নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মো. রাজন খান (৩০) নামে এক যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে দীর্ঘ ১৬ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ের পর রাজনের মৃত্যু হয়।
এর আগে গত ১৩ মে দুর্বৃত্তরা রাজনকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে উপজেলার তারাব পৌরসভার রূপসী কলাবাগান এলাকায় ডেকে নিয়ে গলা কেটে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যায়।
নিহত রাজন সোনারগাঁও উপজেলার আমগাওঁ এলাকার তোফাজ্জল হোসেন ছেলে।
রূপসী কলাবাগান এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে টাকা পয়সা নিয়ে লেনদেনের জের ধরে রাজনকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে নিহতের পরিবার।
নিহতের মামা আলতাফ কাজী দেশ রূপান্তরকে বলেন, রূপগঞ্জ উপজেলার কাজীপাড়া এলাকায় রাজনের মামার বাড়ি। সে সুবাদে তার অনেকের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠে। সে রূপসী এলাকায় একটি সমিতি পরিচালনা করতো। গত ১৩ মে সন্ধ্যায় নিজ এলাকা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ইফতার করাকালীন একটি মুঠোফোনের মাধ্যমে রাজনকে কেউ বা কারা ডেকে নিয়ে যায়। পরে রাতে রূপগঞ্জ উপজেলার কলাবাগান এলাকায় একটি নির্জন রাস্তার পাশে এক রিকশা চালক ও পথচারী রাজনকে গলা কাটা অবস্থায় রাস্তার পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় রাজন রিকশা চালক ও পথচারীকে জানায় দুর্বৃত্তরা তাকে ছুরি দিয়ে গলায় আঘাত করে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে গেছে। রিকশা চালক ও পথচারী রাজনের ফোন থেকে পরিবারের লোকজনকে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানান।
পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরিবারের লোকজন রাজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় প্রথমে স্থানীয় লাইফ এইড হাসপাতাল নিয়ে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি নিয়ে যান। সেখানে রাজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ওইদিনই কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পাঠান।
এ ঘটনায় গত ১৫ মে নিহতে বাবা তোফাজ্জল হোসেন বাদী রূপগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দেন।
এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ ধরনের ঘটনার কথা শুনেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত মোতাবেক অপরাধীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।
