মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মোটরসাইকেল ও টমটমের রাস্তায় সাইড দেওয়ার মতো তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে বিরোধে এক বাড়িতে হামলা চালিয়ে ছয়জনকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে।
সোমবার রাত ৯টায় কমলগঞ্জ সদর ইউপির উত্তর রাজটিলা গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।
উত্তর রাজটিলা গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসক আশুতোষ সিংহের সহকারী মীর হোসেন (৩২) তার এক ছেলেকে নিয়ে মোটরসাইকেলে সোমবার সন্ধ্যার পূর্বে বাড়ি ফিরছিলেন। কমলগঞ্জ সদর ইউপি কার্যালয়ের সামনে রাস্তায় সাইড দেওয়া নিয়ে এক টমটম চালকের সাথে বাকবিতণ্ডা হলে টমটম চালক সানুর মিয়া (৩২) মারধর করে মীর হোসেনকে রক্তাক্ত জখম করে।
এ ঘটনায় আহত মীর হোসেন কমলগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। থানায় এ অভিযাগ করায় রাত ৯টায় টমটম চালক সানুর মিয়া, তার দুই ভাই শাহাব উদ্দীন ও মনু মিয়ার নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ দল দা ও খুর নিয়ে মীর হোসেনের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালায়।
এ সময় হামলাকারীদের দা ও খুরের কোপে মীর হোসেন (৩২), তার ভাই আমজদ মিয়া (৩৫), আক্কাস মিয়া (২৮) তাদের মা মিনু বেগম (৫৫) ক্ষতবিক্ষতভাবে আহত হন। এ সময় তাদের উদ্ধারে এসে বালিগাঁওর বশির মিয়ার ছেলে আজাদ মিয়া ও রাজটিলা গ্রামের ছইদ মিয়ার ছেলে ইয়াছিন মিয়া আহত হয়েছেন।
গ্রামবাসীরা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সেখান থেকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী গ্রামবাসীরা জানায়, দায়ের ও খুরের কোপে মীর হোসেন জখম হন বেশি।
তাছাড়া খুরের টানে মীর হোসেনর মা মিনু বেগমের একটি অঙ্গ (স্তন) প্রায় পুরোপুরি কেটে গেছে।
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ থানার ওসি আরিফুর রহমান দেশ রূপান্তরকে জানান, খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। গভীর রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে হামলায় জড়িত হোসেন মিয়ার ছেলে মোজাহিদ মিয়া (১৮), আব্দুল বারীর ছেলে বায়েজীদ মিয়া (২০), নূর মিয়ার ছেলে শাহাব উদ্দীন (২৫) ও কাশেম মিয়ার ছেলে নুর মিয়াকে (৫০) আটক করা হয়েছে। বাকি প্রধান হামলাকারীদের আটকের চেষ্টা চলছে।
