৫৫ জনের নমুনা থাকলেও শুক্রবার গাইবান্ধার পরীক্ষা করা হয়নি কারও

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২০, ০৮:১২ পিএম

করোনাভাইরাসে সন্দেহজনকদের ৫৫টি নমুনা রংপুর মেডিকেল কলেজের (রমেক) করোনা শনাক্তের ল্যাবে জমা থাকলেও  শুক্রবার গাইবান্ধার একজনেরও নমুনা পরীক্ষা করেনি প্রতিষ্ঠানটি।

শনিবার দুপুরে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে সরবরাহ করা প্রেস রিলিজ থেকে বিষয়টি জানা গেছে। ফলে রমেক ল্যাবে জমা থাকা এসব নমুনার মধ্যে পরে কেউ শনাক্ত হলে ততক্ষণে ভাইরাসটি আরও অনেকের মধ্যে ছড়ানোর আশংকা করা হচ্ছে। শুধু তাই না, আক্রান্ত সেই ব্যক্তির মৃত্যুঝুঁকিও বাড়ছে। এতে করে নমুনা পরীক্ষায় একদিন পিছিয়ে গেল গাইবান্ধা।

শুরু থেকে ঢাকার রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) পাঠানো হতো করোনায় সন্দেহজনকদের নমুনা। পরে ২ এপ্রিল থেকে রংপুর মেডিকেল কলেজের করোনাভাইরাস শনাক্তের ল্যাবে পাঠানো হয় নমুনা।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে সরবরাহ করা প্রতিদিনের প্রেস রিলিজের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, ১২ এপ্রিল নমুনা পরীক্ষা করা হয় ১৮ জনের, ১৩ এপ্রিল ১২ জনের, ১৪ এপ্রিল ১৭ জনের, ১৫ এপ্রিল ২৩ জনের, ১৬ এপ্রিল ৫ জনের। ১৭ এপ্রিল একজনেরও নমুনা পরীক্ষা করা হয়নি রমেকের ল্যাবে।

অপরদিকে ১৩ এপ্রিল নমুনা পাঠানো হয় ১৭ জনের, ১৪ এপ্রিল ২৮ জনের, ১৫ এপ্রিল ৭ জনের, ১৬ এপ্রিল ১৪ জনের ও ১৭ এপ্রিল ৩৪ জনের। গত ৫ দিনে পাঠানো ১০০ জনের নমুনার মধ্যে পরীক্ষা করা হয়েছে ৭৫ জনের।

গাইবান্ধা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেওয়া তথ্যে প্রেস ব্রিফিংয়ে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিন জানিয়েছেন, জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন ১২ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ্য হয়েছেন চারজন। এখনো করোনায় শনাক্ত ৮ জনের মধ্যে ৬ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশন ইউনিটে রেখে ও ২ জনকে বাড়ীতে আইসোলেশনভাবে চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে আরও ৫ জনকে। ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন এক হাজার ৫৩৭ জন ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৮০ জন। ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত নমুনা পাঠানো হয়েছে ২১৫ জনের। এরমধ্যে রিপোর্ট পাওয়া গেছে ১৬০ জনের।

করোনায় শনাক্তের চিকিৎসার জন জেলার সাতটি সরকারি হাসপাতালের ৪৮১টি বেডের মধ্যে প্রস্তুত রয়েছে ৩৫টি এবং ডাক্তার রয়েছেন ১২৬ জন ও নার্স রয়েছেন ১৯০ জন। মজুদ ও বিতরণ করা হচ্ছে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই), মাস্ক ও ওষুধ। বেসরকারি ১৮টি ক্লিনিকের ১৯০টি বেডের মধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে ১৯টি এবং ডাক্তার রয়েছেন ১৯ জন ও নার্স রয়েছেন ১৯ জন। করোনায় শনাক্তদের পরিবহনের জন্য জেলায় প্রস্তুত রয়েছে দুইটি অ্যাম্বুলেন্স ও দুইটি মাইক্রো। আরও প্রস্তুত রয়েছে ১০০ শয্যার একটি আইসোলেশন কেন্দ্র।

গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. এ বি এম আবু হানিফ শনিবার সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, শুক্রবার আমাদের রিপোর্ট আসেনি। পাঠানো নমুনার সবগুলোই পরীক্ষা করা হচ্ছে।

শুক্রবার রমেকের করোনা শনাক্ত ল্যাবে গাইবান্ধার নমুনা পরীক্ষা করা হলে তারা তো রিপোর্ট দিতো, কিন্তু এদিন তারা কেন রিপোর্ট দিল না এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা কেন রিপোর্ট দিল না এটা তো তাদের ব্যাপার। তাদের ক্যাপাসিটি আছে, তারা যতটুকু পারছে ততটুকু করছে।

সিভিল সার্জন ডা. এ বি এম আবু হানিফ আরও বলেন, শনিবার ৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে কেউ করোনায় আক্রান্ত বলে শনাক্ত হননি।

উল্লেখ্য, জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ১২ জনের মধ্যে গত ২২ মার্চ শনাক্ত হন দুইজন, ২৭ মার্চ দুইজন, ৪ এপ্রিল একজন, ১১ এপ্রিল একজন, ১৩ এপ্রিল দুইজন ও ১৪ এপ্রিল শনাক্ত হন একই পরিবারের আরও চারজন। এরই মধ্যে ১০ এপ্রিল লকডাউন করে দেওয়া হয় গাইবান্ধা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত