করোনায় বদলে গেছে বলিউড, আরও বদলাবে

আপডেট : ০৮ মে ২০২০, ০২:২৫ পিএম

চলতি সময়টা বলিউডের জন্য ভালোই হতে পারত। মাধ্যমিক স্কুলের পরীক্ষা শেষ, হলিউডের ব্লকবাস্টার মুভিগুলো মুক্তির কয়েক মাস দেরি আছে— সে হিসেবে টিকিট কাউন্টারে ঝড় তোলার কথা হিন্দি সিনেমার।

দেখতেই পাচ্ছেন, তা আর হয়নি। করোনা আঘাতে প্রেক্ষাগৃহের দরজা বন্ধ, নির্মাতারা তাদের সিনেমার শুটিং স্থগিত করেছেন। এই সময়ের মধ্যে কমপক্ষে দুটি হিট সিনেমা বঞ্চিত হলো।‘সূর্যবংশী’ ও ‘৮৩’ বদলে দিতে পারতো বছরের প্রথমার্ধের হিসাব। কিন্তু কপ থ্রিলার ও ক্রিকেট নিয়ে নির্মিত সিনেমা দুটি কবে মুক্তি পাবে এখন কেউ জানে না।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের চলচ্চিত্র সমালোচক শুভ্রা গুপ্তা জানান, সিনেমা দুটি নিয়ে দর্শকের অনেক প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু যথাসময়ে মুক্তি না পাওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে গেছে।

এমনকি আটকে গেছে সালমান খানের ঈদুল ফিতরের সিনেমা। এ ছাড়া করোনার কারণে ফেব্রুয়ারি-মার্চে মুক্তি পাওয়া কয়েকটি সিনেমা ব্যবসাই করতে পারেনি। এ পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে কেউ জানে না।

সিনেমার বাণিজ্য বিশ্লেষক কমল নেহতা জানায়, মহামারীর কারণে ভারতীয় সিনে ইন্ডাস্ট্রি ৩৩ কোটি ডলারের বেশি হারিয়েছে। এর মধ্যে আছে বক্স অফিস আয় ও শুটিং বন্ধ হওয়ার আর্থিক ক্ষতি।

গবেষণায় দেখা যায়, ২০১৮ সালে ভারতে ১৮০০ এর বেশি সিনেমা নির্মিত হয়েছে। যা অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি। হিন্দিভাষী বলিউড সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি নিয়ন্ত্রণ করলেও গুরুত্বপূর্ণ হিস্যা রয়েছে তেলুগু, মালায়ালাম, মারাঠি, ভোজপুরী ও বাংলা ভাষার সিনেমার।.

২০১৯ সালে ভারতের বক্স অফিসে আয় ছিল ১৪০ কোটি ডলারের মতো। যা আগের বছরের তুলনায় ১২ শতাংশ বেশি। একটি প্রতিষ্ঠানের রিপোর্ট বলছে, এই আয়ের মাত্র ১৫ শতাংশের ভাগিদার হলিউড সিনেমা।

ভারতীয় সিনেমা বিদেশেও বেশ জনপ্রিয়। তিন খান, অক্ষয় কুমার ও দীপিকা পাড়ুকোনের মতো তারকাদের ভক্ত আছে দুনিয়াজোড়া। উদাহরণ হিসেবে গত বছরের ‘ওয়ার’ সিনেমাটির নাম নেওয়া যায়, আন্তর্জাতিক বাজারে এর আয় ১.৩৭ কোটি ডলার। যা মোট আয়ের এক-চতুর্থাংশ।

সব মিলিয়ে অনিশ্চিত অবস্থায় আছে সামনের দিনগুলো। মার্চের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লকডাউনের ঘোষণা দেন। অবশ্য এর আগেই চলচ্চিত্র, টিভি ও ওয়েব সিরিজের শুটিং স্থগিত করে নির্মাতারা। কয়েক দফা লকডাউন বাড়িয়ে এখন ঠেকেছে ১৭ মে পর্যন্ত।

শুভ্রা গুপ্তার মতে, এ কারণে সারা বছরের সিনেমা শিডিউলে প্রভাব পড়বে।

এমনকি থিয়েটারগুলো খুলে দেওয়া হলেও দর্শক সমাগম না হওয়া পর্যন্ত টাকা হারাতে থাকবে সংশ্লিষ্টরা। কমল নেহতা উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে- চীনে সোশ্যাল ডিসটেন্সিং নিয়ম মেনে টিকিট বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু প্রত্যেকটা সিটেরই নির্দিষ্ট মূল্য রয়েছে। একটা সিট বাদ দিয়ে বিক্রি করলেও ৫০ শতাংশ লোকসান হবে। যা বড় বাজেটের সিনেমাকে কোনোভাবে লাভজনক হতে দেবে না।

এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে সিনেমার টেকনিশিয়ান ও দৈনিক চুক্তিতে যারা কাজ করে। বলিউডের মেকআপ ম্যান হিসেবে এক যুগের বেশি সময় ধরে কাজ করছেন আরতি নায়ার। জানালেন, যতগুলো কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সবই পিছিয়ে গেছে। খারাপ অবস্থায় আছে লাইট বয়, খাবার সরবরাহকারীসহ অন্যরা। অবশ্য প্রডিউসর গিল্ড অব ইন্ডিয়াসহ একাধিক সংস্থা ও তারকারা তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।

মহামারী পরবর্তী সময়ে সিনেমার বাজেটে বেশ চাপ পড়বে বলে মনে করেন কমল নেহতা। ক্যামেরা সামনে ও পেছনে থাকা দামী কলা-কুশলীদের পারিশ্রমিক কমতে পারে। তিনি জানান, বাজেটের বড় একটি অংশ শীর্ষ তারকাদের পেছনেই খরচ হয়। তারাই হবেন খরচ কমানোর টার্গেট।

শুভ্রা গুপ্তার মতে, মহামারী পরবর্তী সময়ে প্রযোজনা সংস্থাগুলোর মধ্যে আলাপচারিতা বাড়বে। বিশেষ করে সিনেমা মুক্তির তারিখ নিয়ে তারা আরও বেশি কথা বলবেন। একই দিনে বড় বাজেটের দুই সিনেমা মুক্তি দিয়ে কেউ পরম্পরের খাবারে ভাগ বসাবে না। এ আলাপচারিতার মাধ্যমে ইন্ডাস্ট্রি আরও যৌক্তিক হবে। পরস্পরকে সাহায্য করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করবে।

সিএনএনের প্রতিবেদন অবলম্বনে

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত