অস্ত্রের মুখে বাড়ি থেকে মাদরাসা ছাত্রীকে অপহরণ

আপডেট : ২০ জুন ২০২০, ০৮:৫১ পিএম

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার চরশিমুলিয়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে স্বপ্না (১৫) নামে এক মাদরাসা ছাত্রীকে অপহরণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় মাগরিব নামাজের সময় অস্ত্রের মুখে চোখ ও মুখ বেঁধে ওই ছাত্রীকে ট্রলারে করে তুলে নিয়ে যায় দুস্কৃতকারীরা। এ সময় ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়েছে বলে ছাত্রীর পরিবারের লোকজন দাবী করেছে।

চরশিমুলিয়া গ্রামের শহীদ বেপারীর মেয়ে অপহৃত স্বপ্না পুরান বাউশিয়া মহিলা মাদরাসার অষ্টম শ্রেনীর ছাত্রী। এদিকে, অপহৃত মাদরাসা ছাত্রীর মা আমেনা শনিবার বেলা ১১ টার দিকে গজারিয়া থানায় অপহরনের অভিযোগে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এরপর পুলিশ মূল হোতা একই উপজেলার নতুনচাষী গ্রামের মৃত সাত্তার মিয়ার ছেলে জুয়েলের ২ বোন ও ভগ্নিপতিকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তবে জুয়েল পলাতক রয়েছে। 

অপহৃত মাদরাসা ছাত্রী স্বপ্নার বড় ভাই শফিউল বেপারী জানান, সন্ধ্যা মাগরিবের নামাজ আদায়ের জন্য তার বাবা পার্শ্ববর্তী মসজিদে ছিলেন। তারা তিন ভাই কেউই বাড়িতে ছিলেন না। শুধু মত্র তার মা আমেনা, ফুপু মনোয়ারা ও বোন স্বপ্না বাড়িতে ছিলেন। স্বপ্না অযু করতে ঘরের বাইরে বের হলে ট্রলারে করে ৫-৭ জনের একটি গ্রুপ তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় গামছা দিয়ে স্বপ্নার মুখ ও চোখ বেঁধে ফেলে টেনে হেচড়ে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে আসতে চাইলে তার মা ও ফুপু বাঁধা দেয়। এতে তার মা ও ফুপুকে মারধর করে। এক পর্যায়ে আগ্নেয়াস্ত্র থেকে ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে বোন স্বপ্নাকে জোরপূর্বক ট্রলারে তুলে নেয় গ্রুপটি। তার মা ও ফুপু চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসার আগেই ট্রলার চালিয়ে পালিয়ে যায় ৫-৭ জনের গ্রুপটি। তার মা ও ফুপু শুধুমাত্র জুয়েল নামে একজনকে চিনতে পারে। জুয়েল একই উপজেলার নতুনচাষী গ্রামের মৃত সাত্তার মিয়ার ছেলে।   

গজারিয়া থানার ওসি মো. ইকবাল হোসেন জানান, মাদরাসা ছাত্রীকে অপহরণ করার অভিযোগে তার মা একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। এরপর থেকে পুলিশ ছাত্রীকে উদ্ধারের প্রচেষ্টায় তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এ ঘটনায় কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত মামলা রুজু হয়নি। তবে শিগগিরই মাদরাসা ছাত্রীকে উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্ট থানার ওসি। 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত