দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক শিশুসহ আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দেড়শ ছাড়াল। এর আগেও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪৯৭ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এক দিনে শনাক্তের এই সংখ্যা এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে গত শুক্রবার ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫০৩ জন শনাক্ত হয়েছিলেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীনদের মধ্যে আরও ৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়।
বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৪ হাজার ১৯২ জনের। পরীক্ষা করা হয়েছে ৩ হাজার ৮১২ জনের। এর মধ্যে ৪৯৭ জনের মধ্যে কভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত ৫ হাজার ৯১৩ জন। ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন আরও ৭ জন। এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু ১৫২ জন। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে আরও ৯ জন সুস্থ হয়েছেন। এ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন মোট ১৩১ জন।
বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, অধিকাংশ রোগী বাসায় থেকে চিকিৎসা নেন। তাদের মধ্যে অনেকেই সুস্থ হয়েছেন। তাদের সংখ্যা এখনো হালনাগাদ করা হয়নি। শিগগির তাদের সুস্থ হওয়ার সংখ্যাও জানানো হবে।
তিনি জানান, মৃত ৭ জনের মধ্যে ৬ জন পুরুষ ও একজন মহিলা। ৫ জন ঢাকার মধ্যে এবং বাকি দুজন সিলেট ও রাজশাহীর। তাদের ৫ জনের বয়স ষাটোর্ধ্ব, একজনের বয়স ৪১-৫০ বছরের মধ্যে এবং অন্যজন শিশু, যার বয়স ১০ বছরের নিচে।
তিনি আরও জানান, ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ৮৫ জন এবং বর্তমানে আছেন ১ হাজার ২২০ জন। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন মোট ৭৭ হাজার ৬৭৯ জন।
বুলেটিনে আরও জানানো হয়, এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে মোট ৫০ হাজার ৪০১ জনের। পিপিই বিতরণ করা হয়েছে ১২ লাখ ৯১ হাজার ৯৮টি। বর্তমানে মজুদ আছে আরও ২ লাখ ৭৫ হাজার ৯৫৯টি। স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩, ৩৩৩ ও আইইডিসিআরের হটলাইনে ২৪ ঘণ্টায় করোনাবিষয়ক কল এসেছে মোট ৭৮ হাজার ১৭৮টি। স্থল, সমুদ্র ও বিমানপথে ২৪ ঘণ্টায় দেশে প্রবেশ করেছেন ৩৪১ জন। তাদের প্রত্যেককে স্ক্রিনিং করা হয়েছে।
আক্রান্ত নেই চার জেলায় : দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে চারটি জেলায় এখনো করোনা রোগী শনাক্ত হয়নি। জেলাগুলো হলো বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, সাতক্ষীরা ও নাটোর। এর আগে নাটোরে একজন রোগী পাওয়া গেছে বলা হলেও পরে সংশোধন করা হয়েছে। বুলেটিনে বলা হয়, ওই রোগীর স্থায়ী ঠিকানা নাটোর হলেও তিনি ঢাকাতেই থাকেন। তাই তাকে ঢাকা শহরের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে নতুন জেলা হিসেবে ঝিনাইদহে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে।
ঢাকায় বেশি আক্রান্ত যেসব এলাকায় : সারা দেশের মধ্যে এখনো সবচেয়ে বেশি করোনা রোগী রয়েছে ঢাকা শহরে। আইইডিসিআরের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ঢাকা শহরেই রয়েছেন মোট রোগীর ৫২ শতাংশের বেশি রোগী। বাকি ৪৮ শতাংশ রোগী আছেন ঢাকা শহরের বাইরে। ঢাকা মহানগরীর শতাধিক এলাকায় করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। বুলেটিনে জানানো হয়, সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছেন রাজারবাগ এলাকায়। এরপরে আছে পর্যায়ক্রমে যাত্রাবাড়ী, লালবাগ, মোহাম্মদপুর, বংশাল, মহাখালী, মিটফোর্ড, মিরপুর-১৪, তেজগাঁও, ওয়ারী, শাহবাগ, কাকরাইল ও উত্তরা।
