‘বন্দুকযুদ্ধে’ জোড়া খুনের আসামিসহ নিহত ২

আপডেট : ১৭ মে ২০২০, ০৭:১৩ এএম

পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় জোড়া খুনের আসামি ও কক্সবাজারের টেকনাফে এক ইয়াবা কারবারি নিহত হয়েছেন। গত শুক্রবার গভীর রাতে বন্দুকযুদ্ধের এসব ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন বাঁশখালীর বাহারছড়া ইলশা গ্রামের দলিলুর রহমানের ছেলে নুরুল আনছার প্রকাশ কালু (৪০) ও টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মহেষখালিয়াপাড়ার নুরুল ইসলামের ছেলে আরিফুল ইসলাম (২৫)।

বাঁশখালী থানার ওসি রেজাউল করিম মজুমদার জানান, বাহারছড়ার ইলশায় মদিনা ব্রিক ফিল্ডে শুক্রবার রাতে একদল সন্ত্রাসী জড়ো হচ্ছে এমন গোপন খবরে পুলিশ অভিযানে যায়। উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে সন্ত্রাসীরা পিছু হটে। পরে সেখান থেকে গুলিবিদ্ধ নুরুল আনছার প্রকাশ কালুকে উদ্ধার করে বাঁশখালী হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। কালু মদিনা ব্রিক ফিল্ডের মালিক নুরুল আবছারের ছোট ভাই এবং গত ১২ মে রাতে বাঁশখালীর বাহারছড়ার ইলশা গ্রামে খালেদ বিন ওয়ালিদ (২৫) ও হাফেজ মোহাম্মদ ইব্রাহিম (২১) নামে জোড়া খুনের মামলার অন্যতম আসামি। গ্রামের আধিপত্য ও ইটভাটা নিয়ে পূর্ব ইলশা গ্রামের ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন ঝুন্টুর সঙ্গে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছে মদিনা ব্রিক ফিল্ডের মালিক নুরুল আবছারের। এরই জের ধরে ওইদিন জোড়া খুনের ঘটনা ঘটে। পরে গত বুধবার নুরুল আবছার, তার ভাই নুরুল আনছার কালুসহ কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন জয়নাল আবেদীন।

বন্দুকযুদ্ধের পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি এলজি, কিরিচ, দাসহ কয়েকটি দেশি অস্ত্র উদ্ধার করে। আর আহত পুলিশের আট সদস্যকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। কালুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় হত্যাসহ ৮টি মামলা রয়েছে বলে জানান ওসি।

অন্যদিকে টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জানান, হত্যাসহ অর্ধডজন মামলার পলাতক আসামি আরিফ দলবল নিয়ে মহেষখালিয়াপাড়া মৎস্যঘাট এলাকায় অবস্থান করছে এমন খবরে পুলিশ অভিযানে যায়। উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা গুলি ছোড়ে। পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে দুইপক্ষের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ গুলিবিনিময় হয়। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা পিছু হটলে গুলিবিদ্ধ আরিফকে উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র-গুলি উদ্ধার করা হয়। বন্দুকযুদ্ধে এএসআই রামধন দাশ, সাইফুদ্দিন ও কনস্টেবল রমণ দাশ আহত হন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আরিফের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইনে টেকনাফ থানায় মামলা করা হয়েছে বলেও জানান ওসি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত