মাস্ক সরবরাহ করেছে কে, প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২০, ০৪:১৬ এএম

করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে স্বাস্থ্যকর্মীদের এন-৯৫ মাস্কের মোড়কে সাধারণ মাস্ক দেওয়া নিয়ে আলোচনার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়ে নজরদারি বাড়াতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও কেন্দ্রীয় ঔষধাগারকে নির্দেশনা দিয়েছেন। গতকাল সোমবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও কেন্দ্রীয় ঔষধাগারকে এ নির্দেশনা দেন তিনি।

রাজধানীতে কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত মহানগর জেনারেল হাসপাতালে ভুল মাস্ক সরবরাহের বিষয়টি তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহানগর হাসপাতালে কিছু জিনিস গেছে, পিপিইর নাম দিচ্ছে বেশ ভালো, কিন্তু জিনিসগুলো বোধ হয় ঠিকমতো যায়নি। এটা আপনাদের খোঁজ করে দেখা উচিত। পরে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শহিদ উল্লাহ ব্যাখ্যা দিতে গেলে তাকে থামিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এন-৯৫ লেখা আপনাদের বক্সে। কিন্তু ভেতরের যে জিনিসটা, সেটা সঠিক থাকে কি না, এটা একটু আপনাদের দেখা দরকার। আপনারা দিচ্ছেন, বলে দিচ্ছেন। কিন্তু যারা সাপ্লায়ার, তারা ঠিকমতো এটা দিচ্ছে কি না বা সঠিক জিনিসটা কিনছে কি না, এটা দেখা দরকার। এটা দেখবেন। যেহেতু আমি...বেশি কিছু করতে চাই না, আমি মন্ত্রীর কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি ছবিটা, ওটা যাচাই করে দেখার জন্য। এটা একটু নজর দিয়েন। এখানে যেহেতু অনেকে লাইভে আছেন, আমরা কথা বলছি না। লেখা আছে এন-৯৫। কিন্তু ভেতরের জিনিস কিন্তু সব সময় সঠিকটা যাচ্ছে না।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পিপিই নীতিমালা অনুযায়ী রোগীর নমুনা পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য এন-৯৫ মাস্ক পরা জরুরি। কিন্তু মার্চের শেষ ভাগে কেন্দ্রীয় ঔষধাগার থেকে বিভিন্ন হাসপাতালে যেসব মাস্ক পাঠানো হয়, তার প্যাকেটে ‘এন-৯৫’ লেখা থাকলেও ভেতরে ছিল সাধারণ সার্জিক্যাল মাস্ক। ফলে সেগুলো আসল মাস্ক কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন চিকিৎসকরা; বিষয়টি সে সময় সংবাদমাধ্যমেও আসে।

মুগদা জেনারেল হাসপাতালে সরবরাহ করা মাস্কের প্যাকেটে সাধারণ সার্জিক্যাল মাস্ক থাকায় হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী ওই মাস্কের মান সম্পর্কে জানতে চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের পরিচালককে চিঠি দেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখার পর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শহিদ উল্লাহ ২ এপ্রিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ব্রিফিংয়ে স্বীকার করেন, ওই মাস্ক সাধারণ সার্জিক্যাল মাস্ক ছিল। প্যাকেটের গায়ে এন-৯৫ লেখা হয়েছিল ‘ভুল করে’।

মাস্ক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে নজরদারি কঠোর করার নির্দেশনা দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কেউ যদি এ রকম কিছু করে থাকে ... বা এর সাপ্লায়ার কে ... আমি শুধু বললাম, মহানগর হাসপাতালে এটা গেছে। বাবুবাজারের যে হাসপাতালটা...এটা তো করোনাভাইরাসের জন্য ডেডিকেটেড। তো এ রকম কিছু কিছু জায়গায় যদি হয়, এটা তো ঠিক না। আপনারা যাদের এনগেজড করেন, যাদের ব্যবসাটা দেন বা যাদেরকে নেয় বা সাপ্লাই দেয়, তারা সঠিকটা দিল কি না, বক্স তো ঠিক আছে, কিন্তু বক্সের ভেতরের জিনিসগুলো ঠিক আছে কি না আমার মনে হয়, নজরদারি বাড়ানো দরকার ... বা যিনি রিসিভ করবেন, তিনি যেন দেখেশুনে এটা রিসিভ করেন। খালি আমি এটুকু বলতে চাই।’

সিএমএসডি পরিচালক শহিদ উল্লাহ এ সময় বলেন, ‘হয়তো জরুরি প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে আমাদের ভুল হয়ে থাকতে পারে, এখন আমরা চাচ্ছি আমাদের এই ভুলগুলো যেন না হয়, সেটা সঠিকভাবে বিতরণ যেন নিশ্চিত করতে পারি, সে উদ্যোগ আমরা নিচ্ছি।’

‘পিপিই যাদের দরকার, তারাই ব্যবহার করবে’

কভিড-১৯ রোগীর চিকিৎসাকাজের জন্য পিপিইসহ নির্ধারিত সুরক্ষা সামগ্রীর অপব্যবহার না করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘যেগুলো সম্পূর্ণভাবে রোগী দেখার জন্য, সেগুলো রোগী দেখার জন্যই থাকবে এবং ওই হাসপাতাল ও হাসপাতালসংশ্লিষ্ট যারা, তাদেরই ব্যবহার করতে হবে। বাকি সবাই সুরক্ষিত থাকার জন্য যা ব্যবহার করা হয় মাস্ক বা হ্যান্ড গ্লাভস বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার অথবা বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, সেগুলো সবাই মিলে ব্যবহার করবেন। ডাক্তার, নার্স যারা রোগী দেখবেন, তাদের যে জিনিসগুলো ব্যবহার করা দরকার, সেগুলো যদি সবাই মিলে যত্রতত্র ব্যবহার করতে শুরু করে, তাহলে আমরা ডাক্তার, নার্সদের দেব কীভাবে?’  বলেন শেখ হাসিনা।

তিনি জানান, এ পর্যন্ত ১৪ লাখ ৬৩ হাজার ৮৪০টি পিপিই সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৬৯টি বিতরণ করা হয়েছে। সবাইকে স্বাস্থ্যবিষয়ক নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান সরকারপ্রধান। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর জেলায় রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু জেলায় এটা এখনো ছড়াতে পারেনি। তাদের আমরা বলব, তারা যেন নিজেরাও সেই ব্যবস্থা নেন যে বাইরে থেকে কেউ যেন না যেতে পারে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত