ক্রয়াদেশ বাতিল

ইইউর সহযোগিতা চান ব্যবসায়ীরা

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২০, ০২:৪২ এএম

করোনাভাইরাসে প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের রপ্তানি আদেশ বাতিল বা স্থগিত হয়েছে। এর অধিকাংশই ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ক্রেতাদের পণ্য। সেই সঙ্গে নতুন আদেশ না আসায় এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের অর্থনীতি, এই খাতের উদ্যোক্তা ও শ্রমিকদের ওপর। বিষয়টি ইইউকে জানিয়েছেন পোশাক খাতের ব্যবসায়ীরা। রপ্তানি বাতিল হওয়া পণ্য পুনরায় রপ্তানিতে ইইউর সহযোগিতা, ক্ষতিপূরণ ও আর্থিক প্রণোদনাও চাওয়া হয়েছে। ইইউ কর্মকর্তা বলছেন, ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ও স্থগিত পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশকে কীভাবে সহযোগিতা করা যায় তা নিয়ে কাজ করা হবে। পাশাপাশি এই খাতের শ্রমিকদের আর্থিক প্রণোদনার বিষয়টিও ভেবে দেখা হবে।

বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) তথ্য অনুযায়ী, তাদের সদস্যভুক্ত কারখানার মধ্যে ১ হাজার ১৪৩টির ৩১৭ কোটি ডলারের ক্রয়াদেশ বাতিল ও ৯৮ কোটি ডলারের ক্রয়াদেশ স্থগিত করেছেন ক্রেতারা। এ ছাড়া আরও প্রায় ৫০ কোটি ডলার মূল্যের পণ্যের এলসি ক্লিয়ারেন্স মিলছে না। আর তথ্য দেয়নি এমন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪০ কোটি ডলারের ক্রয়াদেশ স্থগিত বা বাতিল হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) তথ্য অনুযায়ী, তাদের সদস্যভুক্ত ৪৮৬ কারখানার প্রায় ৭৩ কোটি ৩০ লাখ ডলারের ক্রয়াদেশ বাতিল হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিবেদন দেয়নি এমন কারখানায়ও আরও অন্তত ২০ কোটি ডলারের ক্রয়াদেশ বাতিল হয়েছে। এলসি আটকে আছে কয়েক শ কোটি ডলারের।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ক্রয়াদেশ স্থগিত ও বাতিল দুটোই প্রায় এক। স্থগিত হওয়া পণ্যগুলো কবে নেওয়া হবে সে বিষয়ে এখনো অনিশ্চিত। রপ্তানি বাতিল হওয়ায় এ খাতের প্রায় ২ হাজার ৫০০ ব্যবসায়ী ও ৩০ লাখের বেশি শ্রমিক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিষয়টিকে সরাসরি অবৈধ বলছেন ব্যবসায়ীরা। পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাপেক্স গ্রুপের বেশির ভাগ পণ্য রপ্তানি হয় ইইউভুক্ত দেশগুলোতে। ইইউতে করোনাভাইরাস আঘাত হানার শুরুতেই ক্রেতারা ২০ লাখ ডলারের ক্রয়াদেশ বাতিল করেন। এতে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রুপের দুটি কারখানায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহুর আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ক্রেতারা চলমান অর্ডারগুলো স্থগিত ও বাকিগুলো বাতিল করে দেওয়ায় বড় সংকটে পড়তে হচ্ছে।

হাজার হাজার শ্রমিককে বসিয়ে বেতন দিতে হয়েছে। আর এখন তো কারখানাই বন্ধ। এভাবে তো তারা ক্রয়াদেশ বাতিল করতে পারে না।’ এদিকে গতকাল রবিবার ইইউর বাংলাদেশ কার্যালয়ের সঙ্গে পোশাক ব্যবসায়ীদের একটি বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে ইইউর বাংলাদেশ অফিসের হেড অব কো-অপারেশন মাউ রিজিও চানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উপস্থিত দুজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ব্যবসায়ীরা ইইউর ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ বাতিলকে অবৈধ হিসেবে আখ্যা দেন। এর প্রভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সামাজিক ব্যবস্থায় যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে যাচ্ছে তা তুলে ধরেন। এ জন্য তারা ইইউর মাধ্যমে ক্রেতাদের থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় ও ক্রয়াদেশ বাতিল হওয়া পণ্য কিনতে ক্রেতাদের বাধ্য করতে সহযোগিতা চান। ইইউ যাতে করোনাভাইরাসে বাংলাদেশের পোশাকশ্রমিকদের পাশে দাঁড়ায়, সে জন্য আর্থিক অনুদানের জন্য আবেদন জানানো হয়। বৈঠকে মাউ রিজিও চান বলেন, করোনাভাইরাস একটি বৈশ্বিক সমস্যা।
 

এতে বাংলাদেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; বিশেষ করে এ দেশের পোশাকশিল্প ও তাদের শ্রমিকরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে ক্রয়াদেশ বাতিল হওয়ার বিষয়টি ইইউ অবগত। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাতিল ও স্থগিত হওয়া পণ্যগুলো কীভাবে নেওয়া যায় সে বিষয়ে বাংলাদেশকে সর্বাত্মক সহায়তা করবে ইইউ। এ ছাড়া বাংলাদেশের পোশাক খাতে কর্মরত শ্রমিকদের আর্থিক অনুদানের বিষয়টিও ইইউ বিবেচনা করছে বলে জানান চান। এ বিষয়ে বৈঠকে উপস্থিত থাকা বিকেএমইএর পরিচালক ফজলে শামীম এহসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ক্রেতারা যেভাবে অর্ডার বাতিল করেছে, সেটা সম্পূর্ণ অবৈধ।

তারা সারা জীবন আমাদের দোষ ধরে আসছে। এখন তারাই কোনো নিয়মনীতি মানছে না। বিষয়টি আমরা ইইউকে অবহিত করছি। আমরা ক্ষতিপূরণ ও পণ্য কিনতে ইইউর সহযোগিতা চেয়েছি। তারা আমাদের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।’ প্রণোদনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ইইউ মিয়ানমারকে প্রণোদনা দিয়েছে। তাহলে আমরা কেন পাব না। সেই যুক্তি আমরা তাদের কাছে তুলে ধরেছি। তারাও অনেকটা সম্মতি দিয়েছে। সামনে এটা নিয়ে আরেকটি বৈঠক হবে। আশা করছি আমাদের শ্রমিকরা কিছু প্রণোদনা পাবে। এ জন্য সরকারেরও সহযোগিতা প্রয়োজন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত