ভৈরবে করোনাজয়ী ১৪ জনকে প্রশাসনের ফুলেল সংবর্ধনা

আপডেট : ০৪ মে ২০২০, ১২:২৭ এএম

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে করোনাভাইরাসকে জয় করে বাড়ি ফেরা ১৪ জনকে ফুলেল সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে উপজেলা করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটি ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

করোনাজয়ীরা ঢাকার কুর্মিটোলা, কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ভৈরবের ট্রমা হাসপাতালের আইসোলেশন সেন্টারে থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ্য হয়েছেন। তারা সবাই ১০ এপ্রিল থেকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এইসব চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ছিলেন। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ভৈরবে করোনাভাইরাসে প্রথম আক্রান্ত হন চাঁন মিয়া নামের একজন পুলিশ অফিসার। পরে আক্রান্ত হন চাঁন মিয়ার চিকিৎসক, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা: কিশোর কুমার ধর এবং যে ফার্মেসী থেকে চাঁন মিয়া ওষুধ কিনতেন, সেই ফার্মেসীর ফার্মাসিস্ট তৌহিদ আহমেদ আর্থ কিশোর।

এইভাবে পর্যায়ক্রমে  চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশসহ আক্রান্ত হন ৪৫ জন। এদের মধ্যে প্রথম দিকে আক্রান্ত ১৪ জন করোনাভাইরাসকে জয় করে বাড়ি ফিরলেন।

গত পাঁচ দিনে এই ১৪ জন নিজ নিজ চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে সুস্থ্যতার ছাড়পত্র পান। রোববার দুপুরে ভৈরব ট্রমা হাসপাতালের করোনাভাইরাস আইসোলেশন সেন্টারে তাদের ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুবনা ফারজানা, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: বুলবুল আহমেদ ও ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: শাহীন তাদের হাতে ফুলের তোড়াসহ ফুলমূল তুলে দেন।

যারা প্রথম দফায় করোনা থেকে মুক্তি পেলেন তারা হলেন, পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো: চাঁন মিয়া, মো: দেলোয়ার হোসেন, ফার্মাসিস্ট তৌহিদ আহমেদ আর্থ কিশোর, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: কিশোর কুমার ধর, স্থানীয় প্রাণ কোম্পানীর কর্মচারী রাজু আহমেদ, ৬ পুলিশ কনেস্টবেল মো: আমিনুল ইসলাম, তানজিব আহমেদ, আ: রহিম, সোনীয়া আক্তার, দুলাল কবির ও জামাল উদ্দিন এবং ব্যবসায়ী কাজী আবুল হোসেন ও তার দুই মেয়ে হালিমা তুজ স্নিগ্ধা এবং নওশিন শার্মিলী নীরা। 

সংবর্ধনা শেষে করোনাজয়ীদের মধ্যে ডা: কিশোর কুমার ধর, পুলিশ সদস্য মো: আমিনূল ইসলাম ও সমাজকর্মী হালিমা তুজ স্নিগ্ধা তাদের করোনা জয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তারা প্রত্যেকেই জানান, করোনাকে ভয় না পেয়ে নিয়ম মেনে ওষুধ সেবন করতে হবে। পালন করতে হবে কিছু বিধিমালা। নিয়মিত গরম পানির গারগল করা, লেবুর সরবত ও ফলমূল খেতে হবে। ব্যায়াম করতে হবে। প্রচুর ভিটামিন সি খেতে হবে। তবে করোনাকে সহজেই জয় করা যাবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ বুলবুল আহমেদ জানান, ভৈরবে এ পর্যন্ত ৩৭০ জনের করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে একটি ১৫ মাসের শিশুসহ ৪৫ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মাঝে ২২ হলেন চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী। ১০জন আছেন পুলিশ সদস্য। এ পর্যন্ত ১৪ জন সুস্থ্য হয়েছেন। আল্লাহর রহমতে এখনও পর্যন্ত ভৈরবে করোনায় আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা যাননি। এটি আমাদের জন্য সুখের খবর। তাছাড়া যারা ভৈরব ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসা নিয়েছেন, তারা এখানকার সেবা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুবনা ফারজানা জানান, ১৪ জন করোনায় আক্রান্ত রোগী সুস্থ্য হওয়ায় তিনি অনেক আনন্দিত। ভৈরবের প্রতিটি করোনা রোগী সুস্থ্য হয়ে ফিরবেন। এইভাবে একদিন এই পৃথিবী আবারও সুন্দর হয়ে উঠবে, এটি তিনি প্রত্যাশা করেন। তবে তার প্রত্যাশা পূরণে তিনি ভৈরববাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করে বলেন, সামাজিক বিচ্ছিন্নতার সরকারী নির্দেশনা মেনে সবাই যেনো যার যার বাড়িতে অবস্থান করেন। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত