মানব পাচার

জামিন নামঞ্জুর এমপি পাপুল রিমান্ডে

আপডেট : ০৯ জুন ২০২০, ০৬:০৬ এএম

মানব পাচার ও অর্থ পাচারের অভিযোগে কুয়েতে বাংলাদেশের সংসদ সদস্য শহীদুল ইসলাম পাপুলকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কুয়েতের রেসিডেন্স ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের আবেদনে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেয় কুয়েতের পাবলিক প্রসিকিউশন বিভাগ। কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গতকাল সোমবার দ্বিতীয় দিনের মতো এমপি পাপুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে দূতাবাস কুয়েত সরকারকে চিঠিও দিয়েছে। রেসিডেন্স ইনভেস্টিগেশন বিভাগ শনিবার রাতে মুশরেফ এলাকা থেকে আটক করে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের এমপি পাপুলকে গ্রেপ্তার করে। রবিবার ৫ জন প্রবাসী বাংলাদেশির সাক্ষ্যগ্রহণের পর পাপুলের জামিন আবেদন নাকচ করেছে আদালত। তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জিজ্ঞাসাবাদ করছে। 

গতকাল বিকেলে কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এস এম আবুল কালাম মোবাইল ফোনে দেশ রূপান্তরকে বলেন, তার বিরুদ্ধে এখন পূর্ণাঙ্গ আদালতে শুনানি হবে। আজ (সোমবার) কুয়েত পুলিশ আমাদের নতুন কোনো তথ্য দেয়নি।

তিনি বলেন, এ সম্পর্কে জানতে চেয়ে আমরা কুয়েত সরকারের কাছে রবিবারই চিঠি লিখেছি। এখন পর্যন্ত কোনো জবাব আসেনি।

কুয়েতে থাকা এক বাংলাদেশি শ্রমিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, কুয়েতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের অশান্তির জন্য দায়ী এমপি পাপুল। তার অব্যাহত শোষণ ও নির্যাতনের কারণে কুয়েতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের মধ্যে দফায় দফায় অসন্তোষ দেখা দেয়।

কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাসসহ বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মুদ্রা ও মানব পাচারের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে কুয়েতে গ্রেপ্তার বাংলাদেশি সাংসদ মো. শহীদুল ইসলাম পাপুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন প্রবাসী ৫ জন বাংলাদেশি। সাক্ষীদের সবাইকে কুয়েতে নিয়েছিলেন পাপুল। আদালতে তারা বলেছেন, কুয়েত আসার এজন্য তারা পাপুলকে ৩ হাজার কুয়েতি দিনার করে দিয়েছেন। এ ছাড়া প্রতি বছর আকামা নবায়নের জন্য দিয়েছেন ৩০০ দিনার বা তারও বেশি। 

স্থানীয় দৈনিক আরব টাইমস তাদের এক সংবাদে জানায়, বিচারকমণ্ডলী প্রবাসীদের বক্তব্য শুনেছেন। প্রতি বছর কুয়েতে তাদের অবস্থান নবায়ন করে নিতে এসব সাক্ষীর আসামিকে অর্থ প্রদানের বিষয়েও তারা অবহিত হয়েছেন।

এদিকে পাপুলকে কুয়েতে আটক করার ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক’ ও ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, সারা বিশ্ব যখন মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, এমন সময়ে সাংসদের আটকের খবর অনভিপ্রেত। বিদেশে গিয়ে একজন সাংসদ অপরাধমূলক কর্মকা-ে জড়াবেন তা একেবারেই অনভিপ্রেত। অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা এতে লজ্জিত।

পাপুল ২০১৮ সালে লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার স্ত্রী সেলিনা ইসলামও সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত