২৬ বছর পর আটক রুয়ান্ডা গণহত্যার অস্ত্রদাতা

আপডেট : ১৭ মে ২০২০, ০৭:১৪ এএম

২৬ বছর পালিয়ে থাকার পর ফ্রান্সে আটক হয়েছে রুয়ান্ডার গণহত্যায় সন্দেহভাজন ফেলিসিয়েন কাবুগা। রুয়ান্ডার ৮৪ বছর বয়সী এই সাবেক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আট লাখ মানুষ হত্যায় সশস্ত্র গোষ্ঠীকে অর্থ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফ্রিকার দেশ রুয়ান্ডার মোস্ট ওয়ান্টেড এই ব্যক্তির মাথার মূল্য ৫০ লাখ ডলার ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল শনিবার ফ্রান্সের বিচার বিভাগের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, নিজের পরিচয় লুকিয়ে কাবুগা প্যারিসের একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে বসবাস করে আসছিলেন।

রুয়ান্ডার দুটি মূল নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী হুতু ও তুতসিস। ঐতিহাসিকভাবে দুটি গোষ্ঠী পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী। ১৯৯০-এর দশকে জনগোষ্ঠী দুটি গৃহযুদ্ধে জড়ায়। হুতু ব্যবসায়ী ফেলিসিয়েন কাবুগার বিরুদ্ধে ১৯৯৪ সালে একশ দিনের মধ্যে আট লাখ তুতসিসকে হত্যায় সশস্ত্র গোষ্ঠীকে অর্থ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। জাতিসংঘের গঠিত একটি আদালত কাবুগাকে ১৯৯৭ সালে সাত ধরনের অভিযোগে অভিযুক্ত করে। তবে তার আগেই সে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়।

শনিবার ফ্রান্সের বিচার মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, রুয়ান্ডা গণহত্যার অর্থদাতা হিসেবে পরিচিত ফেলিসিয়েন কাবুগা ১৯৯৪ সাল থেকে জার্মানি, বেলজিয়াম, কঙ্গো-কিনশাসা, কেনিয়া কিংবা সুইজারল্যান্ডে পালিয়ে বিচার এড়িয়ে গেছে। ওই বিবৃতিতে জানানো হয়, গ্রেপ্তারের পর এই পলাতক ব্যক্তিকে প্যারিসের আপিল আদালতে তোলা হবে আর পরে তাকে হেগের আন্তর্জাতিক আদালতের কাছে তুলে দেওয়া হবে।

রুয়ান্ডা গণহত্যায় আরও দুই সন্দেহভাজন এখনো পলাতক। তারা হলো অগাস্টিন বিজিমানা ও প্রোতাইস এমপিরিয়ানিয়া।

জাতিসংঘও বলছে, গণহত্যায় ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ তলোয়ার, নিড়ানি এবং অন্যান্য কৃষি যন্ত্রপাতি কেনার জন্য দায়ী ফেলিসিয়েন কাবুগা। এসব যন্ত্রপাতি গণহত্যায় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত