ্কাশন, গর্ভনিরোধ ও টিকাদানের মতো কার্যক্রম পরিচালনা করেন। করোনার বিরুদ্ধে লড়ইয়েও তাদের ভ‚মিকা কম নয়। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভাইরাসটি সম্পর্কে সচেতন করা, আইসোলেশন প্রক্রিয়া ও উপসর্গযুক্তদের মনিটর করাও তাদের কাজের মধ্যে পড়ে। আর এ সময়ে এসব কাজ খুব ঝুঁকিপূর্ণ। এ স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে অনেকেই বিবিসিকে জানান, তারা তুলার মাস্ক ব্যবহার করেন যাতে ধুয়ে প্রতিদিন ব্যবহার করা যায়।
আর স্যানিটাইজারের জায়গায় তারা বোতলভর্তি স্পিরিটের সঙ্গে পানি ভরে ব্যবহার করছেন। তাদের মধ্যে করুণা সিন্ধে নামে একজন জানান, তিনি সঙ্গে করে একটি স্কার্ফ নিয়ে যান মুখ ঢাকার জন্য। মহারাষ্ট্রের জুনিয়র স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেন্দ্র যাদ্রাভকার এ বিষয়ে বলেন, ‘আমাদের সুরক্ষামূলক উপাদানের অভাব রয়েছে। আমরা স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি আমলে নিতে নির্দেশ দিয়েছি। আশার কর্মীরা অল্প বেতনে জীবন ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। অবশ্যই তাদের রক্ষা করা উচিত। তাদের সহায়তা দেওয়া সরকারের দায়িত্ব।’ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ভয়, কম বেতন ছাড়াও সামাজিক ঝামেলাও কম না। অনেক পরিবারই এই নারী স্বাস্থ্যকর্মীদের বাড়িতে প্রবেশ করতে দেয় না।
