বগুড়ায় করোনা মোকাবিলায় মাঠে স্বেচ্ছাসেবীরা

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২০, ০৪:০৭ এএম

শুধুমাত্র আহ্বান করলেই যে হাজারো মানুষ এসে দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ান, সেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বগুড়ার একদল তরুণ স্বেচ্ছাসেবী। করোনা পরিস্থিতিতে দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তারা একটি ফেসবুক গ্রুপ চালু করে। সেই গ্রুপে মাত্র পাঁচ সপ্তাহের ব্যবধানে এখন সদস্য ২০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

যার মধ্যে তিন হাজারের অধিক সদস্য স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে প্রশাসন, পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগকে সহযোগিতার পাশাপাশি নিরন্ন মানুষের বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছে খাদ্য সামগ্রী। সেইসঙ্গে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য এই গ্রুপের উদ্যোগেই চিকিৎসকদের নিয়ে গঠন করা হয়েছে র‌্যাপিড রেসপন্স টিম। ‘করোনা পরিস্থিতিতে কোন মানুষ অনাহারী থাকবেনা এবং চিকিৎসা বঞ্চিত হবেনা’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কাজ করছে বগুড়ার এই স্বেচ্ছাসেবীরা।

দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় বগুড়ার কয়েকজন সাংবাদিক-সংস্কৃতিকর্মী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। জনসচেতনতা সৃষ্টি, প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা ও অসহায়দের খাদ্য সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করেন তারা। এজন্য তাদের উদ্যোগে প্রথমে ‘করোনা ও বগুড়া পরিস্থিতি’ নামে একটি ফেসবুক গ্রুপ চালু করা হয়। সেখানে একটি পোস্ট দিয়ে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।

২১ মার্চ এই গ্রুপ চালুর সময় তারা ভাবতেও পারেননি যে এমন সাড়া মিলবে। মাত্র ৫ সপ্তাহর ব্যবধানে সেই গ্রুপের সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় ২০ হাজার ৫০০জন। তাদের মধ্যে প্রায় তিন হাজার সদস্য এখন বগুড়ার ১২টি উপজেলায় স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছেন। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রমে সহায়তা করছেন তারা। এছাড়া জেলার যে ১৫জন রোগী করোনা আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের বাড়িসহ আশপাশের বাড়িগুলো পুরোপুরি লকডাউন করে দেওয়ায় সেসব পরিবারকে সাপ্তাহিক খাবার পৌঁছে দিচ্ছে স্বেচ্ছাসেবীরা।

এমাসের শুরু থেকে চালু করা হয়েছে একটি হটলাইন (০১৯৫১-৫০০৮০০), যে নম্বর থেকে মিলছে নানা ধরণের সেবা। এই গ্রুপের উদ্যোগেই জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য ২০ চিকিৎসক ও ১০ স্বেচ্ছাসেবকের সমন্বয়ে খোলা হয়েছে ‘র‌্যাপিড রেসপন্স টিম’। জেলার যে কোনো স্থান থেকে ডাক পেলে ছুটে যাবেন টিমের সদস্যরা। সেই সদস্যদের জন্য রয়েছে পরিবহণের ব্যবস্থাও। বিশেষ করে কোথাও কোন রোগীকে তার পরিবার বা স্থানীয় বাসিন্দারা হাসপাতালে নিতে অপারগতা প্রকাশ করলেও অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে হাজির হবেন এই টিমের সদস্যরা। আর ২৪ ঘণ্টা মোবাইল ফোনে দেওয়া হচ্ছে ‘টেলিমেডিসিন সেবা’। এছাড়া করোনা পরিস্থিতিতে অনাহারে-অর্ধাহারে থাকা নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারকে গোপনে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছানোর বা অসহায়-হতদরিদ্রদের প্রয়োজনীয় সহায়তার কার্যক্রম তো আছেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত