সুনামগঞ্জে একজন চিকিৎসক আরও ৮ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এদের বেশিরভাগেই ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা। আক্রান্তদের মধ্যে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের একজন চিকিৎসক। বাকি ৭ জন হলেন শাল্লা উপজেলার ৩জন, জামালগঞ্জের ২জন, দক্ষিণ সুনামগঞ্জের একজন ও ছাতক উপজেলার আরও একজন আক্রান্ত সকলের পরিবারের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।
আক্রান্তদের এবং আশপাশের বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট ১৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।
শুক্রবার সকালে জেলা সিভিল সার্জন সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাধ্যমে তাদের নমুনা সংগ্রহ করার পর ২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাতে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি ও ভাইরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. মো. মঈনুল হকের স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
সিভিল সার্জন ও বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্যমতে জানা যায়, আক্রান্তদের মধ্যে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের একজন চিকিৎসক ডা. ওসমানী হায়দার। তার স্ত্রী বিশ^ম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার। তিনি ওখান থেকেই সদর হাসপাতালে আসা-যাওয়া করেন। গত রবিবার তার নমুনা পরীক্ষা হয়।
এছাড়া ছাতকের ম-লিভোগের দিনমজুর আব্দুল কদ্দুছ গত সোমবার ভাঙা হাতের কী অবস্থা এক্সরে করে দেখার জন্য হাসপাতালে যান। ডাক্তাররা তার কাশি দেখে নমুনা সংগ্রহ করান। তাকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার জন্য বলে দেন। একজন স্বাস্থ্য সহকারীকে দেখভালেরও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জের মিজানুর রহমান (২১) টাঙ্গাইলে কাজ করতেন। বাড়িতে ফেরায় গত রবিবার তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। জামালগঞ্জের দক্ষিণ কামলাবাজের তাহের মিয়ার মেয়ে সুমাইয়া (১২) ও একই গ্রামের রজন মিয়ার মেয়ে সুলতানা (১২) নারায়ণগঞ্জের শ্রমিক মায়ের সঙ্গে থাকতেন।
গত সোমবার এই দুই পরিবারের সদস্যদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। শাল্লা উপজেলার হবিবপুর ইউনিয়নের কাশীপুর গ্রামের তৈয়ব আলীর ছেলে আদিল মিয়া (২৮) ও শাল্লা ইউনিয়নের ইয়ারাবাদ গ্রামের লাল মিয়া ওরফে কামাল (৫৮) নারায়ণগঞ্জের শ্রমিক। বাড়ি আসায় গত সোমবার তাদের রক্ত পরীক্ষা করা হয় । এছাড়া শাল্লা সদর হাসপাতালের গাড়ি চালক দুর্জয় সরকারও (২৪) আক্রান্ত হয়েছে। গত রবিবারই তাদের সবার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল।
সিভিল সার্জন ডা. শামছুদ্দিন জানান, আক্রান্তদের পরিবারের যাদের নমুনা পরীক্ষা ইতিমধ্যে হয়নি। তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। আক্রান্তগণসহ আশপাশের বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।
