কোটি টাকার জলমহাল ১৮ লাখে ইজারা

মাছ চাষ শুরু করেই দিল অনিবন্ধিত সমিতিগুলো

আপডেট : ১২ জুন ২০২০, ০৭:১১ এএম

সব ধরণের আবেদন-নিবেদন আর নীতিমালা উপেক্ষা করে মাছ চাষ শুরু করে দিয়েছে ১১টি অনিবন্ধিত সমিতি। এতে বঞ্চিত হয়েছে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার প্রকৃত মৎস্যজীবী সমিতিগুলো। জলমহাল নীতিমালায় আছে, কোনো ব্যক্তি বা কোনো অনিবন্ধিত সমিতি সরকারি জলমহাল ব্যবস্থাপনায় আবেদন করতে পারবে না। তারপরও যোগসাজশ এবং নীতিমালা অমান্য করে উপজেলা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা কমিটি গত ৫ মে উপজেলার ৬০টি সরকারি জলমহাল (পুকুর) ১৬টি অনিবন্ধিত সমিতির কাছে ইজারা দেয়। ইতিমধ্যে এসব অনিবন্ধিত সমিতি টাকা জমা দিয়ে মাছ চাষ শুরু করেছে।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও মৎস্যজীবী সমিতি সূত্রে জানা গেছে, ২০ একর পর্যন্ত তিন বছরের জন্য জলমহাল ইজারার বিষয়ে ১০ মার্চ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে ২৪ মার্চ পর্যন্ত ১৩৬টি আবেদন জমা পড়ে। জলমহালের নিকটবর্তী প্রকৃত মৎস্যজীবী সমিতিকে চিহ্নিত করতে ২৫ মার্চ পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি করে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি রামকৃষ্ণ বর্মণ। তদন্ত শেষে এই কমিটি ২২ এপ্রিল প্রতিবেদন জমা দেয়।

পরে গত ৫ মে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে ৬০টি জলমহাল ১৮ লাখ ৬২ হাজার টাকায় ইজারা দেয় গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন। এই ইজারাপ্রাপ্তদের মধ্যে ১৬টি সমিতি ২৫ মার্চ সমাজসেবা অধিদপ্তরে নিবন্ধিত হয়। অথচ দরপত্র জমাদানের শেষ দিন ছিল ২৪ মার্চ।

আলীগ্রাম মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি শ্রী সুকমল চন্দ্র ও রোয়াগাঁও মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি সানোয়ার হোসেনসহ কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, আপিল নিষ্পত্তির পরও ১২টি জলমহাল অনিবন্ধিত সমিতিগুলোর আওতায় আছে। সেই জলমহালগুলোর ইজারা বাতিল করা হয়নি।  যোগসাজশের অভিযোগ অস্বীকার করে গোবিন্দগঞ্জের ইউএনও রামকৃষ্ণ বর্মণ বলেন, ভুল হোক বা সঠিক হোক উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই ঠিক। এ বিষয়ে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক আবদুল মতিন বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ইজারা দেওয়া কোনো জলমহালের বিরুদ্ধে আপিল না করা ছাড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নিয়ম নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত