নাম বিভ্রাটে প্রসূতিকে পুলিশ পাঠাল আইসোলেশনে

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২০, ০৬:৪২ এএম

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত জেনে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ড থেকে পালিয়ে যাওয়া এক প্রসূতির নামের সঙ্গে মিল থাকায় অন্য এক প্রসূতিকে বাড়ি থেকে ধরে করোনা আইসোলেশন সেন্টারে পাঠানোর ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার রাতে সিলেট বিমানবন্দর থানা পুলিশ ওই নারীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নগরীর শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন সেন্টারে পাঠায়। প্রায় ছয় ঘণ্টা পর ভুল ধরা পড়লে ওই নারীকে তার বাড়িতে পাঠিয়ে হোম কোয়ারেন্টাইন মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়। পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা এখন করোনা আক্রান্ত আসল নারীকে খুঁজছে।

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় গতকাল শনিবার দেশ রূপান্তরকে জানান, পুলিশ যাকে ধরে আইসোলেশনে পাঠিয়েছিল তিনি হাসপাতাল থেকে পালানো করোনা আক্রান্ত নারী নন। একই এলাকার ও নামের মিল থাকায় পুলিশ ভুল করে ওই নারীকে ধরে এনেছিল। তিনি দুই দিন আগে হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগ থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি যান। ভুল ধরা পড়ার পর শুক্রবার রাতেই ওই নারীকে তার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিমানবন্দর থানার ওসি এস এম শাহাদাত হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ওসমানী হাসপাতাল থেকে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে আমাদেরকে তথ্য দেওয়া হয়েছিল যে খাদিমনগর এলাকার করোনা আক্রান্ত একজন প্রসূতি ওসমানী হাসপাতাল থেকে পালিয়েছেন। এরপর ওই রাতে অনেক অনুসন্ধান চালানো হয়। পরে শুক্রবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ মিলে হাসপাতাল থেকে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই নারীকে (করোনা আক্রান্ত নন) উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করেছিলাম।’

করোনা আক্রান্ত নন এমন নারীকে আটকের ঘটনা কীভাবে ঘটল এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, ‘ওই নারীকে বাড়ি থেকে নিয়ে আসার সময় তিনি হাসপাতালের ছাড়পত্র দেখিয়েছিলেন। তখন আমরা বিষয়টি হাসপাতালকে জানিয়েছিলাম। তারপর তাদের কথামতোই ওই নারীকে করোনা আইসোলেশনে পাঠানো হয়। পরে রাতে হাসপাতাল থেকে জানানো হয়, তিনি হাসপাতাল থেকে পালানো ওই নারী নন। এখন আমরা পালিয়ে যাওয়া নারীর খোঁজ করছি।’

অন্যদিকে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মহাপাত্র দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হাসপাতাল থেকে পালানো রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে বলে পুলিশ আমাদেরকে জানায়। এরপর অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়ে ওই নারীকে হাসপাতালে আনা হয়। কিন্তু ওই নারীর মধ্যে করোনার কোনো উপসর্গ ছিল না। তাই আরও অনুসন্ধান চালানো হয়।পরে নিশ্চিত হওয়া যায় তিনি করোনা আক্রান্ত সেই নারী নন। পরে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খাদিমনগর এলাকার একই নামের দুজন অন্তঃসত্ত্বা নারী ওসমানী হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন। তাদের দুজনের বাচ্চাই জন্মের পর মারা যায়। এর মধ্যে একজন ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি চলে যান। অন্যজনের করোনা উপসর্গ থাকায় হাসপাতালে পৃথকভাবে রাখা হয়েছিল এবং তার নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরে গত বৃহস্পতিবার রাতে নিশ্চিত হওয়া যায় ওই নারী করোনায় আক্রান্ত। এরপর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত