পটুয়াখালীতে নারী ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ত্রাণ অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট : ০১ জুন ২০২০, ০২:৫৫ পিএম

ত্রা বিতরণসহ মাতৃত্বকালীন ভাতার তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম, উৎকোচ গ্রহণসহ স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে পটুয়াখালীর মহিপুর থানার সদর ইউনিয়নের নারী সদস্য বিউটি বেগমের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে কয়েকবার মানববন্ধনসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে আবেদন করেছে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শতাধিক নারী-পুরুষ। এ সময় সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মহিপুর থানার সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য নিমাই চন্দ্র দাসের পরলোক গমনের পর ওই ওয়ার্ডের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন ৪, ৫, ৬নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের সদস্য বিউটি বেগম।

এ সুযোগে ত্রাণ বিতরণসহ মাতৃত্বকালীন ভাতার তালিকা প্রণয়নে স্বেচ্ছাচারিতা শুরু করেন বিউটি বেগম। করোনা পরিস্থিতিতে সরকারের দেয়া ত্রাণ বিতরণে ওয়ার্ড দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিসহ কাউকে তোয়াক্কা করছেন না বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

নারী ইউপি সদস্য বিউটি বেগমের এমন অনিয়মের বিরুদ্ধে দু’দফা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ভুক্তভোগীরা। এসময় মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরেন।

ছায়া রানী জানান, তার ভাতিজিকে মাতৃত্বকালীন ভাতা দেওয়া আশ্বাসে তার কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা নিয়েও নাম তালিকাভুক্ত করেনি। বরং বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে ইউপি সদস্য বিউটি বেগম।

সাবিনা আক্তার জানান, মাতৃত্বকালীন ভাতা দেওয়ার জন্য তার কাছ থেকে ৮ হাজার টাকা নিয়েছেন বিউটি বেগম। কিছুদিন পর তালিকা থেকে তার নাম বাদ দিয়ে দেয়। পরবর্তীতে উপজেলা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনের মাধ্যমে পুনরায় তার নাম তালিকাভুক্ত করেন।

লক্ষী রানী, স্বামী পরিত্যাক্তা স্বরজু বালা বলেন, মানুষের বাসা-বাড়ীতে কাজ করে সন্তান নিয়ে জীবিকা র্নিবাহ করি। ত্রানের জন্য বিউটি মেম্বরের হাতে-পায়ে ধরেও পাইনি।

ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ওয়ার্ড ত্রাণ কমিটির আহ্বায়ক সোহরাব হাওলাদার বলেন, ত্রাণের তালিকা প্রণয়নের ওয়ার্ড ত্রাণ কমিটির সাথে কোনো ধরনের সমন্বয় ছাড়াই বিউটি বেগম ইচ্ছেমত তালিকা প্রণয়নয় করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিউটি বেগম বলেন, ক’দিন বাদেই মহিপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। জনপ্রিয়তায় ইর্ষান্বিত হয়ে প্রতিপক্ষরা আমাকে জনসাধারণের সামনে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এ ষড়যন্ত্র করছে। ত্রাণ নিয়ে অনিয়মের কারণে আমি বাদী হয়ে ইতিপূর্বে জনস্বার্থে মামলা করেছিলাম। সেই মামলার আসামি পক্ষ এ ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে কল কাঠি নাড়ছে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মো. শহিদুল হক বলেন, মহিপুরের ইউপি সদস্য’র বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। পিআইওকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত