পিপিইর মান নিয়ে উদ্বিগ্ন চিকিৎসক-নার্সরা

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২০, ০৫:২০ এএম

দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে আয় বন্ধ হয়ে যাওয়া দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মানুষ সবচেয়ে বেশি মানসিক চাপে আছেন। আর পরিবারের সদস্যদের আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে তীব্র মানসিক চাপে পড়েছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। পাশাপাশি চাকরি হারানোর ভয়ে আতঙ্কে রয়েছেন পোশাকশ্রমিকরা। করোনার কারণে সামনের সারিতে থাকা (ফ্রন্টলাইন) স্বাস্থ্যকর্মী, বস্তিবাসী, পোশাকশ্রমিক এবং হিজড়া জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যগত ও আর্থিক বিষয়ে ছয়টি আলাদা জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ব্র্যাকের জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথ (জেপিজিএসপিএস), ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ এই জরিপগুলো করেছে। গতকাল শনিবার এক অনলাইন প্রেস কনফারেন্সে এসব জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়।

একটি জরিপে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কভিড-১৯ ব্যবস্থাপনায় সামনের সারিতে থাকা ৬০ জন স্বাস্থ্যকর্মীর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়। এতে দেখা যায়, ৭৫ শতাংশ স্বাস্থ্যকর্মী ও ৪০ শতাংশ স্টাফ একটি করে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) পেয়েছেন। তবে পিপিই পেলেও এর মান নিয়ে তাদের আশঙ্কা রয়েছে। পিপিইর ব্যবহার ও করোনা আক্রান্ত রোগীদের সেবায় যথাযথ প্রশিক্ষণ পাননি তারা। টানা পরিশ্রমের ফলে বিশ্রামও নিতে পারছেন না তারা। পরিবারের সদস্যদের আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে তীব্র মানসিক চাপে থাকা স্বাস্থ্যকর্মীরা উপযুক্ত মানের পিপিইর জরুরি প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করেছেন।

এ গবেষণায় বেশ কয়েকটি সুপারিশও তুলে ধরা হয়েছে। এগুলো হলো ফ্রন্টলাইন স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের জন্য পর্যাপ্ত ও মানসম্মত পিপিই সরবরাহ, দুশ্চিন্তা কমানোর জন্য কর্মক্ষেত্রের কাছাকাছি তাদের বাসস্থানের ব্যবস্থা এবং করোনার উৎপত্তি স্থল চীনের উহান নগরীতে অনুসরণ করা ৭/১৪ মডেল (৭ দিন দায়িত্ব পালনের পর ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইন পালন) অনুসারে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের পালা ও পর্যায়ক্রমিক দায়িত্ব বণ্টন করা।

আরেক জরিপে জেপিজিএসপিএস জনজীবনের বিভিনড়ব পর্যায় করোনাভাইরাসের প্রভাব নিয়ে গবেষণা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে মানুষের উপার্জন, পুষ্টি, লিঙ্গ, মানসিক স্বাস্থ্য ইত্যাদি। প্রম ধাপে ৬ থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত ১ হাজার ৩০৯ জন ব্যক্তির মোবাইল ফোনে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। উত্তরদাতারা মূলত পোশাকশ্রমিক ও শহুরে তরুণ। এতে দেখা যায়, একেবারেই আয়-উপার্জন নেই এমন গৃহস্থালির মানুষজন সবচেয়ে বেশি মানসিক চাপে আছেন। উত্তরদাতাদের মধ্যে ৫৮ শতাংশের আয় নেই ও আংশিক আয় আছে ২৯ শতাংশের। আর আয়ের ওপর কোনো প্রভাব নেই ১৩ শতাংশের। উত্তরদাতা ৩৭ ভাগ বলেছে, তারা প্রধানত ভাত, ডাল এবং আলু খেয়ে জীবনধারণ করছে। বাধ্য হয়ে পুষ্টিগত দিকবিচারে বৈচিত্র্যহীন খাবার খেয়ে বেঁচে থাকা গৃহস্থালির লোকজনের মধ্যে বেশি মানসিক চাপ দেখা গেছে।

গবেষণায় দেখা যায়, কভিড-১৯ সম্পর্কে জনসচেতনতা ও জ্ঞানের সার্বিক অবস্থা খুব একটা সুখকর নয়। গ্রামের ও নারী তথ্যদাতারা করোনাভাইরাস কীভাবে ছড়ায় তার মাধ্যমগুলো সম্পর্কে অপেক্ষাকৃত কম জানে। নগরের ও পুরুষ তথ্যদাতারা তুলনামূলক বেশি জানেন। গবেষণার সুপারিশে বলা হয়, নিমড়বআয়ের লোকদের খাবার ও আর্থিক সহায়তা বাড়াতে হবে। ভুল তথ্য ও সামাজিকভাবে হেয় করার বিষয়গুলো উল্লেখ করে সচেতনতা বাড়ানো ও জ্ঞান প্রচারের আরও সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে এই জাতীয় প্রচারণাগুলো আরও কার্যকরী করার জন্য নির্দিষ্ট গোষ্ঠীভিত্তিক প্রচারণা চালানোরও সুপারিশ করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত