করোনা পরিস্থিতির মধ্যে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা চলমান অনলাইন ক্লাস বর্জন অব্যাহত রাখবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে এর আগে তারা ১২ দফা শর্ত দেন প্রশাসনকে। সেগুলো না মানায় অনলাইন ক্লাস বর্জনে অনড় থাকে তারা।
বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে শাহরিয়ার আবেদীন, মিনহাজুল আবেদীন, সৈয়দ মাহিম রিকথী, শারিকা শারমীন প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে ৭ মে অনলাইন ক্লাসের বিভিন্ন সংকট তুলে ধরে ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিলেন শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা। পরে ১৭ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত অনলাইন শিক্ষাকার্যক্রম স্থগিত রাখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে আবার ১ জুন থেকে অনলাইনে ক্লাস শুরু করে প্রশাসন। এর প্রেক্ষিতে ৫ জুন প্রশাসনকে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে ১২ দফা দাবি পূরন করার শর্ত বেধে দেন শিক্ষার্থীরা।
তারা জানান, সুবিধাবঞ্চিত ও সমস্যাগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে এবং বৈষম্য দূরীকরণের লক্ষ্যে আমরা কিছু দাবি-দাওয়া উত্থাপন করি। উত্থাপিত দাবিগুলো তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রশাসন মেনে না নিলে পূর্বের অবস্থানে অর্থাৎ অনলাইন শিক্ষাকার্যক্রম বয়কটে অনড় থাকার ঘোষণা দিই।
তারা আরো জানান, ইতোমধ্যে আমাদের বেঁধে দেওয়া তিন কার্যদিবস অতিবাহিত হলেও প্রশাসন থেকে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায় নি। এ বিষয়ে শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের চাহিদার ব্যাপারে উদাসীন রয়েছে প্রশাসন। এ জন্য আমরা সব ধরনের অনলাইন শিক্ষাকার্যক্রম বর্জন করে আমাদের আগের অবস্থানে ফিরে যাচ্ছি। একই সঙ্গে আমাদের চলমান অনলাইন আন্দোলনের সম্মিলিত সর্বশেষ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার মো. ইশফাকুল হোসেন বলেন, এটা একাডেমিক কাউন্সিলের বিষয়, আমার কিছু বলার নেই। শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়ার বিষয়ে একাডেমিক কাউন্সিল জানবে বা জেনেছে। এ বিষয়ে তারা সিদ্ধান্ত নেবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. রাশেদ তালুকদার বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারছি না। কারণ শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়ার কোনো কপি অফিসিয়ালভাবে আমার কাছে আসেনি। এ বিষয়ে প্রশাসন থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে কি না তাও আমার জানা নেই।
অন্য দিকে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
