বাজেট ২০২০-২১

অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার প্রক্রিয়া সহজ হচ্ছে

আপডেট : ১১ জুন ২০২০, ০৫:২৭ এএম

২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার প্রক্রিয়া সহজ হচ্ছে। করোনার ক্রান্তিকালে দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও অপ্রদর্শিত অর্থ অর্থনীতির মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে এই উদ্যোগ নিচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এক্ষেত্রে আবাসন ও পুঁজিবাজারে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। নানা কারণে বিধ্বস্ত পুঁজিবাজার ও আবাসন খাত চাঙ্গা করতে আগামী অর্থবছরের জন্য এ সুবিধা দেওয়া হবে। এছাড়া অর্থপাচার ঠেকাতে নেওয়া হবে উদ্যোগ। আজ বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে এই বাজেট প্রস্তাবনা তুলে ধরবেন।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রতি বর্গমিটার হিসেবে নির্দিষ্ট অঙ্কের কর দিয়ে আয়কর রিটার্নে দেখানো নেই এমন অপ্রদর্শিত বা কালো টাকায় কেনা জমি-ফ্ল্যাট বৈধ করা যাবে।  একই সঙ্গে শর্তসাপেক্ষে পুঁজিবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ থাকছে। এছাড়া পণ্য আমদানিতে মিথ্যা ঘোষণা রোধে বাড়তি করারোপের বিধান যুক্ত করা হচ্ছে। মূলত আন্ডার ইনভয়েসিং-ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে অর্থপাচার রোধে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, শর্তসাপেক্ষে ১০ শতাংশ কর দিয়ে শেয়ার, স্টক, মিউচুয়াল ফান্ড, বন্ড, ডিবেঞ্চারে বিনিয়োগ করতে পারবেন  যেকেউ। এছাড়া অপ্রদর্শিত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, নগদ টাকা, ব্যাংক আমানত, সঞ্চয়পত্র রিটার্ন প্রদর্শনের মাধ্যমে বৈধ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। জমি-ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে এলাকাভেদে বর্গমিটারপ্রতি নির্দিষ্ট হারে কর দিয়ে বৈধ করা যাবে। নগদ টাকা, ব্যাংক আমানত, সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে মোট অঙ্কের ১০ শতাংশ কর দিয়ে বৈধ করার সুযোগ রাখা হচ্ছে। এজন্য অর্থবিলের মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশে নতুন ধারা যুক্ত করা হয়েছে।

নতুন ধারা অনুযায়ী আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) তালিকাভুক্ত স্টক, শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড এবং সরকারি বন্ড ও ডিভেঞ্চারে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগ করা যাবে। তবে শর্ত হচ্ছে, তিন বছরের জন্য এই বিনিয়োগ করতে হবে। তিন বছর আগে বিনিয়োগের টাকা উত্তোলন করলে করদাতাকে সাধারণ হারে কর পরিশোধ করতে হবে।

অন্যদিকে এলাকাভেদে নির্দিষ্ট পরিমাণ কর দিয়ে অপ্রদর্শিত জমি-ফ্ল্যাট আয়কর রিটার্নে দেখানোর মাধ্যমে বৈধ করা যাবে। গুলশান, বনানী, বারিধারা, মতিঝিল ও দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকার জন্য প্রতি বর্গমিটার জমির জন্য ২০ হাজার টাকা কর দিতে হবে। তাহলে জমির আয়ের উৎস সম্পর্কে আয়কর বিভাগ আর প্রশ্ন করবে না। ধানম-ি আবাসিক এলাকা, ডিওএইচএস, মহাখালী, লালমাটিয়া হাউজিং সোসাইটি, উত্তরা মডেল টাউন, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, সিদ্ধেশ্বরী, কারওয়ান বাজার, বিজয়নগর, ওয়ারী,  সেগুনবাগিচা, নিকুঞ্জ, চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ, খুলশী, আগ্রাবাদ ও নাসিরাবাদ এলাকার জন্য ১৫ হাজার ৫০০ টাকা। অন্য সিটি করপোরেশন এলাকার জমির ক্ষেত্রে প্রতি বর্গমিটার ৫ হাজার টাকা, জেলা শহরের পৌরসভায় এলাকায় ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং অন্য এলাকার জন্য ৫০০ টাকা।

এদিকে গুলশান মডেল টাউন, বনানী, বারিধারা, মতিঝিল ও দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকায় ২০০ বর্গমিটারের কম আয়তনের ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে প্রতি বর্গমিটারের জন্য ৪ হাজার টাকা কর দিয়ে বৈধ করা যাবে। ফ্ল্যাটের আয়তন এর বেশি হলে প্রতি বর্গমিটারের জন্য ৬ হাজার টাকা কর দিতে হবে। ধানম-ি আবাসিক এলাকা, ডিওএইচএস, মহাখালী, লালমাটিয়া হাউজিং সোসাইটি, উত্তরা মডেল টাউন, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট, সিদ্ধেশ্বরী, কারওয়ান বাজার, বনশ্রী, বিজয়নগর, ওয়ারী, সেগুনবাগিচা, নিকুঞ্জ, চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ, খুলশী, আগ্রাবাদ ও নাসিরাবাদ এলাকায় ২০০ বর্গমিটারের কম আয়তনের ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে প্রতি বর্গমিটারের জন্য ৩ হাজার টাকা এবং এর চেয়ে বেশি আয়তনের ফ্ল্যাটের জন্য সাড়ে ৩ হাজার টাকা কর ধার্য করা হয়েছে। ঢাকা সিটি করপোরেশনের অন্য সব এলাকা এবং অন্য সিটি করপোরেশনে ১২০ বর্গমিটার ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে প্রতি বর্গমিটারের জন্য ৭০০ টাকা, ১২০ থেকে ২০০ বর্গমিটারের ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে ৮৫০ টাকা এবং ২০০ বর্গমিটারের চেয়ে বেশি আয়তনের ফ্ল্যাটের জন্য ১ হাজার ৩০০ টাকা কর নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলা শহরের পৌরসভা এলাকায় একই আয়তনবিশিষ্ট ফ্ল্যাটের জন্য যথাক্রমে ৩০০, ৪৫০ এবং ৬০০ টাকা কর নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের অন্য সব এলাকার  ক্ষেত্রে একই আয়তনের ফ্ল্যাটের জন্য ২০০, ৩০০ ও ৫০০ টাকা কর ধার্য করা হয়েছে। এছাড়া নগদ টাকা, ব্যাংক আমানতসহ সব ধরনের আমানত, সঞ্চয়ী হিসাব, সঞ্চয়পত্র  বৈধ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। মোট অর্থের ১০ শতাংশ পরিশোধ করে আগে থেকে কেনা সঞ্চয়পত্র বা ব্যাংকের জমানোর অর্থ বৈধ করা যাবে।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে ৩ পদ্ধতিতে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ (কালো টাকা সাদা) করা যায়। আয়কর অধ্যাদেশের ১৯ (ই) ধারা অনুযায়ী নির্ধারিত করের অতিরিক্ত ১০ শতাংশ জরিমানা দিয়ে যেকোনো খাতেই কালো টাকা বিনিয়োগ করা যায়।

একই সঙ্গে অর্থপাচার ঠেকানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আমদানি-রপ্তানিতে আন্ডার ইনভয়েসিং-ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে অর্থপাচার রোধে আয়কর অধ্যাদেশে নতুন ধারা (১৬ এইচ) যুক্ত করা হচ্ছে। এ ধারা অনুযায়ী আয়কর রিটার্ন পর্যালোচনায় ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আন্ডার ইনভয়েসিং বা ওভার ইনভয়েসিং ধরা পড়লে গোপনকৃত বা পাচারকৃত অর্থের ৫০ শতাংশ জরিমানা আদায় করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত