মেয়ের হাতে মুঠোফোন দেখে নির্যাতনে মৃত্যু, মা গ্রেপ্তার

আপডেট : ১৫ জুন ২০২০, ০২:৫৮ পিএম

কিনে না দেবার পরও মেয়ে ফাতেমার (১৪) কাছে মুঠোফোন দেখতে পান মা। কোথা থেকে এলো মুঠোফোন এর সদুত্তর না পেয়ে নির্যাতন করতে থাকেন মেয়েকে।

একপর্যায়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে নির্যাতন করতে থাকলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে ফাতেমা।

এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার ছোট মাগুড়া গ্রামে।

নিহত ফাতেমা স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

ঘটনায় ফাতেমার চাচা  মো. আলম বাদী হয়ে মা রহিমা বেগমকে একমাত্র আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশ রহিমা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে।

নবাবগঞ্জ থানার ওসি অশোক কুমার চৌহান জানান, আটকের পর এলাকাবাসীর সামনে রহিমা বেগম পুলিশের কাছে ফাতেমাকে নির্যাতের কথা স্বীকার করে। রহিমা বেগম পুলিশকে জানায় গত শুক্রবার ফাতেমাকে নিয়ে তার মা পার্শ্ববর্তী পাঠানগঞ্জ গ্রামে নানির বাড়িতে বেড়াতে যান। সেখানে গিয়ে ফাতেমা তার এক বান্ধবীর বাসায় থাকার বায়না ধরে।  রহিমা বেগম বাধ্য হয়ে ফাতেমাকে রেখে আসেন। পরদিন ফাতেমা তার বাড়িতে যায়।

রবিবার বিকেলে বাড়িতে ফাতেমার কাছে একটি মুঠোফোন দেখতে পায়। মুঠোফোনটি কোথা থেকে পেয়েছে জানতে চাইলে নিশ্চুপ থাকে ফাতেমা। এ সময় রহিমা বেগম মুঠোফোনটি ফাতেমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে কাঠের একটি আলমিরাতে তালাবদ্ধ করে রেখে প্রতিবেশীর বাড়িতে বেড়াতে যান। সেখান থেকে সন্ধ্যায় বাড়িতে এসে কাঠের আলমিরার তালাটি ভাঙা এবং মুঠোফোনটিও খুঁজে পাননি। মুঠোফোনটির বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি ফাতেমা।

এতে রহিমা বেগম ক্ষিপ্ত হয়ে ফাতেমাকে নির্যাতন করতে থাকে। রহিমা বেগম নির্যাতনের এক পর্যায়ে ফাতেমার গলার ওড়না দিয়ে ফাঁস দেন। এতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে ফাতেমা। বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিবেশীরা রহিমা বেগমকে আটক করে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ খবর পেয়ে রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার এবং রহিমা বেগমকে আটক করে নিয়ে আসে।

বিরামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মিথুন সরকার জানান, আজ সোমবার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুরের এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেই সাথে গ্রেপ্তার রহিমা বেগমকেও আদালতে পাঠানো হয়েছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত