ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তম শহরের একটি রাসায়নিক কারখানায় বিষাক্ত স্টাইরিন গ্যাস লিক হয়ে ১৩ জনের মৃত্যু ও সহস্রাধিক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে শহরের ‘এলজি পলিমারস’ নামে একটি সংস্থার কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে খবর দিয়েছে বিবিসি।
চিকিৎসকরা বলছেন, চোখে অসম্ভব জ্বালাপোড়া, শ্বাসকষ্টসহ নানা উপসর্গ নিয়ে কারখানা এলাকার শত শত মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গ্যাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ার পর অসংখ্য মানুষ আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। সরকারের পক্ষ থেকেও কারখানার আশপাশের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সরকারি কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, কারখানা কর্র্তৃপক্ষের উদাসীনতায় গ্যাস লিকেজের এ ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে গ্যাস লিকেজ বন্ধের প্রাথমিক চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। যদিও রাজ্যের কর্মকর্তারা পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছেন।
করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউন জারির পর গত ২৪ মার্চ থেকেই এলজি পলিমারস কারখানাটি বন্ধ রয়েছে। প্রায় দেড় মাস পর খোলার সিদ্ধান্তের দিনই এ দুর্ঘটনা ঘটল। বিষাক্ত গ্যাসের ধোঁয়া কারখানাটিকে ঘিরে তিন কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। আপাতত বিশাখাপত্তমে প্রশাসন মানুষকে ভেজা কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে রাখার পরামর্শ দিয়েছে।
এলজি এক বিবৃতিতে দুর্ঘটনা তদন্তের সঙ্গে অসুস্থদের চিকিৎসায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
অন্ধ্রপ্রদেশের দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের সিনিয়র কর্মকর্তা রাজেন্দ্র রেড্ডি বলেন, ‘লিকেজ হওয়া গ্যাস স্টাইরিন। এটি সাধারণত হিমায়িত আকারে থাকে। দুর্ঘটনার পর এর প্রভাব খতিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’ আর প্রদেশের শিল্পমন্ত্রী গৌতম রেড্ডি বলেছেন, ‘কারখানাটি নতুন করে চালুর আগে সব পদ্ধতি ও নির্দেশিকা ঠিকমতো পালন করা হয়নি বলেই আমরা সন্দেহ করছি।’
এর আগে ১৯৮৪ সালের ডিসেম্বরে ভুপাল শহরে ইউনিয়ন কার্বাইডের সার কারখানা থেকে এক দুর্ঘটনায় ‘মিক’ গ্যাস ছড়িয়ে পড়লে ৩ হাজার ৫০০ মানুষের মৃত্যু হয়। বিশ্বের ইতিহাসে ‘ভুপাল গ্যাস ট্র্যাজেডি’কে সবচেয়ে বড় শিল্প দুর্ঘটনা বলে বর্ণনা করা হয়। এত বছর পরও সেখানে শিশুরা বিকলাঙ্গ অবস্থায় জন্মগ্রহণ করে।
