করোনার কারণে গত ২৫ মার্চ লকডাউনের পর থেকেই দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার সীমন্তবর্তী বিনাইল ইউনিয়নের কর্মহীনদের মাঝে উপহার ও বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়ে চলেছে স্থানীয় তরুণদের নিয়ে গঠিত মানবতার ঝুড়ি নামের একটি সংগঠন
সংগঠনটি সূত্রে জানা যায়, ওই ইউনিয়নের প্রায় ৫ শতাধিক কর্মহীহন শ্রমজীবী ও দুস্থ বক্তির খাদ্য ও চিকিৎসাসেবার আওতায় এনেছে সংগঠনটি। সেই সাথে করোনা মোকাবিলায় সরকার নির্দেশিত সচেতনতামূলক কার্যক্রমও অব্যাহত রেখেছে সংগঠনটি।
এলিন এগ্রো ফার্মের সার্বিক অর্থায়নে এবং ইমার উদ্দিন কমিউনিটি হাসপাতালের সহযোগিতায় নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর গ্রামে অভিজ্ঞ চিকিৎসক এনে চলছে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা। সেই সাথে দুস্থদের দেওয়া হচ্ছে বিনামূল্যে ঔষুধ। এছাড়া নিয়মিত টেলিমেডিসিন সেবাও রয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিনাইল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ইউনিয়নের দুস্থ্ ও কর্মহীন এবং ইমাম- মোয়াজ্জিনদের মাঝে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী উপহার বিতরণ করেন ইউএনও তৌহিদুর রহমান।
ইউএনও তৌহিদুর রহমান বলেন, সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত একটি ইউনিয়ন বিনাইল। সেখানকার মানুষদের জন্য মানবতার ঝুড়ি নামক সংগঠনটি ধারাবাহিকভাবে ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা দিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, দেশের দুর্যোগে যারা নিঃস্বার্থভাবে এগিয়ে আসাই সু নাগরিকদের কাজ। স্থানীয় তরুণদের নিয়ে গড়া মানবতার ঝুড়ি সীমান্ত এলাকার মানুষদের পাশে দাড়িয়েঁ মানবতার উজ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
কৃষি কর্মকর্তা শম্পা আখতার বলেন, এ মূহূর্তে শুধু ত্রাণ সহায়তাই নয় সু চিকিৎসাও প্রয়োজন। মানবতার ঝুড়ি নামের সংগঠনটি বিনামূল্যে গ্রামের অসহায় দুস্থ মানুষদের শহর থেকে অভিজ্ঞ চিকিৎসক এনে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করেছেন। তাদের এ কার্যক্রম নির্দিষ্ট একটি দিনে সীমাবদ্ধ না থেকে ধারাবাহিকভাবে চলেছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি অন্যন্য নজির হয়ে থাকবে।
মানবতার ঝুড়ির প্রতিষ্ঠাতা এএসএম তারেক জানান,দেশের সংকট মুহূর্তে মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে স্থানীয় যুবকদের নিয়ে এ সংগঠন কাজ করছে। যতদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হবে ততদিন তাদের বিনামূল্যে খাদ্য ও চিকিৎসা সেবা অব্যাহত থাকবে। আর্থিক ও যাতায়াত সমস্যার কারনে দূরবর্তী এ গ্রাম অনেকেই বিশেষ করে নারীরা শহরে গিয়ে চিকিৎসাসেবা নিতে পারছেন না। এ সংকটে কোনো ব্যক্তি যেন চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত না হন তাই তিনি সেখানে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। সেই সাথে করোনা প্রতিরোধে গ্রামের সাধারন মানুষদের সচেতন করতেও কাজ করছেন।
