অন্যান্য বছরের তুলনায় প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) কাক্সিক্ষত প্রবৃদ্ধি না হলেও উতরে গেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় ইলেকট্রিক ও ইলেট্রনিক্স সামগ্রীর উৎপাদক প্রতিষ্ঠান সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেড। কিন্তু শঙ্কা ঘিরে ধরেছে দ্বিতীয় প্রান্তিক (এপ্রিল-জুন) নিয়ে।
করোনাভাইরাসের প্রভাবে দীর্ঘদিনের লকডাউনে বিক্রি বন্ধ থাকায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে লোকসানের আশঙ্কা করছে বহুজাতিক এ কোম্পানিটি। এছাড়া ঈদ মৌসুম হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনায় বছরের পরবর্তী প্রান্তিকগুলোতেও মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব থেকে যাবে বলে মনে করছেন কোম্পানির শীর্ষ কর্তারা।
সিঙ্গার সূত্রে জানা গেছে, কোম্পানিটির মোট বিক্রির প্রায় ৬০ শতাংশ হয় দুই ঈদের সময়ে। কিন্তু কভিড-১৯ কারণে সরকারি সাধারণ ছুটির মেয়াদ আরও দীর্ঘায়িত হলে এ বছর ঈদের মৌসুমে ব্যবসা হারাবে কোম্পানিটি। ইতিমধ্যেই সরকারি সাধারণ ছুটির মেয়াদ ১৬ মে পর্যন্ত বাড়ানোর সম্ভাবনা আছে। তবে প্রতিদিন যে হারে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে, তাতে সাধারণ ছুটি রমজানের ঈদ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে বলে শঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেডের বিক্রি আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১২ শতাংশ বেড়েছে। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ প্রান্তিকে ব্যবসায় কাক্সিক্ষত প্রবৃদ্ধি হয়নি। কারণ করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে মার্চের শেষ ১৫ দিন ব্যবসা বন্ধ রাখতে হয়েছে কোম্পানিটিকে। প্রথম প্রান্তিকে বিক্রি বাড়লেও প্রশাসনিক ও বাজারজাতকরণ ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য অনুযায়ী হয়নি।
সিঙ্গার বাংলাদেশের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে ৩০৩ কোটি ২৮ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছে, যেখানে এর আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২৭১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। তবে কাক্সিক্ষত হারে ব্যবসা না হওয়ার কারণে পরিচালনসহ অন্যান্য ব্যয় মিটিয়ে আগের বছরের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ৯ শতাংশ করপরবর্তী মুনাফা কমেছে। এ সময় উৎপাদন খরচ যেমন বেড়েছে, তেমনি প্রশাসনিক, বাজারজাতকরণ ও বিক্রি বাবদ ব্যয়ও বেড়েছে। এ কারণে আগের বছরের তুলনায় চলতি প্রথম প্রান্তিকে সিঙ্গারের পরিচালন মুনাফা কমে গেছে। ফলে করপরবর্তী নিট মুনাফা আগের বছরের তুলনায় চলতি প্রথম প্রান্তিকে ৯ শতাংশ কমে ১১ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।
তবে প্রথম প্রান্তিকে মুনাফায় থাকলেও দ্বিতীয় প্রান্তিকে লোকসানের শঙ্কায় চিন্তিত হয়ে পড়েছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। ২০১৯ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে সিঙ্গারের বিক্রি থেকে আয় ছিল ৫২১ কোটি টাকা। চলতি বছর এই আয়ের বড় অংশই অর্জিত হবে না বলে মনে করছেন সিঙ্গার বাংলাদেশের পরিচালক (করপোরেট অ্যাফেয়ার্স) ও মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ সানাউল্লাহ। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, দুই ঈদ উৎসব থেকেই সিঙ্গারের বেশিরভাগ আয় হয়। অথচ করোনার কারণে চলতি বছরের মাঝামাঝি থেকে সিঙ্গারের সব বিক্রয়কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। কবে বিক্রয়কেন্দ্রগুলো খুলতে পারব, তা এখনো নিশ্চিত নয়। কারণ সংক্রমণ বাড়তে থাকায় ধাপে ধাপে সরকারি সাধারণ ছুটির মেয়াদও বাড়ছে।
সানাউল্লাহ বলেন, এ সময় বিক্রি থেকে আয় না এলেও শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাসহ স্থায়ী খরচ রয়েছে। ইতিমধ্যেই কর পরিশোধের চাপও তৈরি হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে দ্বিতীয় প্রান্তিকে লোকসান মেনে নিতে হবে। তবে যত তাড়াতাড়ি বিক্রিয়কেন্দ্র খুলবে লোকসানের পরিমাণ ততটাই কমবে। অবশ্য চলতি সপ্তাহ থেকেই অনলাইনে পণ্য বিক্রি শুরু করা হবে বলে জানান সানাউল্লাহ। যদিও করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাইরে ইলেকট্রনিক্স পণ্য কেনার সক্ষমতা কিছুটা কম থাকবে বলে মনে করেন তিনি।
২০১৯ সালের জন্য সিঙ্গার বাংলাদেশ শেয়ারহোল্ডারদের ৭৭ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের ঘোষণা নিয়েছে। এ সময় কোম্পানিটির নিট মুনাফা ছিল ১০৩ কোটি টাকা।
