সিগারেট খাওয়া নিয়ে ঘাতক আশিকুজ্জামান আশিককে (২৭) ভৎর্সনার জেরেই ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তৌহিদুল ইসলাম খানকে (২৪) হত্যা করা হয়।
সোমবার বিকেলে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহা. আহমার উজ্জামান এ তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবীর, মো. আল আমিন, মো. শাহজাহান, ডিবির ওসি শাহ কামাল আকন্দ, কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মাহমুদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তার আশিকুজ্জামান আশিক (২৭) এলাকার একজন পেশাদার চোর ও মাদকসেবী। ঘটনার দুইদিন আগে নগরীর তিনকোনা পুকুর পাড় এলাকার ওই মেসের গলিতে রমজান মাসে সিগারেট খাওয়া নিয়ে ঘাতক আশিককে ভৎর্সনা করেন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তৌহিদ।
তখন এনিয়ে দু’জনের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এ সময় তৌহিদের হাতে থাকা মোবাইলের প্রতি লোভ হয় আশিকের। পরে তৌহিদের পেছনে পেছনে বাসায় গিয়ে তার রুম দেখে আসে।
তিনি আরো জানান, ঘটনার দিন শুক্রবার রাত ৩টার দিকে সে বাসার ছাদ দিয়ে মোবাইল চুরি করতে মেসে গেলে তৌহিদ তাকে ধরে ফেলে। এ সময় উভয়ের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে পাশে থাকা রড দিয়ে তৌহিদকে আঘাতে রক্তাক্ত করে পালিয়ে যায়। পরে বাসার মালিক তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. সাইকুল ইসলাম বাদী হয়ে কোতায়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ সুপার জানান, প্রাথমিকভাবে সংঘটিত ঘটনাটি চুরি বলে প্রতীয়মান হওয়ায় ডিবি এবং থানা পুলিশ যৌথ অভিযানের ভিত্তিতে তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে মূল ঘাতক আশিকুজ্জামান আশিককে ঘটনার দু'দিন পর রোববার বিকেলে নগরের আকুয়া বোর্ডঘর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।
পরে তার দেখানো মতে হত্যার সময় পরিহিত রক্তমাখা প্যান্ট ও টিশার্ট গাজীপুরের শ্রীপুর এমসি বাজার থেকে এবং হত্যায় ব্যবহৃত রডটি ওই মেসের পাশের পুকুর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।
সোমবার দুপুরে গ্রেপ্তার আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলেও জানান পুলিশ সুপার।
