করোনার কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রিমিয়ার ডিভিশন ফুটবল লিগ পরিত্যক্ত করে ২০১৯-২০ মৌসুমই বাতিল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। করোনার এই দুর্যোগময় সময়ে আর্থিক সংকটে ক্লাবগুলো। তাই বেশির ভাগ ক্লাবের দাবি ও করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেয় দেশের ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা।
কিন্তু এমন সিদ্ধান্তে আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ফুটবলার থেকে শুরু করে কোচ, খেলাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। এমনকি অনেকে রয়েছেন ক্যারিয়ার নিয়ে শঙ্কায়।
দেশের ফুটবলের সাবেক অধিনায়ক বিপ্লব ভট্টাচার্যই যেমন। এক সময়ের অন্যতম সেরা এই গোলরক্ষক ফুটবলকে বিদায় বলে এ মৌসুমে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবে গোলকিপিং কোচ হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। মাসিক বেতন ভিত্তিক পুরো বছরের জন্য তার সঙ্গে চুক্তি ক্লাবটির।
বাফুফে মৌসুম সমাপ্তি ঘোষণার পর নিজের ফেইসবুক আইডিতে থেকে দেওয়া স্ট্যাটাসে তাই বিপ্লবের শঙ্কা, ‘ফুটবল লিগ বাতিল হয়ে যাওয়ায় বেকার হয়ে গেলাম। জানি না কী আছে ভাগ্যে!’
দেশের সাবেক এই শীর্ষ ফুটবলার ও শীর্ষ ক্লাবের কোচের এমন স্ট্যাটাস থেকে অন্যদের অবস্থাটা বুঝে নেওয়া যায় সহজেই।
করোনা পরিস্থিতিতে দীর্ঘ সময় ফুটবল বন্ধ থাকার পর ইউরোপের দেশগুলোতে তা ফিরতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে বুন্দেসলিগা মাঠে গড়িয়েছে। লা লিগা, ইতালিয়ান সিরি আ কর্তৃপক্ষও সেই প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। কিন্তু বাংলাদেশে সেই সময় ঘটেছে উল্টো চিত্র।
অবশ্য এ দেশের ফুটবল প্রেক্ষাপট ইউরোপের মতো নয়। ক্লাবগুলোর সুনির্দিষ্ট কোনো আয়ের উৎস নেই। স্পন্সরশিপ থেকে ফেডারেশন আয় করবে, সেটিও প্রতিবার দেখা যায় না। সমাপ্তি টেনে দেওয়া লিগে যেমন কোনো স্পন্সরই ছিল না।
বিপ্লব তাই লিগ বাতিলের সিদ্ধান্তকে পরিস্থিতির দাবিই মানছেন। দেশ রূপান্তরকে সাবেক এই ফুটবলার বলেন, ‘দেশের যে পরিস্থিতি তাতে অবশ্যই খেলা বন্ধ রাখা উচিত। এ সময় যেকোনো কিছু হতে পারে। তাই এই সিদ্ধান্ত ঠিক আছে। কিন্তু আমরা যারা ক্লাবের সঙ্গে সম্পৃক্ত, অনেক কোচ বা কোচিং স্টাফ আছেন, তাদের কী হবে এটা একটা ব্যাপার।’
‘এই মুহূর্তে যদি আমাদের ক্লাব থেকে না করে দেওয়া হয়, তাহলে আমরা পরিবার নিয়ে কোথায় যাব। আমরা তো বেকার হয়ে গেলাম। শুধু আমি না, অনেক কোচ আছেন, যারা শুধু মাত্র এই আয় থেকেই পরিবার চালান। আমার মনে হয় এই মানবিক দিকটা দেখা দরকার।’- বলছিলেন বিপ্লব।
করোনার কারণে দেশে গত ২৪ মার্চ প্রিমিয়ার ফুটবল লিগসহ সব ধরনের ফুটবল অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপর থেকেই ঘরবন্দী ফুটবলার-কোচরা। সময় যত গড়াচ্ছিল ফের ফুটবল মাঠে গড়ানো নিয়ে বাড়ছিল অনিশ্চয়তা।
তবে ক্লাবগুলো মৌসুম বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছিল আগে থেকেই। বাফুফে যে সেই পথেই হাঁটতে যাচ্ছে, পরিষ্কার ছিল সেটিও।
অনেক ক্লাব তো বিদেশিদের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে চুক্তি চুকিয়ে ফেলেছে আগেই। বিদেশিরা মাসিক বেতনের ভিত্তিতেই চুক্তিবদ্ধ হন ক্লাবের সঙ্গে। দেশি ফুটবলাররা অবশ্য চুক্তির একটা বড় অংশ নিয়ে নেন শুরুতে।
মৌসুম বাতিল হওয়ায় ফুটবলারদের সঙ্গে ক্লাবের এই চুক্তি, আর্থিক লেনদেনের বিষয়টিও বড় হয়ে দেখা দিতে পারে। যা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে গতকাল বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেছেন, প্রয়োজনে এনিয়ে আলাদা মিটিং করে সিদ্ধান্ত নেবে বাফুফে।
আর নতুন মৌসুম সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে শুরুর পরিকল্পনার কথা বললেও সবকিছু যে করোনা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে, মনে করিয়ে দেন সেটিও।
গোলকিপিং কোচ বিপ্লব ক্লাবের সঙ্গে মাসিক বেতন ভিত্তিক চুক্তি করলেও করোনায় ফুটবল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এপ্রিল ও মে মাসের কোনো বেতন পাননি। এখন মৌসুম বাতিল বলে ক্লাবও ‘না’ বলে দিলে অথৈ জলে পড়তে হবে বলে জানান সাবেক এই ফুটবলার।
তবে বিপ্লবের আশা ক্লাব অন্তত আত্মঘাতী কোনো সিদ্ধান্তে যাবে না। কোচদের টিকিয়ে রাখতে সংশ্লিষ্টরা ভাববেন, এমনটাই দাবি বিপ্লবের।
