পাকা ধান নিয়ে বিপাকে কৃষাণী, দল নিয়ে হাজির আনসার কর্মকর্তা

আপডেট : ০২ মে ২০২০, ০১:০১ পিএম

'আমি খুব গরীব মানুষ স্যার। ৮ কাটা (৮০ শতাংশ) জমিতে ধান করেছিলাম। শ্রমিক ও টাকার অভাবে ধান কাটাইতে পারছি না। দূর থেকে দেখলাম আপনারা কৃষকের ধান কেটে দিচ্ছেন। আমার চেয়েতো গরীব কেউ নেই। আমার জমির ধানগুলো কেটে দিলে অনেক উপকার হতো।'

৬ আনসার ব্যাটালিয়নের পরিচালক ও নেত্রকোনা জেলা কমান্ড্যান্ট (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. জিয়াউল হাসানের কাছে এমন আবেদন জানান পূর্বধলা উপজেলাা আগিয়া গ্রামের সন্ধ্যা রাণী সরকার নামে এক নারী কৃষক।

এ কথা শুনে আনসার সদস্যদের নিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যা রাণী জমির ধান কাটা শুরু করান ওই কর্মকর্তা। 

গত চার দিন আগে জেলার পূর্বধলা উপজেলায় কৃষকেদের ধান কেটে দিচ্ছিলেন আসনার সদস্যরা। দুইজন গরীব কৃষকের ১১০ শতাংশ জমির ধান কাটা শেষের দিকে এসে কথাগুলো বলছিলেন কৃষাণী সন্ধ্যা রাণী ওই আনসার কর্মকর্তার কাছে। করোনার প্রভাবে শ্রমিক স্বল্পতায় খুব বিপাকে পড়েছেন তিনি।

আনসার কর্মকর্তা জিয়াউল হাসান বলেন, ‘সন্ধ্যা রাণীর কথাগুলো শুনে আমার খুব মায়া লাগলো। মনে হলো এক মুহূর্তে ওনাদের সবার কষ্ট যদি দূর করে দিতে পারতাম। আমি কথা দিয়েছিলাম তার ধান কেটে দেয়া হবে। পরে শুক্রবার তার জমির ধান আনসার ভিডিপির সদস্যরা কেটে দিচ্ছে। ধান কাটার সময় আমি তার সাথে কথা বললাম। উনি খুবই আনন্দিত, চোখ ছল-ছল করছে, মুখে আনন্দের হাসি, তা দেখে আমিও খুব আনন্দ পেলাম। কোন কাজে এত আনন্দ পাওয়া যায়, তা আগে জানা ছিল না।

গরীব মানুষের এ সামান্য কাজে আমরা সবাই যে আনন্দ পেলাম তা অসামান্য। এভাবে সারাজীবন মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মানবিক এ আনসার কর্মকর্তা।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত