জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে তিন জেলায় আরও তিনজন মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দুজনই প্রতিবন্ধী। তাদের একজন কিশোর, আরেকজন কিশোরী; বয়স ১৪ বছর করে। তাদের একজনের বাড়ি ঝিনাইদহ, আরেকজনের ফরিদপুরে। এদিকে ফেনীতে মারা গেছে ৪৫ বছর বয়সী এক চা দোকানি। তার পরিবারের অভিযোগ, করোনার উপসর্গ থাকলেও আইইডিসিআরের হটলাইন নম্বরে বারবার চেষ্টা করেও সংযোগ পাননি তারা। দেশ রূপান্তরের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর অনুযায়ী এ নিয়ে ১৭ দিনে দেশে জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টে ১১৫ জনের প্রাণহানি হলো।
ঝিনাইদহ : সদর হাসতপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রবিবার বিকেলে মৃত্যু হয় প্রতিবন্ধী কিশোর শিপন মিয়ার। সে শৈলকুপা উপজেলার গোলকনগর গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. অপূর্ব কুমার জানান, তার শ্বাসকষ্ট ও সর্দিজ্বর ছিল। মারা যাওয়ার পর তার শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে করোনা পরীক্ষার জন্য যশোরে পাঠানো হয়েছে। শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, শিপন মিয়া করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। সন্ধ্যায় তার মরদেহ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় গোলকনগর গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে।
ফরিদপুর : সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার পথে গতকাল দুপুর ১টার দিকে মারা যায় প্রতিবন্ধী ওই কিশোরী। তার বাড়ি সদরপুরের সদর ইউনিয়নের পশ্চিম শ্যামপুর গ্রামে। সদরপুরের ইউএনও পূরবী গোলদার বলেন, ‘আমরা জেনেছি ওই কিশোরী দীর্ঘদিন ক্যানসারে ভুগছিল। গত কয়েক দিন তার জ্বর, কাশি ও মাথাব্যথা ছিল। তবে শ্বাসকষ্ট ছিল না।’ সদরপুরের উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ওমর ফয়সাল জানান, ওই কিশোরী করোনায় আক্রান্ত ছিল কি না তা নিশ্চিত হতে নমুনা সংগ্রহ করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে।
ফেনী : দাগনভূঞায় পৌরসভার নামার বাজার এলাকার একটি ভাড়া বাসায় গতকাল সকালে মারা যান উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের সেকান্তরপুর গ্রামের ওই বাসিন্দা। ফেনী শহরে তার একটি চায়ের দোকান ছিল। তার স্বজনরা জানান, কয়েক দিন ধরে জ্বর, সর্দিকাশি ও শ্বাসকষ্টে ভোগার পর তাকে দাগনভূঞা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতাল এমনকি ফেনী সদর হাসপাতালেও নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাদের আইইডিসিআরে যোগাযোগ করতে বলা হয়। আইইডিসিআরের হটলাইন নম্বরে বারবার চেষ্টা করেও সংযোগ পাননি তারা। দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রোবায়েত জানান, তিনি কিছুদিন অসুস্থ ছিলেন বলে জানা গেছে। তাই করোনা পরীক্ষার জন্য তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তারসহ পাশের দুটি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। বিশেষ ব্যবস্থায় তার লাশ দাফন করা হবে। দাগনভূঞার পৌর মেয়র ওমর ফারুক খান জানান, নিহতের পরিবার জানায় তার মধ্যে করোনা উপসর্গ ছিল। তারা বিষয়টি নিয়ে আইইডিসিআরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কেউ ফোন ধরেননি।
এর আগে গত মঙ্গলবার উপজেলার জায়লস্করে করোনার উপসর্গ নিয়ে এক মুয়াজ্জিনের মৃত্যু হয়। পরীক্ষায় তার করোনা ধরা পড়েনি।
