সিনেমার সবকিছু নতুন করে মেরামতের পরামর্শ ববিতার

আপডেট : ০৬ মে ২০২০, ১২:১৯ এএম

করোনায় সিনেমাশিল্পও ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। সিনেমার পরিস্থিতি নিয়ে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বললেন গুণী অভিনেত্রী ববিতা। বিস্তারিত জানাচ্ছেন সুদীপ্ত সাইদ খান

করোনাকালে ঘরবন্দি সময় পার করছেন গুণী অভিনেত্রী ববিতা। বাড়িতে বসেই নামাজ, রোজা রাখছেন। জানালেন তাহাজ্জুদের নামাজও পড়েন তিনি। দেখাশোনা করেন নিজের বাগানের। স্কাইপেতে কথা বলেন দেশের বাইরে থাকা ছেলে আর আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে। সত্যজিৎ রায়ের অশনি সংকেতের এই অনঙ্গ বউ জানালেন এর বাইরে অবসরে সিনেমা দেখছেন তিনি। আর তার সিনেমা দেখার তালিকায় আবারও জায়গা করে নিয়েছে সত্যজিতের নানান সিনেমা।

এ প্রসঙ্গে ববিতা বলেন, ‘কদিন আগেই সত্যজিতের জন্মদিন গেল। সত্যজিতের সিনেমার মাধ্যমেই আমি আন্তর্জাতিক পরিচিতি পেয়েছি। অশনি সংকেতের অনঙ্গ বউ হওয়ার জন্য ডাক পাওয়ার সময়ে আমি দ্বিধান্বিত ছিলাম। হবে কী হবে না। ভারতে গেলাম, ওনারা স্ক্রিন টেস্ট নিলেন। তারপর সত্যজিৎ আমাকে সিনেমায় নিলেন। ওনার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা তো এক কথায় দারুণ। আর সিনেমা মুক্তির পর বিশ্বের নানা চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে। যার ফলে দুনিয়ার সবাই আমাকে চিনতে শুরু করে। বিশ্বের কোনো চলচ্চিত্র উৎসবে গেলে সবাই আমাকে পরিচয় করিয়ে দিত, এই হচ্ছে সত্যজিৎ রায়ের নায়িকা ববিতা। তখনকার সোভিয়েত ইউনিয়নে আমার সিনেমা ডাবিং করে চালানো হতো। ফলে রাশিয়ার ট্যাক্সিচালকরাও আমাকে চিনত। আমি যখন রাশিয়ার কোনো ফেস্টিভেলের বিল্ডিং থেকে বের হতাম তখন ছেলেমেয়েরা দাঁড়িয়ে থেকে আমার অটোগ্রাফ নিত। এসবই পেয়েছি সত্যজিতের রায়ের সিনেমায় কাজ করার বদৌলতে।’

করোনায় সিনেমার অবস্থাও খুব খারাপ। এসব নিয়ে চিন্তিত ববিতাও। করোনা-পরবর্তী সিনেমা ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে পরামর্শও দিলেন তিনি। বললেন, ‘এখানকার যারা কুশীলব আছেন তাদেরই ভাবতে হবে তারা কী করবেন। কীভাবে আবার ইন্ডাস্ট্রিকে চাঙা করবেন। আমার কাছে মনে হয়, খুব সহজে সিনেমার দুরবস্থা দূর হবে না। সবকিছু যদি স্বাভাবিকও হয়ে যায় তারপরও আমাদের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি ঘুরে দাঁড়াবে বললে ভুল বলা হবে। কারণ সিনেমার অবস্থা আগে থেকেই খারাপ। আমার পরামর্শ থাকবে সবকিছু আবার নতুন করে মেরামত করার। নতুন করে সব শুরু করা ছাড়া আর কোনো উপায় আছে বলেও দেখছি না।’

নিজের আত্মজীবনী লিখবেন কি না জানতে চাইলে ববিতা বলেন, ‘এর আগে ভারত থেকে কিছু সাংবাদিক এসেছিলেন, তারা আমার আত্মজীবনী লিখতে চান। তখন তাদের বললাম যে আপনারা তো ভারতের, আপনারা কেন আমার আত্মজীবনী লিখতে চান। আমি বাংলাদেশের অভিনেত্রী, আমি চাই বাংলাদেশের কেউ আমাকে নিয়ে কাজ করুক। আমি ওদের প্রস্তাবে রাজি হইনি। আর বাংলাদেশের কেউ এখনো আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। দুয়েকজন যারাও বা যোগাযোগ করেছে তাদের দেখেছি আমার সম্পর্কে খুব কমই জানে। তো যারা আমার সম্পর্কে সঠিকভাবে জানেই না তাদের প্রস্তাবে রাজি হই কীভাবে? এটা তো আর এমন কোনো ব্যাপার না যে চাইলাম লিখে ফেললাম। এটা অনেক সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। আর আমার একার পক্ষে এটা সম্ভবও নয়। কেউ যদি আমার সিনেমা ভালো করে দেখে আসে, ভালো করে আমার সম্পর্কে পড়ে আসে তখন হয়তো ভাবতে পারি। পুরো বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সম্পর্কে জেনে এসে আমার সঙ্গে যদি কথা বলেন তাহলে হয়তো তাদের সঙ্গে বসে কাজ করা যায়। নচেৎ তো সম্ভব না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত