বিশ্বব্যাপী মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে আমাদের দেশেও ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি চলছে। জরুরি সেবার বাইরে মানুষের চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও থেমে নেই পোশাকশ্রমিকদের জীবন। সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর যেভাবে সারা দেশের শ্রমিকরা গ্রামে ফিরেছিলেন। আবার কারখানা খোলার সঙ্গে সঙ্গে একইভাবে ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন। করোনাভাইরাস থেকে নিজেদের রক্ষা করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও সরকার যেসব নির্দেশনা দিয়েছেন তার কোনোটাই মানা হয়নি এসব শ্রমিকদের গ্রামে যাওয়া এবং শহরে ফেরার সময়।
কারণ এসব শ্রমিক দীর্ঘ ছুটি পেয়ে গ্রামে ফিরলেও কারখানা খোলার খবরে আবার ঢাকা আসতে শুরু করেছেন। গণপরিবহন বন্ধ থাকার কারণে যে যেভাবে পারছেন ঢাকায় প্রবেশ করছেন। সরকারের কোনো পদক্ষেপই আটকাতে পারছে না পোশাকশ্রমিকদের। জীবিকার তাগিদে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই ঘর থেকে বের হতে হয়েছে তাদের।
আর পোশাকশ্রমিকদের ঢাকায় ফেরার এমন দৃশ্য দেখা যায় রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যোগাযোগের অন্যতম প্রবেশদ্বার রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে। বৈরী আবহাওয়া আর পথে পথে পুলিশের বাধা পেরিয়ে ছুটেছেন কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে। জীবিকার কাছে হার মেনেছে করোনাভাইরাসের ভয়।
গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন শামীম হোসেন। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজে কর্মস্থলে ফেরা কতটা জরুরি জানতে চাইলে তিনি বলেন, অফিস থেকে ফোন দিয়েছে। শনিবার থেকে অফিস করতে হবে। ‘গাজীপুর অনেক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা’ বলার পরে জানানো হয়েছে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত চাকরি করলে আসতে হবে। কিছুই করার নেই, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পেটের তাগিদে যেতেই হচ্ছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক আবু আব্দুল্লাহ রনি বলেন, পোশাক কারখানার শ্রমিকদের কারণে শুধু যাত্রী নিয়েই নদী পাড়ি দিয়েছে বেশ কয়েকটি ফেরি।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবাইয়াত হাসান শিপলু বলেন, সরকার গণপরিবহন বন্ধ রেখেছে। তারপরও পোশাকশ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে বিভিন্ন উপায়ে ঘাটে এসেছেন। মানবিক কারণে তাদের নদী পার করে দেওয়া হচ্ছে।
