নভেল করোনাভাইরাস রোধে শুরু থেকেই তৎপর মাইক্রোসফট সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। ভ্যাকসিন গবেষণাসহ করোনা চিকিৎসায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার অর্থ সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছেন তিনি।
প্রযুক্তি বিষয়ক সাইট ম্যাশেবল জানায়, সম্প্রতি অভিনেতা ও উপস্থাপক ট্রেভর নোয়াহের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিল গেটস। করোনা চিকিৎসায় কোন পদ্ধতিটিকে সবচেয়ে কার্যকর মনে করছেন সে প্রসঙ্গে বলেন তিনি।
গেটস বলেন, ‘অনেক পদ্ধতি নিয়ে আমি আশাবাদী। তবে আক্রান্তদের থেকে রক্ত নিয়ে প্লাজমা পদ্ধতির ওপর প্রবল বেশি আশা রাখছি। এই পদ্ধতি অধিক কার্যকরী হওয়ার সুযোগ দেখতে পাচ্ছি। আগামী কয়েক মাস এ নিয়ে আমরা তথ্য সংগ্রহ করব।’
যাদের করোনা হয়েছিল এবং সেরে উঠেছেন, তাদের শরীরে করোনার অ্যান্টিবডি তৈরি হয় বা রক্তে প্রোটিন জাতীয় পদার্থ তৈরি হয়, যা ওই ভাইরাস প্রতিরোধের ক্ষমতা রাখে। প্লাজমা পদ্ধতির অর্থ হল, ওই ব্যক্তিদের রক্ত থেকে প্লাজমা সংগ্রহ করে করোনা আক্রান্তের শরীরে দেওয়া। যাতে রোগীর শরীরেও অ্যান্টিবডি তৈরি হয়।
বিল গেটসের মতে, প্লাজমা পদ্ধতিতে অনেক বেশি পরীক্ষা করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কাজে লাগবে এই পদ্ধতি। বড় আকারে এবং শক্তিশালীভাবে পরীক্ষা চালানো যাবে এ নিয়ে।
এদিকে অনেক দেশ করোনা মোকাবিলায় প্লাজমা পদ্ধতি ব্যবহার করছে। এর মধ্যে ভারতের দিল্লিতে সরকারি চিকিৎসকেরা এই পদ্ধতি ব্যবহার করে করোনার চিকিৎসায় প্রাথমিক সাফল্য পেয়েছেন।
শনিবার যুক্তরাজ্য ঘোষণা দিয়েছে, করোনার নতুন চিকিৎসার অংশ হিসেবে প্রত্যেক সপ্তাহে প্রায় ৫ হাজার সংকটাপন্ন রোগীর ওপর প্লাজমার ব্যবহার করা হবে। ২০০২ থেকে ২০০৪ সালে সার্স মহামারির সময় প্লাজমার চিকিৎসা কার্যকরী ব্যবহার হয়েছিল জানায় ব্রিটিশ স্বাস্থ্য বিভাগ।
এপ্রিল থেকে মে পর্যন্ত ১০ হাজার ইউনিট প্লাজমা সংগ্রহ করা হবে যা ৫ হাজার রোগীর চিকিৎসায় যথেষ্ট। ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক বলেন, ‘এই রোগের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াইয়ে এই চিকিৎসা বড় ধরনের মাইলফলক হবে আমার বিশ্বাস।’
