করোনা পরিস্থিতিতে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটিতে চট্টগ্রাম বন্দরে আটকেপড়া কন্টেইনারের ওপর আগামী ৩০ মে পর্যন্ত ডিটেনশন কিংবা ডেমারেজ চার্জ মওকুফের জন্য শিপিং লাইনগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে নৌপরিবহন অধিদপ্তর। গতকাল নৌপরিবহন অধিদপ্তরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
কভিড-১৯ মোকাবিলায় গত ২৬ মার্চ সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর থেকে ডেলিভারি কমে যাওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরে বিপুল পরিমাণ কন্টেইনার আটকা পড়ে। এ পরিস্থিতিতে শিপিং লাইনগুলো ফ্রি টাইমের অতিরিক্ত কন্টেইনার রাখায় আমদানিকারকদের কাছে ডিটেনশন চার্জ চায়। ব্যবসায়ীরা বিষয়টি নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে জানালে গত ২৯ এপ্রিল করোনা পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের কন্টেইনারে ডেমারেজ চার্জ না আদায়ের নির্দেশনা দেওয়া হয় শিপিং লাইনগুলোকে। কিন্তু শিপিং লাইনগুলো নির্দেশনা অমান্য করায় গত ১১ মে এ বিষয়ে নৌপরিবহন অধিদপ্তরে সভা আহ্বান করা হয়। এতে বাংলাদেশ শিপার্স কাউন্সিল ও শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও ওইদিন তাদের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত হননি। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল রবিবার সভার তারিখ পুনর্নির্ধারণ করা হয়। গতকাল নৌপরিবহন অধিদপ্তরে মহাপরিচালক কমোডর সৈয়দ আরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম আবুল কালাম আজাদ, বিজিএমইএ পরিচালক হাসান আবদুল্লাহ ছাড়াও বাংলাদেশ শিপার্স কাউন্সিল, শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ কন্টেইনার শিপিং অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে আলোচনার পর করোনা পরিস্থিতিতে আগামী ৩০ মে পর্যন্ত কন্টেইনার ডিটেনশন চার্জ না আদায়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ডিটেনশন কিংবা ডেমারেজ চার্জ হিসেবে সংগৃহীত অর্থ দেশের বাইরের শিপিং লাইনগুলোর কাছে না পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর সৈয়দ আরিফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, কন্টেইনার ডিটেনশন চার্জ মওকুফের নির্দেশনা দিয়ে গত ২৯ এপ্রিল জারি করা সার্কুলার বহাল রয়েছে। তবে সাধারণ ছুটির বাড়ায় মওকুফের সময়সীমা আগামী ৩০ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
