চাঁদপুর-ঢাকা রুটে অনিয়মিত লঞ্চ চলাচলে ভোগান্তিতে যাত্রীরা

আপডেট : ১৭ জুন ২০২০, ০২:২২ পিএম

চাঁদপুর-ঢাকা নৌপথে যাত্রী সংকটে অনিয়মিত হয়ে পড়েছে লঞ্চ চলাচল। ধারণ ক্ষমতার চার ভাগের এক ভাগ যাত্রীও মিলছে না। এমন পরিস্থিতিতে ইতোমধ্যে এই রুটের ১৫টি যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে মালিক পক্ষ। এতে করে ঘাটে এসে নির্ধারিত লঞ্চ না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন নিয়মিত যাত্রীরা।

যাত্রী সঙ্কট অব্যাহত থাকলে চাঁদপুর-ঢাকা নৌপথে আরও কিছু লঞ্চ চলাচল বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। এমন পরিস্থিতিতে কর্মসংস্থান হারানোর ভয়ে আছেন লঞ্চের কর্মচারীরা। যদিও বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছেন অচিরেই মালিক পক্ষের সাথে কথা বলে এই সমস্যার সমাধান করা হবে।

মহামারী করোনার প্রাদুর্ভাবে ৬২ দিন বন্ধ থাকার পর গত ৩১ মে থেকে  চাঁদপুর হতে লঞ্চ চলাচল শুরু হয়।

লঞ্চ চলাচলের প্রথম সপ্তাহে যাত্রীদের ব্যাপক চাপে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হয়। যাত্রীদের চাপ সামলাতে গিয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে বিপাকে পড়তে হয়। কিন্তু এক সপ্তাহ পরেই পাল্টে গেছে এই বন্দরের চিত্র। যাত্রী সংকটে অনিয়মিত হয়ে পড়েছে লঞ্চ চলাচল। এতে করে লঞ্চ না থাকায় ঘাটে এসে বিপাকে পড়তে হচ্ছে অনেক যাত্রীদের।

যাত্রী সংকটে রফ রফ কোম্পানির ৩টি লঞ্চ, সোনার তরীর ২টি লঞ্চ, ময়ূর কোম্পানীর ২টি লঞ্চ, জম জম কোম্পানীর ১টি লঞ্চ, তাকোয়া ও মিতালি ৭ নামক লঞ্চসহ  প্রায় ১৫টি লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে গিয়ে দেখা যায়, লঞ্চের জন্য অনেক যাত্রী পল্টুনে অপেক্ষা করছেন।

ঢাকাগামী যাত্রী ফয়সাল জানান, নির্ধারিত সিডিউল না মেনে লঞ্চের মালিক পক্ষ অনিয়মিত ভাবে লঞ্চ ছাড়ছে। লঞ্চ চালানো হবে না তা আগে থেকে না জানানোয় আমাদের বিপদে পড়তে হচ্ছে। ঘাটে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করা লাগছে ঢাকা যাওয়ার জন্য।

এতে করে আমাদের দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। লঞ্চ ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও হঠাৎ করেই তারা লঞ্চ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে সাধারণ যাত্রীদের লঞ্চঘাটে দাঁড়িতে থাকতে হচ্ছে। বিশেষ করে যারা পরিবার পরিজন নিয়ে যাত্রা করেন তাদের কষ্টের সীমা থাকে না।

এমভি প্রিন্স অব রাসেল-৩ এর সুপারভাইজার মো. রুহুল আমিন ও এমভি সোনার তরী-৫, লঞ্চের সুপারভাইজার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, লঞ্চে ধারণক্ষমতার চারভাগের একভাগ যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। এতে করে মোটা অংকের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে মালিকপক্ষকে। যাত্রী সংকটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ায় কর্মসংস্থান নিয়ে আতঙ্কিত লঞ্চের স্টাফরা।

এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলেও আরও লঞ্চ চলাচল বন্ধ যেতে পারে। তাই বাসসহ অন্যান্য গণপরিবহনের ন্যায় লঞ্চের ভাড়াও বৃদ্ধি করার জন্য আমরা সরকারের নিকট অনুরোধ জানাই।

এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএ এর চাঁদপুর জেলা বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা কাউসারুল আলম বলেন, করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়েছে লঞ্চগুলোতে। যাত্রী সংখ্যা কমে আসায় অনেক লঞ্চ মালিক তাদের লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখছেন। আমরা অচিরেই তাদের সাথে কথা বলে এই সমস্যা দূর করতে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

সাধারণ সময়ে চাঁদপুর থেকে রাজধানী ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, বরিশাল, ভোলাসহ দেশের বিভিন্ন রুটে অর্ধশতাধিক যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল করে থাকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত