ছেলেবেলায় জুনিয়র টিমে ঢোকার সুযোগ পেয়েও প্রথম দফায় খেলতে পারেননি বিরাট কোহলি। জানিয়েছেন, কর্মকর্তাদের কেউ একজন ঘুষের প্রস্তাব দিলে তার বাবা ফিরিয়ে দেন।
১৮ বছর বয়সে বাবাকে হারানো কোহলি রবিবার ভারতীয় ফুটবলার সুনীল ছেত্রীর সঙ্গে লাইভে এসে পুরোনো দিনের কথা বলেন।
‘আমাদের রাজ্যে (দিল্লি) মাঝে মাঝে কিছু অনৈতিক ব্যাপার ঘটে যায়। তেমনি এক সময়ে দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট একজন নিয়ম ভাঙেন।’
‘তিনি আমার বাবাকে বলেন অতিরিক্ত কিছু দিলে ছেলে খেলতে পারবে। আমার বাবা সৎ মধ্যবিত্ত ছিলেন। সারা জীবন সফল আইনজীবী হওয়ার লড়াই করেছেন। কিন্তু ওই প্রস্তাবের সঙ্গে আপোষ করেননি।’
সেদিন কোহলির বাবা লোকটাকে বলেন, ‘যদি বিরাটকে নির্বাচন করতে চান, মেধা দেখেই করুন। আমি অতিরিক্ত কিছুই দেব না।’
বিরাট সেদিন কেঁদে বুক ভাসিয়েছিলেন। কিন্তু হাল ছাড়েননি, ‘তখন আমি দলে ডাক পাইনি। প্রচুর কেঁদেছিলাম। একদম ভেঙে পড়ি। কিন্তু ঘটনাটি অনেক কিছু শিখিয়েছিল। বুঝতে পারি সফল হতে হলে অসাধারণ গুণ থাকতে হবে। সেই থেকে কঠোর পরিশ্রমে এসব অর্জন করেছি। বাবাই আমাকে পথ দেখিয়েছিলেন।’
কোহলি জানান, অল্প বয়সে বাবাকে হারালেও ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন ছাড়েননি।
‘তার মৃত্যুকে মেনে নিয়েছিলাম। সেই থেকে ক্যারিয়ারে বেশি নজর দেই।’
‘বাবা মারা যাওয়ার পরদিন রঞ্জি ট্রফিতে ব্যাটও করি। তার মৃত্যুর পর মনে হতো আমাকে জীবনে কিছু করতেই হবে।’
সেই কোহলি ঠিকই ‘কিছু’ করেছেন। এই ‘কিছুর’ অর্থ কী এই দুনিয়ায় তা আর কারো অজানা নয়। তবু আজও একটা আক্ষেপ কোহলিকে পোড়ায়-কাঁদায়, ‘যদি বাবাকে সুখের একটা অবসর জীবন দিতে পারতাম…।’
