সরকারি চাল চুরির অভিযোগে কমলগঞ্জে পুত্রসহ আ.লীগ নেতা আটক

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২০, ১২:৫০ পিএম

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে কালোবাজারে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা মূল্যের চাল চুরির অভিযোগে পুত্রসহ আওয়ামী লীগ নেতাকে আটক করেছে র‌্যাব-৯।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ৭টি বস্তায় ২১০ কেজি চাল জব্দ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন থেকে তারা উপকারভোগীদের চাল সুকৌশলে আত্মসাৎ করে বিক্রি করে আসছিলেন।

এ বিষয়ে বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন ও টেলিভিশনে খবর প্রকাশ হলে র‌্যাব-৯ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের একটি টিম বুধবার অভিযান চালিয়ে চুরিকৃত ২১০ কেজি চালসহ বাবা-ছেলেকে আটক করে।

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার আবু আব্দুল্লাহ ইসলামপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি।

আটক আব্দুল্লাহ ও তার ছেলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবকে জানিয়েছে তিনি ইসলামপুর ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি দরের সরকারি চাল বিভিন্ন সময় সুবিধাভোগীদের টিপসই জাল করে চুরি করে আসছেন।

র‌্যাবের এএসপি একেএম কামরুজ্জামান জানান, গত বুধবার কমলগঞ্জের সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের উপকারভোগী লোকদের সাথে সাক্ষাৎ করে এর সত্যতা পান।

এরই রেশ ধরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি আবু আব্দুল্লাহ্ এর মালিকানাধীন গোলের হাওর কাজুর দোকানের গুদামে দীর্ঘ সময় ধরে তদন্তের পর ডিলার আবু আব্দুল্লাহর কাছ থেকে অবৈধভাবে বিক্রির উদ্দেশ্যে ১০ টাকা মূল্যের ২১০ কেজি চাল জব্দ ও এর সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে দীর্ঘ ৮ ঘণ্টার অভিযানে বুধবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টায় আওয়ামী লীগ নেতা ডিলার আবু আব্দুল্লাহ্ (৫৫) ও তার ছেলে আজিজুর রহমানকে (২৮) আটক করে র‌্যাব।

এ বিষয়ে র‌্যাব-৯ এর শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের অধিনায়ক এএসপি আনোয়ার হোসেন শামিম জানান, ডিলার আবু আব্দুল্লাহ দীর্ঘদিন থেকে উপকারভোগীদের টিপসহ জাল করে চাল আত্মসাৎ করে বিক্রি করে আসছিল এর প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। ঘরে খাতাপত্রে ২৩ বস্তা থাকার কথা থাকলেও ৩০ বস্তা চাল পাওয়া যায়।

উপযুক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হান্নান ও স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য মৃনাল কান্তি সিংহ, বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ফয়জুল হকের উপস্থিতিতে ডিলার আবু আব্দুল্লাহ ও ছেলে আজিজুর রহমানকে আটক করা হয়েছে।

আটকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে তদন্ত করে এর সত্যতা পেলেও অধিক তদন্তের কথা বলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক।

তিনি বলেন, তদন্ত করে চাল সরানোর বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এমন কাজ করবে না বলে লিখিত নিয়ে তাকে সাবধান করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ডিলার আবু আব্দুল্লাহ্ উপকারভোগীদের কাছ থেকে চালগুলো কিনে নিয়েছিলেন। তাকে উপকারভোগীরা চাল পাচ্ছে না এমন বিষয়ে চানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি চানেনা, অভিযোগ পেলে তিনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। কেউ কেউ ২০১৮ সালে একবার আবার কেউ কেউ ২০১৯ সালের অক্টোবরে পাবার পর এ পর্যন্ত আর পাননি। আবার কারো কার্ড ডিলার নিয়ে গিয়ে আর তাদের চাল দিচ্ছেন না। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

ইসলামপুর ইউনিয়নের চম্পারায় চা বাগান, সুসমানগর তৈলং বস্তি, গুলের হাওর, কলাবন ফাঁড়ি, সরিষাবিল, সোনারায়সহ বিভিন্ন গ্রামের লোকজন জড়ো হয়ে চাল না পাবার বা বিভিন্নভাবে হয়রানির প্রতিবাদ জানায় ইসলামপুর ইউনিয়নের ৫টি ওয়ার্ডের ডিলার আবু আব্দুল্লাহ্ ও তার ছেলের বিরুদ্ধে। 

গোলেরহাওর বাজারের নৈশপ্রহরী ও বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, গত ১৫ এপ্রিল রাতে ডিলারের ছেলে আজিজ একটি সিএনজি অটোরিকশা করে গুদাম থেকে চাল নিয়ে যাবার সময় নৈশপ্রহরী আটক করে গোলের হাওর বাজারের এক মোবাইল ব্যবসায়ীকে ডেকে নিয়ে চ্যালেঞ্জ করলে তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে চাল নিয়ে যান।

পরদিনই নৈশপ্রহরী উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার বরাবরে একটি দরখাস্ত দেন। যার তদন্ত প্রথমবার হয়ে প্রাথমিকভাবে ডিলারের চাল চুরির সত্যতা পাওয়া যায়। চাল চুরির কথা ঢাকতে মোবাইলে নৈশপ্রহরীকে ফোন দেন আবু আব্দুল্লাহ্। সেই ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত