গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র উদ্ভাবিত করোনা শনাক্তের অ্যান্টিবডি কিটের কার্যকারিতা নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) প্রতিবেদনের পর জাতীয় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে প্রতিষ্ঠানটি। গতকাল শুক্রবার গণস্বাস্থ্য থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী এ কথা জানান।
এর আগে গত ৩০ এপ্রিল গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে বিএসএমএমইউ বা আইসিডিডিআর,বিতে কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার অনুমতি দেয় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। এই কিট নিয়ে গত বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিএসএমএমইউ জানায়, করোনা উপসর্গের প্রথম দুই সপ্তাহে এই কিট ব্যবহার করে শুধু ১১ থেকে ৪০ শতাংশ রোগীর রোগ শনাক্তকরণ সম্ভব। তবে যেসব স্থানে প্রচলিত আরটি-পিসিআর পদ্ধতি চালু নেই, অথবা যাদের উপসর্গ থাকা সত্ত্বেও আরটি-পিসিআর নেগেটিভ এসেছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি কিছুটা সহায়ক।
এরপর বৃহস্পতিবার বিএসএমএমইউর প্রতিবেদনটি হাতে পেয়েছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। একই দিন বিএসএমএমইউ কর্র্তৃপক্ষ প্রতিবেদনটি ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে।
বিবৃতিতে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘এটা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। গণস্বাস্থ্যের নামকরণ করে দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু নিজেই। আবার বঙ্গবন্ধুর নামে নামকরণ করা আরেক প্রতিষ্ঠানের অর্থাৎ বিএসএমএমইউর বিশেষজ্ঞ দল গণস্বাস্থ্যের উদ্ভাবিত কিটের কার্যকারিতার প্রমাণ পেয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএসএমএমইউর কারিগরি কমিটি কর্র্তৃক গণস্বাস্থ্য আরএনএ বায়োটেক লিমিটেডের উদ্ভাবিত অ্যান্টিবডি কিটের সুপারিশের জন্য কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আশা করি, ঔষধ প্রশাসন জরুরিভাবে সার্বিক করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করবেন এবং অতি দ্রুত নিবন্ধন ও বিপণনের অনুমতি দেবেন।’
জাফরুল্লাহ চৌধুরী স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কিট কত শতাংশ কার্যকর তা বৈজ্ঞানিক আলোচনার বিষয়। কিটের উন্নয়ন একটি চলমান বিষয়। এ বিষয়ে আমরা বিএসএমএমইউর ক্রমাগত সহায়তা চাইছি। তারা অ্যান্টিজেন কিটটি দ্রুত পরীক্ষা করে দিক।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘সতর্ক থাকতে হবে লালফিতা যাতে ক্ষণকাল হরণ করতে না পারে। গণস্বাস্থ্য এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে জাতির এক মহাদুর্যোগের দিনে ১৭ কোটি মানুষের জীবনে সরাসরি একটি সুসংবাদ বয়ে এনেছে। সবারই অভিনন্দন প্রাপ্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিশ্চয়ই একটা আশা নিয়ে গণস্বাস্থ্যের জন্য কতগুলো বিশেষ ব্যবস্থা নিয়ে দিয়েছিলেন, সেটাও ফলপ্রসূ হয়েছে।’
ডা. জাফরুল্লাহ বিবৃতিতে বলেন, ‘পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পেরেছি ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান বলেছিলেন, ইতিবাচক প্রতিবেদন পেলে তিনি নিবন্ধন দেবেন। এমনকি বিশেষজ্ঞ কমিটিতেও পাঠাবেন না। এটাই যৌক্তিক। আমরা এখন ঔষধ প্রশাসনের দ্রুত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়।’
