সংবাদ সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী

আম্পানে পৌনে ২ লাখ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি

আপডেট : ২২ মে ২০২০, ০৫:২৩ এএম

ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’-এর তাণ্ডবে দেশে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৭ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক।

গতকাল বৃহস্পতিবার অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এসব জমির বিভিন্ন ফসলের পাঁচ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতি হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ে আম, লিচু, কাঁচা তরকারির বেশি ক্ষতি হয়েছে এবং বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে সামান্য। তবে আগাম তথ্য পাওয়ায় কৃষকরা দ্রুত ফসল ঘরে তুলতে পেরেছেন। কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৫ মে আমরা জানতে পারি ঘূর্ণিঝড় আম্পান আসছে। ফলে আমরা আগে থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পেরেছিলাম। তাই ক্ষতির পরিমাণটা অনেকাংশে কম হয়েছে। এছাড়া অধিকাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছিল। তবে এরপরও দেশের ৪৬ জেলায় ১ লাখ ৭৬ হাজার ৭ হেক্টর জমির ফসল বিভিন্ন হারে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৭ থেকে ৮ দিন আগে এই ঝড় হলে কৃষিতে আরও বেশি ক্ষতি হতো।’ তিনি বলেন, ‘যতটুকু ক্ষতি হবে বলে আমরা ধারণা করেছিলাম তার থেকেও কম ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত শাকসবজি ও মসলা চাষিদের তালিকা প্রণয়ন করে তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আমন মৌসুমে বিনামূল্যে সার, বীজ ও নগদ সহায়তাসহ বিভিন্ন প্রণোদনা প্রদান করা হবে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত ফল ও পান চাষিদের মাত্র ৪ শতাংশ সুদে কৃষিঋণের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

ড. রাজ্জাক জানান, হাওরে শতভাগ ও সারা দেশে ৭২ শতাংশ বোরো ধান কেটে কৃষকরা ঘরে তুলতে পেরেছেন। ফলে ক্ষতির পরিমাণ সামান্য, যা আমাদের খাদ্য উৎপাদনে তেমন প্রভাব পড়বে না। পটুয়াখালীতে ৩২০০ হেক্টর ধান হয়, তারমধ্যে ২৭০০ হেক্টর ঘরে তোলা শেষ। তবে এই এলাকায় প্রায় দেড় লাখ হেক্টর জমিতে মুগডাল আবাদ হয়। পটুয়াখালীর সব ডাল ঘরে তোলা সম্ভব হয়েছে। ভোলাতে কিছু ধানের ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষতি হয়েছে সবচেয়ে বেশি আমের। সাতক্ষীরায় চার হাজার হেক্টর জমিতে আম জন্মায়; তারমধ্যে ঝড়ে তিন হাজার হেক্টর জমির আম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব আম স্থানীয়দের ত্রাণ হিসেবে দেওয়া যায় কি না সে বিষয়ে চিন্তা করা হচ্ছে।

উপকূলীয় ১৭ জেলায় ক্ষয়ক্ষতি তুলে ধরে কৃষিমন্ত্রী বলেন, বোরো ৪৭ হাজার হেক্টরের মধ্যে শতকরা ১০ ভাগ ক্ষতি হয়েছে। ভুট্টা ৩ হাজার ২৮৪ হেক্টরের মধ্যে ৫ ভাগ ক্ষতি হয়েছে। পাট ৩৪ হাজার ১৩৯ হেক্টরের মধ্যে ক্ষতির পরিমাণ ৫ ভাগ। পান ১৫ ভাগ। কোথাও ২০ ভাগ ক্ষতি হয়েছে। সবজি ৪১ হাজার ৯৬৭ হেক্টর জমির মধ্যে ক্ষতি হয়েছে ২৫ ভাগ। বাদাম ১ হাজার ৫৭৫ হেক্টর জমির মধ্যে ২০ ভাগ ক্ষতি হয়েছে। ১১ হাজার ৫০২ হেক্টর জমির মধ্যে ক্ষতি হয়েছে ২০ ভাগ। আম ৭ হাজার ৩৮৪ হেক্টর জমির মধ্যে ক্ষতি হয়েছে ২০ ভাগ। ৬ হাজার ৬০৪ হেক্টর জমির কলার মধ্যে ক্ষতি হয়েছে ১০ ভাগ। পেঁপে ১ হাজার ২৯৭ জমির মধ্যে ক্ষতি হয়েছে ৫০ ভাগ। মরিচ ৩ হাজার ৩০৬ হেক্টর জমিতে ক্ষতি হয়েছে ৩০ ভাগ। সয়াবিন নোয়াখালী এলাকায় ৬৪০ হেক্টর জমির ৫০ ভাগই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মুগডাল ৭ হাজার ৯৭৩ হেক্টর এরমধ্যে রাজশাহীতে ৫০ ভাগ ক্ষতি হয়েছে। আউশের আবাদ হয়েছে সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর জমিতে। এর ক্ষতি এখনো নিরূপণ করা হয়নি।

মন্ত্রী বলেন, বারবার এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে শিক্ষা নিয়ে মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের এসব মোকাবিলায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সেজন্য খুব বেশি ক্ষতি হয়নি। তিনি জানান, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তরা ব্লকে ব্লকে গিয়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করবেন। দুই-তিন দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। টাকার অঙ্কে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে কৃষকদের ক্ষতি পোষানোর ব্যবস্থা করা হবে, তাদের প্রণোদনা দেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত