তিন মাস লকডাউন চললে দেশে দারিদ্র্যের হার দ্বিগুণ হবে: সানেম

আপডেট : ০১ মে ২০২০, ০৭:১৫ পিএম

করোনাভাইরাস মহামারি ঠেকাতে চলমান লকডাউন যদি তিন মাস চলে, তবে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার দ্বিগুণ হবে বলে আশঙ্কা করেছে অর্থনীতি গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম)।

শুক্রবার নিজেদের এক গবেষণার ফলাফল তুলে ধরে সানেম সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

বর্তমানে দেশের মোট জনগোষ্ঠীর ২০ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ দরিদ্র। গত দেড় দশকে দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশ যে সাফল্য দেখিয়েছে লকডাউন যদি তিন মাস চলে তবে দারিদ্র্যের হার ৪০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে।

সানেম বলেছে, এক মাস পেরিয়ে আসা এই লকডাউন তিন মাস স্থায়ী হলে দেশের মানুষের আয় ২৫ শতাংশ কমে যেতে পারে।    

সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হানের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটির একদল গবেষক বাংলাদেশের দারিদ্র্য পরিস্থিতির উপর করোনাভাইরাসজনিত অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব নিয়ে এই গবেষণা চালান।

গবেষণায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো সর্বশেষ খানা আয় ও ব্যয় নির্ধারণ জরিপের উপাত্ত ব্যবহার করে অর্থনৈতিক মডেলের মাধ্যমে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হয়েছে।  

গবেষণার ফলাফলে আরও বলা হয়, তিন মাসের লকডাউনের ফলে পরিবারের আয় ন্যূনতম এক-চতুর্থাংশ কমে যাবে।

দেশের ৪০টি জেলার দারিদ্র্য হার জাতীয় হারকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। যেমন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে রাঙামাটি। এই জেলায় নতুন করে ৩০ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ নতুন করে দরিদ্র্য হবে।

এভাবে ময়মনসিংহে ৩০ দশমিক ২ শতাংশ, সুনামগঞ্জে ২৮ দশমিক ৭ শতাংশ, কক্সবাজারে ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ, নীলফামারীতে ২৭ দশমিক ২ শতাংশ, নড়াইলে ২৭ দশমিক ২ শতাংশ, চট্টগ্রামে ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ, নেত্রকোনায় ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ, চুয়াডাঙ্গায় ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ, শেরপুরে ২৫ দশমিক ৬ শতাংশ, বরগুনায় ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ এবং শরীয়তপুরে ২৫ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ এই দুর্যোগে নতুনভাবে দরিদ্র হতে পারে।

এদিকে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং নরসিংদী জেলায় এ দুর্যোগের অর্থনৈতিক নেতিবাচক প্রভাব অপেক্ষাকৃত কম হতে পারে। যদিও প্রাথমিক পর্যায়ে এসব জেলায় করোনাভাইরাস এর প্রকোপ অপেক্ষাকৃত বেশি। প্রকৃতপক্ষে এসব জেলায় অনুমিত আয় ২৫ শতাংশেরও বেশি কমতে পারে।

অর্থনীতির ওপর করোনাভাইরাস সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার ঘোষিত আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ এবং বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি অর্থ খরচে তিনটি পরামর্শ দিয়েছে সানেম।

প্রথমত, দরিদ্র ও অসহায় জনগোষ্ঠীকে কার্যকরভাবে চিহ্নিত করা এবং এর মাধ্যমে তাদের সহায়তা প্রদানের ধরন ও সময়ের ব্যাপ্তি নির্ধারণ করা।

দ্বিতীয়ত, এটি নিশ্চিত করা যাতে প্রকৃত অর্থে যেসব শিল্প কল-কারখানা এবং গরিব মানুষের সহায়তা প্রয়োজন, তাদের কাছে এই সহায়তা সঠিকভাবে পৌঁছায়।

তৃতীয়ত, একটি ‘পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া’ চালু করা, যার মাধ্যমে এই সহায়তা প্রদান কার্যক্রমের কার্যকারিতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত