বাণিজ্য সহায়ক পরামর্শক কমিটির সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী

বিনিয়োগ বাড়াতে টাস্কফোর্স গঠনের তাগিদ

আপডেট : ২১ মে ২০২০, ০৮:১৪ এএম

কভিড-১৯ পরবর্তী পরিবর্তিত বিশ্ববাণিজ্যে নতুন সুযোগ এনেছে। চলমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে জাপান চীন থেকে তাদের বিনিয়োগ অন্য দেশে স্থানান্তরের কথা বলছে। এতে করে বাংলাদেশের জন্য একাট সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ জন্য বাংলাদেশকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। দ্রুত তালিকা তৈরি করে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পলিসি ও সুযোগ সুবিধা ও সম্ভাবনা তুলে ধরতে হবে। প্রয়োজনে এজন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন করা যেতে পারে বলে মনে করেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা।

গতকাল বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সার্বিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংμান্ত বিষয়ে ‘বাণিজ্য সহায়ক পরামর্শক কমিটির’ ৭ম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন এমপি, এবং অনলাইনে সংযুক্ত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন এমপি, এবং প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান, এফবিসিসিআই-এর সাবেক সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বিজিএমইএর প্রেসিডেন্ট ড. রুবানা হক, এনবিআরএর চেয়ারম্যান, পারাষ্ট্র সচিব, শিল্প সচিব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের প্রতিনিধি।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, কভিড-১৯ পরবর্তী পরিবর্তিত বিশ্ববাণিজ্যে নতুন সুযোগ এনেছে। বাংলাদেশ বিশ্ববাণিজ্য প্রতিযোগিতায় অনেক এগিয়ে গেছে। বিশ্বের বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগের নতুন স্থান সন্ধান করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ১০০টি স্পেশাল ইকোনমিক জোনে বিশ্বের অনেক দেশ ও প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগের জন্য ইতিমধ্যে এগিয়ে এসেছে। চলমান বিশ্বপরিস্থিতিতে জাপান চীন থেকে তাদের বিনিয়োগ অন্য দেশে স্থানান্তরের কথা বলছে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এতে করে বাংলাদেশের জন্য একাট সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এজন্য বাংলাদেশকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। বাণিজ্য সহজীকরণ এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বিশ্ববাসীকে জানাতে হবে। বিনিয়োগকারীরা ঝামেলামুক্ত বিনিয়োগের পরিবেশ চান। বিশ্বের সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের তালিকা তৈরি করে তাদের কাছে বাংলাদেশে বিনিয়োগ পলিনি এবং সুযোগ-সুবিধাগুলো তুলে ধরতে হবে। ডাইরেক্ট ফরেন ইনভেস্টমেন্ট (এফডিআই)-এর জন্য বাংলাদেশের সামনে সুযোগ এসেছে, এ সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে। বাংলাদেশকে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

অনলাইনে সংযুক্ত হয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন বলেন, বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের দুটি খাত একটি রপ্তানি অপরটি রেমিটেন্স। চলমান পরিস্থিতিতে তৈরি পোশাক μেতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে μয় আদেশ বাতিল না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। অনেক দেশ ইতিমধ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে μয় আদেশ বাতিল করবে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে ওষুধ আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের যাতে থাকা, খাওয়া ও চিকিৎসার কোনো সমস্যা না হয়, সেজন্য অনুরোধ জাননো হয়েছে। এ দায়িত্ব পালনের নিশ্চয়তা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো। সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করলে বাংলাদেশে বিনিয়োগ আসবে এবং রপ্তানিও অনেক বাড়বে।

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, দেশে শিল্প-কলকারখানা স্থাপনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগবান্ধব নীতি গ্রহণ করেছে। আমাদের বিনিয়োগ পলিসি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জানাতে হবে। আমরা সবধরনের সহযোগিতা করার জন্য প্রস্তুত। দেশে শিল্পকারখানা গড়ে উঠলে কর্মসংস্থান বাড়বে।

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বাংলাদেশের সামনে সুযোগ এসেছে। সময় নষ্ট না করে এ সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে। দ্রুত তালিকা তৈরি করে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগযোগ করে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পলিসি ও সুযোগ-সুবিধা ও সম্ভাবনা তুলে ধরতে হবে। প্রয়োজনে এজন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন করা যেতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত