শ্রমিকদের কাজে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসুরক্ষা না দিলে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় দফা ঢেউ আসতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)। গতকাল মঙ্গলবার সংস্থাটির জেনেভা অফিস থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
এদিকে শ্রমিকদের সুরক্ষায় আইএলও’র সহযোগিতায় নীতিমালা তৈরি করেছে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর। এটি অনুমোদনের জন্য শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে আইএলও’র বাংলাদেশ অফিসের জনসংযোগ কর্মকর্তা অঙ্কিতা সাদমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের নির্দেশিকা বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।’
করোনাভাইরাসের ঝুঁকি না কমলেও এই মুহূর্তে লকডাউন ধীরে ধীরে শিথিল করা হচ্ছে। কভিড-১৯-এর ছড়িয়ে পড়া রোধে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য শ্রমিক ও মালিক সংগঠনের সঙ্গে আলোচনার অনুরোধ জানিয়েছে আইএলও। শ্রমিকরা যাতে নিরাপদে কাজে ফিরতে পারেন সেজন্য তিন ধাপবিশিষ্ট কৌশল তৈরি করেছে। প্রথম ধাপে মালিক ও শ্রমিকদের আলোচনার ভিত্তিতে কর্মস্থলে সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং সবাই যাতে করোনার ঝুঁকি সম্পর্কে অবহিত থাকে সে ব্যবস্থা নেওয়া। কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য করা নীতিমালার পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং শ্রমিকদের ছাঁটাইয়ের পরিবর্তে আইএলও’র পরামর্শ হচ্ছে, তাদের কাজের অংশীদারিত্ব (ওয়ার্ক-শেয়ারিং) বাড়ানো এবং নতুন দক্ষতা শেখানোর মাধ্যমে চাকরিতে বহাল রাখা।
আইএলও মনে করে, কাজ শুরুর আগেই প্রত্যেক মালিকের উচিত সব ঝুঁকি বিবেচনা করে কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং তারা যেন কভিড-১৯-এ আক্রান্ত না হন সেজন্য ব্যবস্থা নেওয়া। এ ধরনের ব্যবস্থা না নিলে ভাইরাসটি আবার ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিপরীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে কর্মক্ষেত্রে সংক্রমণের দ্বিতীয় তরঙ্গের ঝুঁকি হ্রাস পাবে।
বিবৃতিতে আইএলও’র মহাপরিচালক গাই রাইডার বলেন, ‘আমাদের পুরো কর্মী বাহিনীর সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্য আজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একটি সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাবের মুখে আমরা কীভাবে আমাদের কর্মীদের সুরক্ষা দিচ্ছি, আমাদের সম্প্রদায়গুলো কতটা নিরাপদ এবং আমাদের ব্যবসায়গুলো কতটা স্থিতিশীল, তার ওপর এই মহামারীর প্রভাব নির্ভর করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কেবল পেশাগত সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে আমরা শ্রমিক, তাদের পরিবার এবং বৃহত্তর সম্প্রদায়ের জীবন রক্ষা করতে পারি। এতে কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং অর্থনৈতিকভাবে টিকে থাকা সম্ভব হবে।’
